রোববার ১৬ আগস্ট ২০২৬
১ ভাদ্র ১৪৩৩
গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে ৪৯ কোটি ঘনফুট
প্রকাশ: রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:২০ এএম আপডেট: ১৬.০৮.২০২৬ ২:০৬ এএম |

  গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে ৪৯  কোটি ঘনফুট

ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ ২৬ শতাংশ বেড়েছে; যদিও সরবরাহ বাড়লেও চাহিদার তুলনায় ঘাটতি এখনও অনেক বেশি। পেট্রোবাংলার জনসংযোগ শাখার উপমহাব্যবস্থাপক তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, শনিবার বিকাল ৪টার হিসাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ছিল দৈনিক ২ হাজার ৪২৫ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশিয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১ হাজার ৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট। আমদানি করা এলএনজি গ্যাসে রূপান্তরের পর এসেছে ৮১০ মিলিয়ন বা ৮১ কোটি ঘনফুট।
এক দিন আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পেট্রোবাংলার দৈনিক প্রতিবেদনে গ্যাসপ্রাপ্তি ছিল ১ হাজার ৯৩১ দশমিক ২ মিলিয়ন ঘনফুট। সেই হিসাবে শনিবার বিকালের তথ্য অনুযায়ী সরবরাহ বেড়েছে ৪৯৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন বা ৪৯.৩ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার-শুক্রবার এলএনজি থেকে গ্যাস পাওয়া গিয়েছিল ৩০০ দশমিক ২ মিলিয়ন ঘনফুট। শনিবার বিকালে তা বেড়ে হয়েছে ৮১০ মিলিয়ন ঘনফুট। একই সময়ে দেশিয় গ্যাস উৎপাদন ১ হাজার ৬৩১ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে সামান্য কমে হয়েছে ১ হাজার ৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট।
অর্থাৎ এলএনজি সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় মোট গ্যাসপ্রাপ্তির পরিমাণ বেড়েছে।
শনিবার বিকাল ৪টার হিসাবে মহেশখালী এক্সিলারেট এলএনজি টার্মিনাল থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে ৫১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল।
৫ দিনে এলএনজি কমেছে ৬০ শতাংশ:
পেট্রোবাংলার পাঁচটি দৈনিক উৎপাদন ও বিতরণ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ৯ অগাস্ট সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ ছিল ৭৪৯ মিলিয়ন ঘনফুট। ১৩ অগাস্ট সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় তা নেমে দাঁড়ায় ৩০০ দশমিক ২ মিলিয়ন ঘনফুটে।
অর্থাৎ পাঁচ দিনে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে ৪৪৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট বা প্রায় ৬০ শতাংশ। এর ফলে মোট গ্যাস পাওয়ার পরিমাণও কমে যায়।
৯-১০ অগাস্ট দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৩৭৪ দশমিক ৯ মিলিয়ন ঘনফুট। ১৩-১৪ অগাস্ট তা কমে দাঁড়ায় ১৯৩১ দশমিক ২ মিলিয়ন ঘনফুটে। অর্থাৎ মোট গ্যাসপ্রা্িত কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ।
পাঁচ দিনে দেশিয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদনের চিত্র খুব বেশি বদলায়নি। দেশিয় উৎপাদন দৈনিক ১ হাজার ৬২৬ থেকে ১ হাজার ৬৪২ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে ছিল। ফলে এলএনজি কমার ঘাটতি দেশিয় উৎস থেকে পূরণ করা যায়নি।
বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ বেড়েছে:
মোট গ্যাস সরবরাহ কমলেও গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ বাড়ানোর তথ্য রয়েছে। ৯-১০ অগাস্টে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পেয়েছিল দৈনিক ৬৯৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। ১৩-১৪ অগাস্টে তা বেড়ে হয় ৯৫৩ দশমিক ১ মিলিয়ন ঘনফুট। পাঁচ দিনের ব্যবধানে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বাড়ে প্রায় ৩৭ শতাংশ।
সরবরাহ বাড়ানো হলেও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর চাহিদা মেটেনি। পেট্রোবাংলার প্রতিবেদনে এ খাতের দৈনিক চাহিদা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫২৪ দশমিক ৯ মিলিয়ন ঘনফুট। ১৩-১৪ অগাস্টের হিসাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পেয়েছে চাহিদার ৩৮ শতাংশেরও কম।
সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ ১২৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪০ দশমিক ৯ মিলিয়ন ঘনফুট। দৈনিক ৩২৯ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে শেষ দিনের সরবরাহ ছিল প্রায় ৪৩ শতাংশ।
বিদ্যুৎ ও সার কারখানার বাইরে থাকা ‘অন্যান্য’ খাতে সবচেয়ে বেশি গ্যাস সরবরাহ কমেছে। ৯-১০ অগাস্টে এ খাতে সরবরাহ ছিল ১ হাজার ৫২০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট। ১৩-১৪ অগাস্টে তা নেমে আসে ৮৫৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুটে। অর্থাৎ পাঁচ দিনে এ খাতে গ্যাস সরবরাহ কমেছে ৬৬৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন ঘনফুট, বা প্রায় ৪৪ শতাংশ।
পেট্রোবাংলার প্রতিবেদনে ‘অন্যান্য’ খাতের আলাদা হিসাব নেই। ফলে শিল্প, আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সিএনজি খাতের মধ্যে কোনটিতে কী পরিমাণ গ্যাস কমেছে, তা ওই তথ্য নেই।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি এক্সিলারেট এনার্জির, আরেকটি সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানির। তাদের দৈনিক ‘রিগ্যাসিফিকেশন’ সক্ষমতা যথাক্রমে ৬০০ ও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে দুই টার্মিনাল মিলিয়ে ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।
গত ২১ জুলাই এমএলএনজি (এক্সিলারেট) টার্মিনালে আগুন লাগার কথা বলা হয়। ওই দুর্ঘটনার কারণে দুই সপ্তাহের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর টার্মিনালটির একটি ইউনিট আংশিক চালু হয়। তবে সেটি এখনও পুরো সক্ষমতায় ফেরেনি।
সামিটের টার্মিনালও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত দুই দিনে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হয়। তাতে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন ও বাসাবাড়ির গ্যাস সরবরাহে চাপ পড়ে।
বাংলাদেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। দেশিয় গ্যাস ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে স্বাভাবিক সময়েও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ থাকে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মধ্যে কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির এলএনজি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে। ঘাটতি মেটাতে সরকারকে স্পট বাজার ও সরাসরি কেনার দিকে যেতে হচ্ছে।














http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২