সেপ্টেম্বরে
এশিয়ান গেমসের জন্য হকি ফেডারেশন বিদেশি কোচিং স্টাফ এনেছে। কোচিং স্টাফ
রদবদলের পাশাপাশি সাবেক দুই অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি ও পুষ্কর ক্ষিসা
মিমোকেও ফিরিয়েছে দলে। খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা রদবদল করলেও তারা এশিয়ান
গেমসে অংশ নিতে পারবেন কি না এ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
৩০ জুন ছিল এশিয়ান
গেমসে খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তাদের নাম চূড়ান্ত করার শেষ দিন। এশিয়ান গেমসে
অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডই ভিসা। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বাংলাদেশে গেমসের সকল
কার্ড পাঠাবে আয়োজক দেশ জাপান। এই মুহূর্তে নতুন করে কার্ড করা খুবই
দুরূহ।
জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে ২৭ ফেডারেশনের কমিটি বদল হয়েছে। কমিটি
বদল হওয়ার পর এশিয়ান গেমসে কর্মকর্তা নিয়ে সংকট তৈরি হয়। কারণ এশিয়ান
গেমসে ম্যানেজার হিসেবে ছিলেন আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও অন্য
কর্মকর্তারা। তাই কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, ব্যাডমিন্টন, শুটিং,
ভারোত্তোলনসহ ১১ ফেডারেশনের কোচ, খেলোয়াড়, কর্মকর্তা মিলিয়ে মোট ৪০ জনের
পরিবর্তনের আবেদন করেছে।
অন্য ফেডারেশনের আবেদন ইতোমধ্যে আয়োজকদের কাছে
পাঠিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের শেফ দ্য
মিশন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মেজর ইমরোজ আহমেদ (অব) বলেন,
'ফেডারেশনের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত অনুরোধ আমরা গেমস কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়েছি।
এটা তারা বিবেচনা করবে কি না তাদের বিষয়। নির্ধারিত ডেডলাইন তো শেষ-ই, গেমস
শুরু হতে আর এক মাসও নেই।'
বাংলাদেশের সেরা নারী শুটার কামরুন নাহার
কলি বিগত কমিটির রোষানলে ছিলেন। তাই তার নাম এশিয়ান গেমসে ছিল না। শুটিং
ছাড়া বাকি ফেডারেশনগুলোর নাম পরিবর্তনের অনুরোধ মূলত কোচ-কর্মকর্তার। অন্য
সকল ফেডারেশন কমিটি রদবদল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অলিম্পিকে অনুরোধ করেছে। আর
হকি ফেডারেশন এই সংক্রান্ত চিঠিই দিয়েছে গতকাল।
হকি ফেডারেশনের যুগ্ম
সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্স বলেন, 'গত পরশু আমাদের নির্বাহী কমিটির সভা
হয়েছে। সভার পর আমরা খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা মিলিয়ে ৬ জনের নতুন
অন্তর্ভুক্তি চেয়ে চিঠি দিয়েছি।' বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের মহাপরিচালক
বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শেফাউল কবির (অব) আজ হকি ফেডারেশনের চিঠি পাওয়ার
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন থেকে ইতোমধ্যে
আয়োজকদের এক দফা অনুরোধ করেছে। এরপর আবার হকির জন্য অনুরোধ করা এবং সেটা
কার্যকর হওয়া বেশ কঠিনই। গেমসের শেফ দ্য মিশন ইমরোজ বলেন, 'গেমসে
রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া দেড় বছর আগে থেকে শুরু হয়। প্রথমে লং লিস্ট হয়।
সেখানে প্রতি ডিসিপ্লিনে দুই বা তিনগুণও খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তার নাম দেয়া
যায়৷ শর্ট লিস্টের সময় খেলোয়াড় ইনজুরি বা পরিবর্তন করতে হলে লং লিস্ট থেকে
করা যায়। লং লিস্টে নাম নেই এবং ডেডলাইন পার হওয়ার এক মাস পর নতুন করে
অন্তর্ভুক্ত অনেক দুরূহ।'
২০২৩ সালে হাংজু এশিয়ান গেমসে নারী ফুটবল দলের
কোচ সাইফুল বারী টিটু এই সমস্যায় পড়েছিলেন। বাংলাদেশ থেকে মাত্র এ রকম
একটি ঘটনা হওয়ায় বিশেষ ব্যবস্থায় বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন অলিম্পিক
কাউন্সিল অফ এশিয়াকে অনুরোধ করেছিল। বিওএ সেই অনুরোধ গ্রাহ্য হয়েছিল। এবার
প্রায় অর্ধশতাধিক অনুরোধ হওয়ায় কয়টা গ্রাহ্য হয় সেটাই প্রশ্ন। অন্য
ডিসিপ্লিনে কর্মকর্তা বদল না হলেও তেমন সমস্যা নেই তবে হকিতে গুরুত্বপূর্ণ
খেলোয়াড়, বিদেশি কোচের কার্ড না হলে জার্মানি সফর, গেমসের ম্যাচ পরিকল্পনা
সব কিছু ভেস্তে যাবার উপক্রম হবে।
বাংলাদেশ ১৯৭৮ সাল থেকে এশিয়ান গেমসে
অংশগ্রহণ করে। অভিষেক আসরেই এই রকম কার্ড জটিলতায় পড়েছিল। আবাহনীর মনোয়ার
হোসেন নান্নুকে প্রথমে অধিনায়ক ঘোষণা করা হয়েছিল বাংলাদেশের এশিয়াডের।
পরবর্তীতে নান্নুর পরিবর্তে মোহামেডানের সান্টুকে অধিনায়ক করা হলে আবাহনীর
সাত ফুটবলার ( চুন্নুু, সালাহউদ্দিন, হেলাল, রকিব, নান্নুসহ আরো ২ জন)
জাতীয় দল বয়কট করে। ফেডারেশন তাদের পরিবর্তে অন্য ৭ জন ফুটবলার নিয়ে
থাইল্যান্ড যায়। সালাউদ্দিনদের কার্ড আগেই হওয়ায় নতুন ৭ জন আর খেলতে
পারেননি।
