বুধবার ১০ জুন ২০২৬
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কাজী নজরুল ইসলামের
‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের শতবর্ষ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
শান্তিরঞ্জন ভৌমিক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৩, ১২:১২ এএম |

‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের শতবর্ষ
অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থটি
প্রথম প্রকাশ: ১৩২৯ বঙ্গাব্দ
(১৯৯২) কার্তিক মাস।
লেখা আছে-
* ৭নং প্রতাপ চাটুর্য্যরে লেন থেকে গ্রন্থকার কর্তৃক গ্রন্থটি মুদ্রিত ও প্রকাশিত
* গ্রন্থের আরও লেখা আছে প্রাপ্তিস্থান আর্য পাবলিশিং হাউস, কলেজ স্ট্রীট মার্কেট (দোতলায়)
* দাম এক টাকা
* গ্রন্থটিকে উৎসর্গ করা হয়েছে- ‘বাংলার অগ্নিযুগের আদি পুরোহিত সাগ্নিক বীর শ্রীবারীন্দ্র কুমার ঘোষ শ্রী শ্রীচরণার বিন্দেষু।
* সাগ্নিক অর্থ- বৈদিক নিয়মে প্রত্যক হোমকারী, অগ্নিহোত্রী। অর্থাৎ যজ্ঞকারী।
* নীচে লেখা আছে- তোমার অগ্নি-পূজারী ¯েœহ মহিমান্বিত শিষ্য-কাজী নজরুল ইসলাম।
* উৎসর্গ পত্রের দু’লাইন: অগ্নি-ঋষি। অগ্নি-বীণা তোমায় শুধু সাজে।
তাইত তোমার বহ্নি রাগেও বেদন-বেহাগ বাজে।
আশ্চর্যের বিষয়- তখনও তাদের মধ্যে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ হয়নি।
* বারীন্দ্রকুমারের প্রাথমিক পরিচয়:
তিনি ঋষি অরবিন্দ ঘোষের ভাই। ভারতের বিপ্লববাদী আন্দোলনের অন্যতম নায়ক।
বিপ্লবে বিশ্বাসী নজরুল নিজেকে বারীন্দ্রকুমারের ¯েœহ মহিমান্বিত শিষ্য বলে উল্লেখ করে তাঁকেই প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ উৎসর্গ করেছেন।
* উল্লেখ্য, উৎসর্গ গানটি ‘অগ্নি-ঋষি’ নামে ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) শ্রাবণ মাসের উপাসনায় আত্মপ্রকাশ করেছিল।
* অগ্নিবীণার প্রচ্ছদপটের পরিকল্পনাটি চিত্রকর স¤্রাট অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এবং এঁকেছেন তরুণ চিত্রশিল্পী শ্রীধীরেশ্বর সেন।
নামকরণের বিষয়ে উল্লেখ আছে-
*‘অগ্নিবীণা’ নামটি সম্ভবত রবীন্দ্রনাথের ‘গীতালি’র ৫৫নং কবিতাটি থেকে নেয়া হয়েছে। কবিতায় আছে-
‘অগ্নিবীণা বাজাও তুমি
কেমন করে।
আকাশ কাঁপে তারার আলোর
গানের ঘোরে।’
* অগ্নিবীণা কাব্যে বারোটি কবিতা আছে।-প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, রক্তস্বর-ধারিনী মা, আগমনী, ধূমকেতু, কামালপাশা, আনোয়ার পাশা, রণভেরী, শত-ইল-আরব, খেয়াপারের তরণী, কোরবানী ও মোহররম।
এছাড়া উৎসর্গটিও কবিতায় লেখা
* প্রলয়োল্লাস কবিতাটি গ্রন্থের প্রথম কবিতা। কবিতাটি কুমিল্লায় অবস্থানকালীন লিখিত।
* দ্বিতীয় কবিতাটি ‘বিদ্রোহী’। বিখ্যাত কবিতা। একটি কবিতা প্রকাশের পর কাজী নজরুল ইসলাম ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করেন এবং সারস্বত সমাজে কবি হিসেবে নন্দিত হন। নজরুল ১৯২১-এ নভেম্বর কুমিল্লায় দ্বিতীয়বার এলেন জাগরণী গান...
* বিদ্রোহী কবিতাটি ১৯২১ খ্রি: ডিসেম্বর মাসের শেষ দিন রাত্রে কলকাতায় লিখেন। উল্লেখ্য, কবি এই ডিসেম্বর শেষে কুমিল্লা থেকে কলকাতা গিয়েই কবিতাটি লিখেছেন। এজন্য অনেকেই মনে করেন- এই কবিতাটির অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের সঙ্গে কুমিল্লার নানা ঘটনাপ্রবাহ ওতোপ্রোতভাবে জড়িত।
* ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার প্রথমেই লেখা আছে-
‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর,
 তোরা সব জয়ধ্বনি কর,
ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখীর ঝড়।’
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় লিখলেন-
বলবীর
বল উন্নত মম শির
শির নেহারি ওই শিখর হিমাদ্রির
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন রোল
আকাশে বাতাসে ধ্বনিরে নয়,
অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম
রণভূমি রনিবেনা
বিদ্রোহী রণক্লান্ত
আমি সেইদিন হব শান্ত।।
* বিস্তৃতভাবে বলার অবকাশ নেই, এতটুকু বলা যায়- অগ্নিবীণার কোনো কোনো কবিতায় ব্রিটিশ সরকার দেশদ্রোহীতার গন্ধ অনুসন্ধান করে কাব্যগ্রন্থটিকে বাজায়েপ্ত করতে চেয়েছিলেন। এ বিষয়ে এখন প্রচুর গোয়ান্দা রিপোর্টির কাগজ পাওয়া গেছে। অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।
কবি মন্তব্য:
‘আজ নিখিল বন্দী গ্রহে গৃহে ঐ মাতৃ-মুক্তিকামী তরুণেরই অতৃপ্ত কাঁদন ফরিয়াদ করিয়া ফিরিতেছে। যেদিন এ ক্রন্দন থামিবে সে কোন অচিন দেশে থাকিয়া গভীর তৃপ্তির হাসি হাসিব, জানিনা। তখন হয়ত হারা মা আমার আমায় ‘তারার পানে চেয়ে চেয়ে’ ডাকিবেন। আমিও হয়ত আসি,....
বলেছেন-‘আমার চোখ জলে ভরিয়া উঠিতেছে, আর কেন যেন মনে হইতেছে, ‘আসিবে সেদিন আসিবে।’
কবি জাতির মুক্তিকামনাকে নিখিলের পটভূমিকায় উপলব্ধি করে শান্তি ও মুক্তির দিন অবশ্যই আসবে, এই বিশ্বাসের কথা উচ্চারণ করেছেন। কাজী নজরুল ইসলামের এই মুক্তিকামী পরবর্তী সাগ্নিক পুরুষটি কি আবির্ভূত হয়েছিলেন ?
অবশ্যই আবির্ভূত হয়েছিলেন- তিনি হলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালি জাতির মুক্তিদাতা, বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কীভাবে ?
* এই ইতিহাস দীর্ঘ ও গবেষণা প্রসূত।
* কবি জানতেন একজন মুক্তিকামী নেতার জন্ম হবে। আর নেতা জানতেন তাঁর আত্মগত জীবন পরিক্রমায় একজন কবি পথ দেখিয়ে গেছেন। তাই তো ১৯৭২ খ্রি: ২৪ মে দু’জনের সাক্ষাৎ হলো এক মহেন্দ্রক্ষণে।
* সে অনেক কথা, অনেক পূর্বাপর ইতিহাস।
* অগ্নিবীণার প্রত্যেকটি কবিতাই বীরত্বব্যঞ্জক মরণোম্মুখ জাতির প্রাণে নব উদ্দীপনার সঞ্চার করেছেন।
তাই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো পড়তে পড়তে মনে হয়- প্রতিটি কবিতায় রয়েছে বঙ্গবন্ধুর চেতনায় শানিতরূপের প্রতিভাস। এ এক অভিনব সংযোগ, অভিনব সম্মিলন।
‘আজ রণরঙ্গিনী জগৎমাতার দেখ
মহীরণ,
দশদিকে তাঁর দশহাতে বাজে
দশ প্রহরণ।
পদতলে লুটে মহিষাসুর,
মহামাতা ঐ সিংহ-বাহিনী জানায়
আজিকে বিশ্ববাসীকে-
শাশ্বত নহে দানব শক্তি
পায়ে পিশে যায় শির,
পশুর।।’
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা ১৩২৯ (১৯২২) মাঘ সংখ্যায় লিখেছে- ‘হিন্দু ও মুসলমান শাস্ত্রসিন্ধুমন্থন করিয়া কবি যে সব অনুপম উপমা সংযোজন করিয়াছেন তাহাতে মুগ্ধ হইতে হয়।’
*অগ্নিবীনার কবিতা জাতির মর্মমূলে আস্থাভাজন হয়ে অনুরণিত হয়েছে।
*অগ্নিবীণা অসাম্প্রদায়িক চেতনায় জাতিকে পথ দেখিয়েছে।
* অগ্নিবীণা স্বাধীনতার মূল মন্ত্রে দীক্ষিত করেছে।
* অগ্নিবীণা সর্বকালের মানবিক মূল্যবোধকে জাগরিত করেছে।
* অগ্নিবীণায় যে শাণিতরূপ আদর্শিক চৈতন্যে উদ্বুদ্ধ করেছে, তারই পরিণতি হিসেবে দেখতে পাই যোগ্য নেতার নেতৃত্ব, আত্মপ্রত্যয়ী জীবনবাজী রাখার সর্বকালের মাথা উঁচু করা মহানায়ক।
সুতরাং অগ্নিবীণা কোনোকালের নির্ধারিত রক্ষা কবচ নয়-সর্বকালীন বাঙালি জাতির সংরক্ষিত সংবিধান।
*জয় হোক কবির অগ্নিবীণা
জয় হক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সাধনার বাংলাদেশের
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।।

 












সর্বশেষ সংবাদ
নতুন বইয়ের বর্ণিল নতুন বছর
নৌকায় ভোট নিতে ভাতার কার্ড আটকে রাখার অভিযোগ
শান্তির নোবেলজয়ী থেকে দণ্ডিত আসামি
শ্রমিক ঠকানোর দায়ে নোবেলজয়ী ইউনূসের ৬ মাসের সাজা
ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ, কুমিল্লা অধ্যক্ষ পদে অধ্যাপক ডাঃ রুহিনী কুমার দাস এর দায়িত্ব গ্রহণ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধু নিহত
বরুড়ায় শ্রমিকদল নেতাকে ছুরিকাঘাত
অর্ধেক দামে ফ্রিজ বিক্রি করছেন ফ্রিজ প্রতীকের প্রার্থী
বাড়ির জন্য কেনা জমিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যাওয়া একই পরিবারের ৪ জনের কবর
৫৫ কেজি সোনা চুরি, ফের রিমান্ডে দুই রাজস্ব কর্মকর্তা
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২