সোমবার ২৭ জুলাই ২০২৬
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
উচ্চ মূল্যস্ফীতিই অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ
ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১:১৬ এএম আপডেট: ২৬.০৭.২০২৬ ১:২৯ এএম |



উচ্চ মূল্যস্ফীতিই অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ
অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা। এর জন্য দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করা। অনেকেই আমদানি কমানোর কথা বলতে পারে। কিন্তু আমাদের মতো দেশে আমদানি কমালে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কারণ, আমদানি করা পণ্যের বড় অংশই শিল্পের কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী উপকরণ। ফলে উৎপাদন ও সরবরাহ-উভয় ক্ষেত্রেই সমস্যা সৃষ্টি হবে। কাজেই রপ্তানি আয় কীভাবে বাড়ানো যায়, সে জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। ইতোমধ্যে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সেও কিছুটা ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। এ ধারাটা অবশ্যই যেন বজায় থাকে সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সবকিছু মিলিয়ে গুরুত্বের ভিত্তিতে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা যায়।
বর্তমান সময়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি একটি কঠিন ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। বেশ কয়েক বছর ধরে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। করোনা-পরবর্তী সময়ে বিশ্ব অর্থনীতি স্থিতিশীল হওয়ার আগেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়। ফলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব আমেরিকা পলিসি রেট বৃদ্ধি করাসহ নানা ধরনের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকও বেশ কয়েকবার মুদ্রানীতি পরিবর্তন করেছে। যদিও বাংলাদেশের মতো অর্থনীতিতে শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এজন্য আমাদের মুদ্রানীতিও রাজস্ব নীতির সমন্বয় সাধন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, মূল্য বৃদ্ধি করে পণ্যের চাহিদা হয়তো কমানো যাবে। কিন্তু পণ্যের জোগান যদি একই সঙ্গে বৃদ্ধি না পায়, তাহলে মূল্যস্ফীতি কখনো কমবে না। ব্যাংক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পেলে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ কমে যায়। বিনিয়োগ কমে গেলে উৎপাদন কমে যাবে। আর উৎপাদন কমে গেলে কর্মসংস্থানের পর্যাপ্ত সুযোগ সৃষ্টি হবে না। সবার জন্য উপযুক্ততা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা না গেলে দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রম কোনোভাবেই কাজে আসবে না। কাজেই মূল্যস্ফীতির অভিঘাত রক্ষার পাশাপাশি আমাদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের রপ্তানি বাড়াতে হবে। এসব নানা ধরনের অভিঘাত মোকাবিলায় আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সুশাসনের দিকে আরও অনেক বেশি নজর দিতে হবে।
মূল্যস্ফীতি বাড়লে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষগুলো খুবই অসুবিধার মধ্যে রয়েছে। মূল্যস্ফীতির হার যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, মজুরি বৃদ্ধির হার সেভাবে বাড়ছে না। মূল্যস্ফীতি আর মজুরি বৃদ্ধির এই পার্থক্যের কারণে সাধারণ মানুষ সংসারের ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে হিমশিম খাচ্ছে। অনেক পরিবার তাদের খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। কেউবা তুলনামূলক কম পুষ্টিসম্পন্ন খাবার গ্রহণ করছে। অধিকাংশ দরিদ্র মানুষই এখন উচ্চ মূল্যস্ফীতির কশাঘাতে জর্জরিত হয়ে পড়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ প্রচণ্ড চাপের মধ্যে আছে। উচ্চ-মধ্যবিত্ত মানুষ হয়তো তাদের সঞ্চয় ভেঙে জীবনযাত্রার মানটা রক্ষা করতে পারে। কিন্তু প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তো কোনো সঞ্চয় নেই। আমরা দেখছি, এই মানুষগুলোর জীবনমান ক্রমশই নিম্নমুখী হয়ে পড়ছে। এখানে আমাদের করতে হবে, তা হলো সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় যেসব প্রকল্প আছে, তা যেন সুষ্ঠুভাবে কার্যকর করা যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ভিডিপি, ভিডিএফ, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা-এদের অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম অভিযোগ আছে। প্রকৃতপক্ষে যারা পাওয়ার যোগ্য তারা পায় না। যারা পাওয়ার যোগ্য নয়, তারা পায়। অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি কারচুপি হয়। এমনও দেখা যায় যে, খাদ্যসহায়তার কাজ কোনো কোনো মেম্বারের বাড়িতে হয়। সেখানে গুদামে রক্ষিত মালামাল অনেক সময় ধরাও পড়ে। এ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে হবে। যারা এ ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত তাদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। দিনের পর দিন সাধারণ মানুষের জীবনমানের ওপর যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে আরও বিস্তৃত আকারে জনবান্ধব কর্মসূচি বা পদক্ষেপ নিতে হবে।
বর্তমানে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি হ্রাসের প্রবণতা প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। তবে চলতি অর্থবছরের সব পণ্যের আমদানি হ্রাস পাওয়াটা অর্থনীতির জন্য শুভ সংবাদ নয়। অপ্রয়োজনীয় বিলাসজাত পণ্যের আমদানি কমলে সেটা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। তা ছাড়া সার্বিকভাবে দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি মোটেও সন্তোষজনক নয়। আমরা জানি, বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত উপযোগী একটি দেশ। এখানে রয়েছে ১৭ কোটি ভোক্তার এক বিশাল বাজার। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সময় নানা ধরনের প্রতিবন্ধতার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। অধিকাংশ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান থেকে বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন এবং সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার সম্মুখীন হতে হয়। ফলে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পগুলো বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যেতে পারে না বলে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে উৎপাদিত পণ্য অনেক সময়ই উপযোগিতা হারায়। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো না গেলে কাক্সিক্ষত মাত্রায় উন্নয়ন অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। আমি উল্লেখ করেছিলাম যে, মূল্যস্ফীতি অর্থাৎ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলছে। পণ্যের আমদানি শুল্কে ছাড় দিয়েও সেসব পণ্যের দাম কমছে না। এখানে প্রথম কথা হচ্ছে-পণ্যের দাম নির্ভর করে চাহিদার সরবরাহের ওপর। আমাদের চাহিদাও অনেকটা কমে গেছে মনে হচ্ছে। কেননা, ব্যাংকে ঋণের সুদহার বেড়েছে, সরবরাহ বাড়েনি। তা ছাড়া পণ্য সরবরাহে সমস্যা আছে। আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের পরও দাম কমছে না, বরং বাড়ছেই। এটি আমার অতীত অভিজ্ঞতায় দেখেছি। আমি একবার ভোজ্যতেলের ওপর আমদানি শুল্ক কমিয়ে দিলাম। দেখা গেল পরের দিন দাম বেড়ে গেছে। তখন এদের যে অ্যাসোসিয়েশন আছে, তাদের ডেকে বললাম, আপনারা যা করছেন তা ঠিক হচ্ছে না। আপনারা নিজেরাই আমদানি শুল্ক সমন্বয় করে দাম যেটা ন্যায্য হওয়া উচিত। সেই দামে আনুন। তা না হলে আমি অন্য ব্যবস্থা নেব। আপনাদের ব্যাংকঋণ দেওয়া বন্ধ করে দেব। অতীতে যে ঋণ আছে সেগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব। এসব বলার পর দাম কিছুটা কমেছিল। বর্তমানে নীতিনির্ধারক যারা আছেন তাদের এ ব্যাপারে অধিকমাত্রায় তৎপর হতে হবে।
এখনো সিন্ডিকেট আছে এবং তা ব্যাপকভাবেই আছে। এ মন্তব্য নিঃসন্দেহে গ্রহণযোগ্য। মাঝে মাঝে আমরা দেখি অপারেশন হয়। সেই অপারেশনে কয়জনকে ধরা হয়, কয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, সেটা নিয়ে আলোচনার বিষয় থাকতে পারে। মোটামুটিভাবে সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য আমি মনে করি, বর্তমানে যে আইন আছে ‘প্রটেকশন অব কনজ্যুমার লাইফ’-সে আইনের যথাযোগ্য বাস্তবায়ন জরুরি। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে এর মাত্রা বাড়ানো যেতে পারে। সাধারণ প্রান্তিক মানুষের জীবনযাপনের মান ফিরিয়ে আনতে এই শ্রেণির দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। এদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। অর্থনৈতিক কার্যক্রম সফল করতে হলে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে খুবই নাজুক অবস্থায় আছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চালাতে হবে। পণ্য পরিবহনকালে চাঁদাবাজি এখনো চলছে আগের মতোই। মার্কেটে মার্কেটে চাঁদাবাজি হচ্ছে। হয়তো চাঁদাবাজের বদল হয়েছে। কিন্তু চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না। মূল্যস্ফীতির জন্য রাস্তায় রাস্তায় পণ্য চলাচলকালে চাঁদাবাজি অনেকাংশে দায়ী। বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেটের কারসাজি বন্ধে সরকারি বেসরকারি উভয়ক্ষেত্রেই কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে।
কোনো দেশে যদি অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগকারীরা পর্যাপ্ত পরিমাণে বিনিয়োগ না করেন, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সাধারণত সে দেশে বিনিয়োগের জন্য আগ্রহী হন না। স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা যদি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মনে করেন দেশটিতে বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ আছে। তখন তারা বিনিয়োগের জন্য উৎসাহী হন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আমরা দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ এখনো উন্নত এবং বিনিয়োগবান্ধব করতে পারিনি। বিনিয়োগ বৃদ্ধি করাটা বর্তমান সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। যদিও এই চ্যালেঞ্জ তাৎক্ষণিকভাবে সৃষ্টি হয়নি। আগে থেকেই অর্থনীতিতে এগুলো বিদ্যমান ছিল এবং এখনো আছে। রাষ্ট্রীয় খাতে যে বিনিয়োগ হয়, তা মূলত অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন করে। আর ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ উৎপাদন বৃদ্ধি করে। তাই ব্যক্তি খাতের ওপর বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য জোর দিতে হবে। বিগত সরকারের সময় উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজমান ছিল। ফলে বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও ‘ধীরে চলো’ নীতি অনুসরণ করছিলেন। আর কোনো দেশের উদ্যোক্তারা যদি নিজ দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিনিয়োগ না করেন, তাহলে সেই দেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে আসে না। অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ জিডিপির ২২-২৩ শতাংশে আটকে আছে। অথচ বাংলাদেশ যেভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জন করতে চাচ্ছে, তাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আহরণ ছাড়া কোনো উপায় নেই বলে মনে হয়। 
লেখক: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২