শনিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৬
৫ বৈশাখ ১৪৩৩
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকা
শান্তিরঞ্জন ভৌমিক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০২৩, ১২:০১ এএম |

  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকা





১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর বঙ্গবন্ধু জেল থেকে মুক্তিলাভ করেন। ওই বছর অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে চিকিৎসার জন্য লণ্ডন যান। ঠিক যে সময়ে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন বঙ্গবন্ধু। লণ্ডনে মিসেস গান্ধীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয় হামস্টেড হিথের একটা বাড়িতে। সেখানে ছিলেন আই সিং নামে একজন পাঞ্জাবী ভদ্রলোক। আই সিং ছিলেন লণ্ডনে ভারতীয় দূতাবাসের কাউন্সিলার। তিনি আসলে ছিলেন লণ্ডনে ‘র’-এর প্রধান। বঙ্গবন্ধু ও ইন্দিরা গান্ধীর বৈঠকের ব্যবস্থা করেছিলেন আই সিং নিজের বাড়িতেই।
    সেই বৈঠকে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন যে আমরা জানি, নির্বাচনে আমরা বিরাট সংখ্যা গরিষ্ঠতায় জিতব। কিন্তু ওরা আমাদের ক্ষমতা দেবে না। ঠিক ১৯৫৪ সালের মতো হবে। আবার কেন্দ্রীয় শাসন জারি করবে। ধরপাকড় করবে। বঙ্গবন্ধু আরো বললেন-
‘কিন্তু এবার আমি তা হতে দেব না। আমার কিছু ছেলেকে তোমাদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিতে হবে। আর একটা বেতারযন্ত্র দিতে হবে, যেখানে থেকে তারা যাতে প্রচার করতে পারে যে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।’
ইন্দিরা গান্ধী সহানুভূতির সঙ্গেই বঙ্গবন্ধুকে আশ্বাস দেন যে ‘আমরা যথাসাধ্য সাহায্য করব। ঘটনা ঘটুক, দেখা যাক।’
    এখানে  (র) প্রতিষ্ঠার বিষয়টি উল্লেখ করার প্রয়োজন মনে করি। ইন্দিরা গান্ধীর কৌশলগত দূরদর্শিতা হলো জঅড (র) প্রতিষ্ঠার। ১৯৬৯ সালে তিনি বুঝে নেন ভারত ও পাকিস্তানের শক্রতা কোনো এক চূড়ান্ত মুহূর্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি ১৯৬৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর গঠন করেন ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট এর জবংবধৎপয ধহফ অহধষুংরং রিহম সংক্ষেপে জঅড। দায়িত্ব দিলেন ইন্টেলিজেন্ট গোষ্ঠির সেরা দুই ব্যক্তিকে-রামনাথ কাও ও শাংকারান নাইরকে। এছাড়া কূটনৈতিক দক্ষতার প্রাজ্ঞজনদের তিনি উপদেষ্টা করলেন। তাঁরা হলেন দুর্গাপ্রসাদ ধর (উ.চ. উযধৎ), পি,এন হাকসার, বিদেশ সেক্রেটারি টিক্কি কাউল, সেনাপ্রধান জেনারেল স্যাম মানিকশ। বঙ্গবন্ধু ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে যোগাযোগের আগে ১৯৬২ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর সঙ্গেও যোগাযোগ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সাহায্য বা সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
    শশাঙ্ক এস ব্যানার্জি ভারতীয় কূটনৈতিক চাকুরি সূত্রে ষাটের দশকে পাঁচ বছর পূর্বপাকিস্তানে অবস্থান করেছিলেন। ১৯৬২ সালের ২৫ ডিসেম্বর ইত্তেফাক সম্পাদক মানিক মিঞা তাঁকে একটি ছেলের মাধ্যমে গোপনে ডেকে নেন। সেখানে আগেই শেখ মুজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই তাঁদের প্রথম দেখা। শশাঙ্কবাবু লিখেছেন-
‘আমাকে বলতেই হবে এতটা কাছ থেকে তাঁকে দেখার পর তিনি প্রায় সাথে সাথেই তাঁর উপস্থিতি দিয়ে আমাকে মুগ্ধ করেছিলেন।’
পরে উল্লেখ করেছেন-
    ‘প্রথম দর্শনেই ভালোবাসার মতো হয়েছিলো।’
এই সাক্ষাতের সারবস্তু হলো-শশাঙ্ক ব্যানার্জির মাধ্যমে একটি অতি গোপনীয় চিঠি কূটনৈতিক ব্যাগে পুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে হবে। চিঠিটি ব্যক্তিগতভাবে ভারতের পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর নামে লেখা। চিঠিতে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম শুরুর কথা লেখা ছিল। অনুরোধ ছিল, বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে ভারতের আত্মিক, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, মাঠ পর্যায়ে সব ধরনের নিঃশর্ত সমর্থন লাভের আশা করেন। চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর নিকট পৌঁছেছিল এবং শেখ মুজিবকে জানিয়ে দেয়া হয়-
‘মুজিবের জন্য একটি মাত্র চ্যানেল ব্যবহার করে কাজ করাটা ভালো হবে আর তা হলো ঢাকাস্থ ভারতীয় মিশন, আগরতলা নয়।’
কারণ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে উত্তর পেতে দেরি হচ্ছে বিবেচনায় শেখ মুজিব গোপনে আগরতলা গিয়ে ত্রিপুরার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্রলাল সিংহের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।
    চিঠিতে নেহেরু উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ঠিক ঐ সময়ে স্বাধীনতা ঘোষণার জন্য অনুকূল নয়। সে সময়ে প্রত্যক্ষভাবে বাংলাদেশকে সাহায্য করাও ভারতের পক্ষে নয়। কাজেই মুজিব যদি কার্যকরিভাবে ভারতের সাহায্যের জন্য অপেক্ষা প্রত্যাশা করেন তবে তাঁকে সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এজন্য দীর্ঘ মেয়াদী কৌশলগত সমর্থন দেবার সিদ্ধান্ত ভারতের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবকে জানিয়ে দেয়া হয়।
    নেহেরু বুঝতে পেরেছিলেন যে শেখ মুজিবুর রহমান একজন জাদুকরী গণনেতা। তাঁর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের পাশাপাশি ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শও আছে। শেখ মুজিবকে পরামর্শ দেয়া হয়-
১.    তিনি যখন গণতন্ত্রের কথা বলছেন তখন তার কয়েক বছর গণমানুষের মধ্যে গণতন্ত্রের ধারণা সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
২.    মুক্তির পথে অসংখ্য চড়াইউৎরাই থাকবে। সে সব বাধা অতিক্রম করে রাজনৈতিক পদক্ষেপের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে পারলেই নিজেকে মুক্তির যোদ্ধা হিসেবে প্রমাণ করতে পারবেন।
৩.    সমাবেশে যদি লক্ষ লক্ষ মানুষ জমায়েত হয়ে তাঁর কথা শুনতে আসে তখনই বিশ্ব তাঁকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সত্যিকারের জননেতা বলে মেনে নিবে।
৪.    তাঁর বাক্য বিন্যাসের ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিজ দলের আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতির জনপ্রিয়তা নিশ্চিত করতে হবে।
৫.    বিপুল সংখ্যক গণসমর্থন তৈরি হবার পর ভারত পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত সমর্থন দেবার জন্য তৈরি থাকবে। এ ক্ষেত্রে বিপ্লবের ক্ষেত্র তৈরির দায়িত্ব শেখ মুজিব ও তাঁর দল আওয়ামীলীগকেই নিতে হবে, অন্য আরো নয়।
শেখ মুজিব ভারত প্রণীত পরামর্শগুলো মানতে রাজি হয়েছিলেন এবং লক্ষ্য অর্জনে ১৯৬৩  থেকে ১৯৭১ এ সাত বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করে ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিলেন।
    তারপরও কথা থেকে যায়, জওহরলাল নেহেরু বাঙালিদের স্বাধীন স্বকীয়তা বিকাশ ঘটুক, তা চাইতেন না। বলেছিলেন- ‘পূর্ববঙ্গ উপহার হিসেবেও আসে আমি গ্রহণ করতে পারব না, কারণ এক পশ্চিমবঙ্গই আমার জন্য যথেষ্ট মাথাব্যথার কারণ।’ এমন কি ব্রিটিশদের সঙ্গে জিন্নাহসহ ১৯৪৭ সালে বাংলা ও পাঞ্জাবকে ভাগ করেছিলেন। কিন্তু এক্ষেত্রে ইন্দিরা গান্ধী অবশ্যই ব্যতিক্রম। এ প্রসঙ্গে শশাঙ্ক এস ব্যানার্জি লিখেছেন-
‘ব্যক্তিগত পর্যায়েও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি এক নিবিড় যোগাযোগ ছিল। তিনি পশ্চিম বাংলা-শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীতে বাঙালি সংস্কৃতি প্রবাদ পুরুষ, ভারতের শ্রেষ্ঠ মানবতাবাদী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চরণে বসে পড়াশোনা করেছেন। এবং যখন পূর্বপাকিস্তানের বাংলাভাষী মানুষেরা গণহত্যার প্রতিবাদে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন-সমালোচকদের মতে তাঁর জন্য স্বাভাবিক ছিল তাদের সমর্থনে স্বত:স্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসা।’
মিসেস গান্ধী সে সময়ে তা-ই করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্ব প্রদানের অনেক শক্তিশালী গুণাবলী ছিল। তন্মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো-
১.    কৌশলগত দূরদৃষ্টি
২.    সাহস ও লক্ষ্য স্থিরতা।
২৫ মার্চ দিবাগত রাতে তখনকার পূর্বপাকিস্তানে পাকিস্তানিবাহিনি হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। বাঙালির প্রতিরোধে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। সে সময় ভারতের জনসাধারণ বিপুল সমর্থন জানায় বাঙালির এই মুক্তিযুদ্ধের প্রতি। শুধু তা-ই নয়, ২৭ মার্চ ভারতের লোকসভায় বাংলাদেশের প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাঙালির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বক্তৃতা প্রদান করেন। তিনি বলেন-
‘সময় ও পরিস্থিতি দুইয়ের ওপরই সরকার সর্তক দৃষ্টি রাখছে। ... সকল সময়ে আমরা ব্যথিতদের জন্য সহানুভূতি জানিয়েছি। নির্যাতনের প্রতিবাদ করেছি। এখনকার মতো এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সরকার হিসেবে আমরা এইটুকুই বলতে পারি।’
তিনি আরও বলেন-
‘পূর্ববঙ্গে এক নতুনের অভ্যুদয় হয়েছে। এ অভ্যুদয় ও ঘটনাপ্রবাহ সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক। জনগণ এক বাক্যে তাদের সংকল্প জানিয়েছেন। আমরা একে স্বাগত জানাচ্ছি-এর অর্থ অন্য দেশের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ নয়, আমরা এরূপ ঘটনাকে বরাবর মূল্য দিয়েছি এবং এর প্রতি সমর্থন জানিয়েছি। এই ঘটনার ফলে আমাদের প্রতিবেশী দেশে এক নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব হবে এবং আমরা আশা করি তার ফলে আমাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর হবে। এজন্য জনগণের সেবাও আমরা ভালোভাবে করতে পারব।’
লোকসভায় তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরণ-সিং প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানিয়ে বক্তৃতা করেন।
    উপর্যুক্ত সংবাদটি কলকাতা দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি মন্তব্য করে-
‘আজ ভারতীয় সংসদে শেখ মুজিবুর রহমানের অভূতপূর্ব মুক্তি সংগ্রামের প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানানো হয়েছে। সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনের জন্যে শেখ মুজিবুরের পেছনে রয়েছে সাড়ে সাত কোটি মানুষের অকৃত্রিম সমর্থন। ... সংসদ সদস্যগণ তার প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন।’
এমন কি-
‘শেখ মুজিবুর বাংলাদেশের যে সার্বভৌম আকার ঘোষণা করেছেন, তাকে স্বীকৃতি দানের জন্যেও সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।’    
এখানে পরের কথা উল্লেখ করতে চাই। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে প্রত্যক্ষভাবে বিরোধিতা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র অর্থাৎ আমেরিকা। এখনও তা অব্যাহত। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মূল বা প্রধান সহযোগী ও ইন্ধনদাতা আমেরিকার সিআইএ, পাকিস্তান এবং এদেশীয় তাদের দোসররা। এই বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতে মিসেস ইন্দিরা গান্ধী তাঁর নিজস্ব পরিকল্পনা থেকে একবিন্দুও সরে দাঁড়াননি। তাই ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১ তিনি আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনকে একটি চিঠি লেখেন। এই চিঠিটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি অনন্য দলিল হিসেবে বিবেচ্য। তিনি লিখেছেন-
১.    ২৫ মার্চ ১৯৭১ থেকে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর ঘটনাগুলি সাড়ে সাত কোটি মানুষকে প্রতিবাদ করতে বাধ্য করেছে। তারা এই চূড়ান্ত সত্যটি আবিষ্কার করেছে যে স্বাধীনতা বা আনন্দ কোনটিই আর তাদের জন্য নেই।
২.    যুদ্ধ হয়তো এড়িয়ে যাওয়া যেত যদি শেখ মুজিবকে মুক্ত করার জন্য সকল দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি, প্রভাব ও কর্তৃত্ব খাটানো যেত। শেখ মুজিবকে মুক্তির আবেদনটি বাস্তবতার ভিত্তিতে বিচার করে দেখা হয়নি।
৩.    এই বিষয়টি খুবই যন্ত্রণাদায়ক যে আমরা সংকট তৈরি করেছি কিন্তু আমরা সমাধান বের করছি না। আপনার প্রতিনিধির কর্কশ ভাষা ব্যবহারের আগেই আমি জানতে চাই যে আমাদের ঠিক কোথায় ভুল হয়েছিল?
মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর এই দৃঢ় অবস্থান বাংলাদেশকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রে মৃত্যুঞ্জয়ী অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
৩০ মার্চ ১৯৭১ তাজউদ্দীন আহমদ ব্যারিস্টার আমীর উল-ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ভারতের পৌঁছান। তিনি ৩ এপ্রিল (অন্য সূত্রে ৪ এপ্রিল) ১৯৭১ ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে দিল্লি যান। তাঁকে রাষ্ট্রীয় অতিথির যথাযথ মর্যাদা ও গোপনীয়তা দেবার সার্বিক ব্যবস্থা নেয়া হয়। ইন্দিরা গান্ধী নিজেই তাঁর কাছে আসেন এবং তাঁর প্রথম প্রশ্ন ছিল- ‘শেখ মুজিব কেমন আছেন?’
তাজউদ্দীন আহমদ জানালেন যে, ‘বঙ্গবন্ধুর মতেই আমাদের কাজ চলছে এবং হাইকমাণ্ড হিসেবে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
ইন্দিরা গান্ধী তাজউদ্দীন আহমদের নিকট জানতে চান-
    ‘আপনারা আমাদের কাছ থেকে কি ধরনের সহায়তা প্রত্যাশা করেন।’
তাজউদ্দীন আহমদ সে সময় ইন্দিরা গান্ধীকে বললেন-
‘দেখুন, এটা আমাদের যুদ্ধ। আমরা চাই না ভারত এতে জড়িয়ে পড়ুক। আমরা চাই না ভারত আমাদের দেশকে স্বাধীন করে দিক। এই স্বাধীনতা সংগ্রাম একান্তই আমাদের এবং আমরা তা নিজেরাই করব। তবে আপনাদের কাছ থেকে আমরা সুনির্দিষ্ট সাহায্য চাইব।
১.    আমাদের মুক্তিবাহিনিকে দাঁড় করানোর জন্যে আপনাদের কাছ থেকে জায়গা, ট্রেনিংয়ের সমস্ত সুবিধা এবং অস্ত্রের সরবরাহ চাইব।
২.    দেশ ছেড়ে আসা শরণার্থীদের জন্য আশ্রয় ও খাদ্যের ব্যবস্থা চাইব।
৩.    কূটনৈতিক ক্ষেত্রে এবং বহির্বিশ্বে আমাদের স্বাধীনতার কথা প্রচারের উদ্দেশ্যে সহায়তা চাইব।
‘এই স্বাধীনতা যুদ্ধ আমাদের’- তাজউদ্দীনের এ কথাটি ইন্দিরা গান্ধীকে বিশেষ উদ্দীপ্ত করে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রয়োজনীয় সহায়তা করার ব্যাপারে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। তখন ভারত সরকার দুটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
১.    ভারতের সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেয়া হলো।
২.    ভারতের ভেতরেও বাংলাদেশ সরকার তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে অনুমতি দেয়া হলো।
এখানে উল্লেখ করতে হয়, বঙ্গবন্ধু বরাবরই বলে এসেছেন, ভারতই বাঙালির শেষ আশ্রয়। তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে আগেই ভারতসরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রাথমিক আলাপ-আলোচনা এবং সহায়তার কথা বলে রেখেছিলেন। নিকট অতীতে আমরা যারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি বা অংশগ্রহণ করেছি ২৫ মার্চের পর ভারতে পৌঁছেই একটা অনুকূল পরিস্থিতি দেখেছিলাম।
ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তাজউদ্দীনের যখন দ্বিতীয় দফা সাক্ষাৎ হয়। তখন তাঁকে জানান যে শেখ মুজিবুর রহমান পাকসেনাদের হাতে বন্দি। অনুরোধ করেন- আন্তর্জাতিকভাবে শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রচেষ্টার অগ্রণী ভূমিকা রাখতে এবং পাকিস্তানের উপর চাপ সৃষ্টি করতে।
    দ্বিধাহীনভাবে বলা যায়-১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষের মহত্তম ও বীরত্বপূর্ণ লড়াই এবং রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা সংগ্রামে সহানুভূতি ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন বিশ্বের কিছু মহৎপ্রাণ নেতৃবৃন্দ। এই তালিকায় সবার শীর্ষে অবস্থান করছেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অভ্যুদয়কালে তিনি অভূতপূর্ব ও অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তখন বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও ভারতের জাতীয় স্বার্থ এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছিল। ইতিহাসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকা জ্যোতির্ময় হয়ে দেখা দিয়েছিল। তিনি বাংলাদেশ প্রশ্নে ভূ-রাজনীতি এবং আঞ্চলিক শক্তি সাম্যের সমীকরণটি সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। সেজন্য
প্রথমত, বাংলাদেশ প্রশ্নে ভারতের নীতি প্রণয়ন এবং তার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি পরিকল্পিতভাবে অগ্রসর হন। দেখা যায়, অগাস্ট মাসে ‘রুশ-ভারত মৈত্রী চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় সোভিয়েত ইউনিয়ন জাতি সংঘে বাংলাদেশের পক্ষে তিনটি ভেটো প্রয়োগ করে।
দ্বিতীয়ত, ১৯৭১ সালে চীন হস্তক্ষেপ করবে না তা মিসেস গান্ধী যথাযথ বিশ্লেষণ করে এক সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন। কারণ, চীনপন্থী জ্যোতি বসু সমর্থন জানিয়েছিলেন। জ্যোতি বসু ও তাঁর দল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছিলেন। জ্যোতি বসু ইন্দিরা ও কংগ্রেসের কড়া সমালোচক এবং কংগ্রেস বিরোধী রাজনীতির মাঠ ধরে রাখতে অভ্যন্তরীণ প্রশ্নে তিনি ইন্দিরা গান্ধীর মৃদু সমালোচনা করলেও জাতীয় স্বার্থে এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে ইন্দিরা গান্ধীকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।
    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ। তার পেছনে মূল নিয়ামক ছিল অভ্যন্তরীণ কারণ, তারপরও বাংলাদেশ-সংকট স্বল্পতম সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সংকট থেকে আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত হয় এবং এটি সমকালীন বিশ্বরাজনীতির মেরুকরণেও প্রতিফলিত হয়েছিল। এক্ষেত্রে ইন্দিরা গান্ধী জনপ্রিয় দাবি ও বিরোধীদলীয় চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রসর হন। ১৯৭১-এ বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত সংগঠনে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন। এতে অবশ্য ভারতের জাতীয় স্বার্থও অন্তর্নিহিত ছিল, যেখানে তার আজন্ম শক্র পাকিস্তানের সাথে তিক্ত সম্পর্কের বিষয়টি ক্রিয়াশীল ছিল। সেজন্যই ১৯৭১-এ ভারত ও বাংলাদেশ হয়ে ওঠেছিল পরস্পরের প্রকৃত বন্ধু ‘অ ঋৎরবহফ রহ হববফ রং ধ ঋৎরবহফ রহফববফ’. ভারতীয় জাতি-ধর্ম-ভাষা-বর্ণের বৈচিত্র্যর অন্যতম সংযুক্তি হলো ধর্মনিরপেক্ষতা। আশ্চর্যের বিষয় গণতান্ত্রিক ভারতের যাত্রা ১৯৪৭ সালে শুরু হলেও সংবিধানে ভারত ‘ধর্মনিরপেক্ষা’ কথাটি যুক্ত করেছে বাংলাদেশের পরে, ১৯৭৭ সালে।
    ১৯৭১ সালে এপ্রিল ও মে মাসে ইন্দিরা গান্ধী শরণার্থী শিবিরসমূহ পরিদর্শন করে মানবিক পরিস্থিতির ব্যাপকতা অনুধাবন করতে সক্ষম হন। তখন প্রায় ৩০ লক্ষ ২০ হাজার শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। তিনি দলীয় এক সভায় বললেন- ‘যা ছিল পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা তা আজ আমাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ এই উপলব্ধি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এক ইতিবাচক ইঙ্গিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে তখন ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতবাসী এক ঐক্যে উপনীত হয়েছিল। বামপন্থী, মধ্যপন্থী ও দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক নেতা ও সাংসদ একযোগে তাঁর পেছনে এসে দাঁড়িয়েছিল। অটল বিহারী বাজপেয়ী ৬ ডিসেম্বর লোকসভায় বললেন-
‘দেরিতেই হোক না কেন, বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়ে একটি সঠিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ... আমি মনে করি আমাদের প্রধানমন্ত্রী সত্যি ধন্যবাদের পাত্রী।’
সাংসদ ইসহাক সম্বলী বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন-
‘আমি আনন্দিত এবং আমি ধন্যবাদ জানাই ভারতের জনগণ ও প্রধানমন্ত্রীকে যারা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক বিজয়।’
৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ ভারতীয় রাজ্যসভা ও লোকসভায় ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়ে ভাষণ দেন। তার গুরুত্বপূর্ণ অংশটি উল্লেখ করছি।
‘ ও ধস মষধফ ঃড় রহভড়ৎস ঃযব ঐড়ঁংব ঃযধঃ রহ ষরমযঃ ড়ভ ঃযব বীরংঃরহম ংরঃঁধঃরড়হ ধহফ রহ ৎবংঢ়ড়হংব ঃড় ঃযব ৎবঢ়বধঃবফ ৎবয়ঁবংঃং ড়ভ ঃযব এড়াবৎহসবহঃ ড়ভ ইধহমষধফবংয, ঃযব এড়াবৎহসবহঃ ড়ভ ওহফরধ যধাব ধভঃবৎ ঃযব সড়ংঃ পধৎবভঁষ পড়হংরফবৎধঃরড়হ, ফবপরফবফ ঃড় এৎধহঃ ৎবপড়মহরঃরড়হ ঃড় ঃযব – এঅঘঅ চজঅঔঅঞঅঘঞজও ইঅঘএখঅউঊঝঐ।’ এবং ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের জাতির জনক হিসেবে আধ্যায়িত করেন।
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি জানিয়ে ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে লেখা ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর চিঠি (অনুবাদ)
হিজ এক্সিলেন্সি মিস্টার তাজউদ্দীন আহমদ
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী
মুজিবনগর

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী
হিজ এক্সিলেন্সি, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং আপনি ৪ ডিসেম্বর যে বার্তাটি পাঠিয়েছেন, তা আমাকে এবং ভারত সরকারে আমার সহকর্মীদের বিশেষভাবে স্পর্শ করেছে। বার্তাটি পাওয়ার পর আপনারা যেভাবে আত্মনিবেদিত হয়ে বাংলাদেশকে পরিচালনা করছেন, সেই দেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি ভারত সরকার পুনরায় বিবেচনা করে। আমি হৃষ্টচিত্তে আপনাকে জানাতে চাই, বর্তমানে যে অবস্থা বিরাজ করছে তার আলোকে ভারত সরকার স্বীকৃতি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ সকালে এ বিষয়ে আমি আমাদের সংসদে একটি বিবৃতি দিয়েছি। বিবৃতির অনুলিপি সংযুক্ত করছি।
বাংলাদেশের মানুষকে অনেক ভুগতে হয়েছে। আপনার তরুণ ছেলেরা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য আত্মবলিদানের সংগ্রামে লিপ্ত। ভারতের জনগণও একই আদর্শের প্রতিরক্ষায় লড়ে যাচ্ছে। আমার কোনো সন্দেহ নেই যে এই শ্রেষ্ঠতম উদ্যোগ এবং আত্মদান ভালো কাজের জন্য আমাদের আত্মনিবেদনকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্ব অক্ষুণ্ন রাখবে। যা হোক, পথ যত দীর্ঘই হোক, আত্মদান যত বেশিই হোক, আমাদের দুই দেশের মানুষের ভবিষ্যতে ডাক পড়বে, আমি নিশ্চিত আমরা বিজয়ীই হব।
ব্যক্তিগতভাবে আপনাকে, আপনার সহকর্মীদের এবং বাংলাদেশের বীর জনতাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানোর সুযোগ নিচ্ছি।
আপনার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিজ এক্সিলেন্সি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে আমার সব্বোর্চ সম্মানের নিশ্চয়তা জ্ঞাপন করবেন।
আপনার একান্ত
(স্বাক্ষরিত)
ইন্দিরা গান্ধী
বঙ্গবন্ধু যখন ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করে মুক্ত মানুষ হয়ে লণ্ডন হয়ে ১০ তারিখ দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন, তাঁকে অভ্যর্থনা জানান ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি এবং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। প্যারেড গ্রাউণ্ডে বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বলেন-
    ‘শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর জনগণের কাছে মুক্তির প্রতিশ্রুতি করেছিলেন এবং তিনি তা প্রদান করেছেন। ভারতও কিছু অঙ্গীকার করেছিল তাহলো বাংলাদেশকে মুক্ত করা, মুজিবকে মুক্ত করা এবং অন্তিমে শরণার্থীদের তাদের বাড়ি ও ভিটেমাটিতে ফেরৎ পাঠানো।’ আমরাও আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি।’  
লেখক: সাহিত্যিক, গবেষক ও সাবেক অধ্যাপক
মোবাইল: ০১৭১১-৩৪১৭৩৫













সর্বশেষ সংবাদ
নতুন বইয়ের বর্ণিল নতুন বছর
নৌকায় ভোট নিতে ভাতার কার্ড আটকে রাখার অভিযোগ
শান্তির নোবেলজয়ী থেকে দণ্ডিত আসামি
শ্রমিক ঠকানোর দায়ে নোবেলজয়ী ইউনূসের ৬ মাসের সাজা
ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ, কুমিল্লা অধ্যক্ষ পদে অধ্যাপক ডাঃ রুহিনী কুমার দাস এর দায়িত্ব গ্রহণ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধু নিহত
বরুড়ায় শ্রমিকদল নেতাকে ছুরিকাঘাত
অর্ধেক দামে ফ্রিজ বিক্রি করছেন ফ্রিজ প্রতীকের প্রার্থী
বাড়ির জন্য কেনা জমিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যাওয়া একই পরিবারের ৪ জনের কবর
৫৫ কেজি সোনা চুরি, ফের রিমান্ডে দুই রাজস্ব কর্মকর্তা
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২