সরকার
গঠনের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে চারজন নতুন মন্ত্রী এবং
দুইজন প্রতিমন্ত্রী পেল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার।
বিএনপির
স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের এমপি আবদুল মঈন খান, বান্দরবানের
সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, বাংলাদেশ জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান ও ভোলা-১
আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আর
বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী
হয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র
বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ
শামীম কায়সার লিংকন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠানের পরপরই নতুন
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ানো হয়। নতুন রাষ্ট্রপতিই তাদের শপথ পড়ান।
ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিপুল বিজয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেয়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার। সেদিন প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন
মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন।
প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে কায়সার
কামাল গত মার্চে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পান। আর ১ জুন পদত্যাগ করেন
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে যাওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর পদও শূন্য হয়েছে।
ফলে নতুনদের নিয়ে তারেক রহমানের সরকারের আকার দাঁড়াল ৫২ জনে।
এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন। তাদের পাঁচজন মন্ত্রী এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন।
নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে আবদুল মঈন খান এর আগে খালেদা জিয়া সরকারের সময়ে ২০০১ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৯
সালের ডিসেম্বরে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির
সদস্য হন। সবশেষ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি নরসিংদী-২ আসন থেকে বিএনপির
টিকেটে সংসদ সদস্য হন।
বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ বিএনপির
সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ভোট করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য
নির্বাচিত হন। এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি প্রথমবার এমপি হয়েছিলেন।
তার বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জু বিগত এরশাদ সরকারের সময়ে মন্ত্রী ছিলেন।
বান্দরবানের
সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। বিএনপির
বান্দরবান জেলা শাখার আহ্বায়কের দায়িত্বেও রয়েছেন। এর আগে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ
সংসদ নির্বাচনেও তিনি এমপি হয়েছিলেন। বান্দরবান সদর উপজেলা ও বান্দরবান
পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও সামলেছেন।
সাচিং প্রুর বাবা অং শৈ প্রু চৌধুরী ছিলেন ব্যোমাং সার্কেলের রাজা। তিনিও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
গাইবান্ধা-৪
(গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন ২০০৬ সালের
উপনির্বাচনেও সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। তার বাবা আবদুল মোত্তালিব আকন্দ একই
আসনের এমপি ছিলেন।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী
কমিটির কোষাধ্যক্ষ। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতিও তিনি।
আগে জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
২০০১ সালের
নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন তিনি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে
দ্বিতীয়বারের মত এমপি হওয়ার পর তাকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবার হলে পুরো
মন্ত্রী।
হুমায়ুন কবির প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়,
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও
পর্যটন মন্ত্রণালয় বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছিলেন।
২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক–বিষয়ক) হন।
