ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
কুমিল্লা সিটি নির্বাচন
প্রচারণায় প্রাধান্য পাচ্ছে ইভিএম
Published : Monday, 6 June, 2022 at 12:00 AM, Update: 06.06.2022 12:53:58 AM
প্রচারণায় প্রাধান্য পাচ্ছে ইভিএমজহির শান্ত:
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে প্রচারণায় প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ইভিএমে ভোট গ্রহণের পদ্ধতিও প্রচার করছেন প্রার্থীরা। ভোটের সময় যতোই ঘনিয়ে আসছে প্রচার-প্রচারণায় ততোই ব্যস্ত সময় পাড় করছেন প্রার্থীরা। ভবিষ্যৎ উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন ভোটারদের কাছে। প্রচারণা চলাকালে ইভিএমে ভোটদান পদ্ধতি সম্পর্কেও ভোটারদের অবগত করছেন তারা। জবাব দিচ্ছেন ইভিএম নিয়ে ভোটারদের নানা জিজ্ঞাসারও।
রবিবার আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পাশপাশি হেভিওয়েট দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি প্রাধান্য পেয়েছে ভোটারদের ইভিএম ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা।
এদিন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু দিনব্যাপী নগরীর ২২নং ওয়ার্ডে কচুয়া, দৈয়ারা, লক্ষীপুর, রামপুর, শ্রীবল্লভপুর, ২৫নং ওয়ার্ডের ফুনকা, দয়াপুর, তারপাইয়া, ডুমুরিয়া, কালকিংকরপুর, ধনপুর, চৌয়ারা বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় জনসংযোগ করেন। ভোটাররা যেন ইভিএমে সহজে ভোট দিতে পারে- এজন্য প্রচারণার সময় জানাচ্ছেন  ভোটদান পদ্ধতি।
প্রচারণার সময়ে তিনি বলেন, ১৩ জুন প্রতিটি কেন্দ্রে মক ভোটিং হবে। সেখানে গেলেও ভোটাররা ভোটদান পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারবেন। তারপরও আমি আমার মতো ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছি। গণসংযোগ লোকজন বেশি হলে আমি বিষয়টি তাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছি। তিন পদে তিনটি প্রতীকে টিপ চিহ্ন দেওয়ার পর সবুজ বাটনে ক্লিক করলেই ভোটদান সম্পন্ন হয়ে যাবে।
মনিরুল হক সাক্কু বলেন, সিটি কর্পোরেশন এখন উন্নয়নের ট্রেনে উঠেছে। সেটাকে যদি সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায় ৩ বছরের মধ্যে আধুনিক সিটি কর্পোরেশন গড়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু তারা ঘুম থেকে উঠেই আমার বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করে। আমার কাজের ব্যাপারে কিছু ভুলত্রুটি থাকতে পারে। উন্নয়ন চলমান। আমি ধীরে ধীরে চেষ্টা করছি।
রবিবার আওয়ামী লীগ মনোনীত আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত প্রচারণা চালিয়েছেন নগরীর ফৌজদারি, পুলিশ লাইনস ও বাগিচাগাঁও এলাকায়। এসময় পথসভায় তিনি বলেন, আমি অঙ্গীকার করছি, সততার সাথে, নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করবো। নির্বাচিত হলে আমি প্রথমেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে শ্বেতপত্র প্রকাশ করবো। বিগত দিনে মেয়র যে দুর্নীতি করেছেন, তার চিত্র তুলে তুলবো। কুমিল্লার মানুষের দুর্দশা লাঘব করবো।
তিনি বলেন, ১৫ তারিখ কুমিল্লার মানুষ যাকে রায় দিবে সে-ই মেয়র হবে। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, মেয়র নির্বাচিত হলে কুমিল্লার যানজট এবং জলাবদ্ধতা দূর করতে পদক্ষেপ নিবো। আমি প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবো। আমার প্রথম দায়িত্ব থাকবে কুমিল্লার জলাবদ্ধতা এবং যানজট নিরসন। ১৫ তারিখ পর্যন্ত আপনারা আমাকে পাহারা দিয়ে রাখে, আমি আগামী ৫ বছর আপনাদের পাহারা দিয়ে রাখবো।
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সারও দাবি করেন, ইভিএম নিয়ে আরো বেশি প্রচার-প্রচারণার। তিনি বলেন, বর্তমানে ভোটের মাঠের যে পরিবেশ আছে, তা নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই। মানুষের যে উৎসব শুরু হয়েছে, সেটা যদি বজায় থাকে, প্রশাসন যদি নির্বিঘ্নে সেটা করতে দেয়, ইনশাল্লাহ আমার জয় হবেই হবে।
ইভিএম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা যেহেতু একটা মেশিন এটা নিয়ে মানুষের সন্দেহ থাকেই এবং আছে। এটা যেকোনো সময় হেং হতে পারে। সেজন্য সেটা যদি রিকাউন্টিংয়ের সুযোগ থাকতো। যেহেতু নির্বাচন এসেছে তাই মানুষকে সচেতন করা, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টা তুলে ধরে কিভাবে ভোটটা দিতে হয় এ নিয়ে পদক্ষেপ জরুরী।
আমি আমার পক্ষ থেকে আমার ভোটার ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার চেষ্টা করছি। ১০ তারিখের মধ্যেই আমি আমার ইশতেহার ঘোষণা করবো। সেই ইশতেহারে মানুষজন নতুন কুমিল্লার চিত্র দেখতে পারবে।
আগামী ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ইভিএম পদ্ধতিতে। নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ৫ জন। এছাড়াও ১০৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থী এবং ৩৬ জন সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইতোমধ্যে গত ৩০ মে ঢাকায় চার কাউন্সিলর প্রার্থীসহ দুই মেয়র প্রার্থীর প্রতিনিধি ও কয়েকজ কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রতিনিধিরা ইভিএম কাস্টমাইজেশনে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তারা ইভিএম নিয়ে শঙ্কা দূর হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এছাড়াও ভোটের আগে আগামী ১৩ জুন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রতিটি কেন্দ্রে মক ভোটিং হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটাররা সেখানে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন।

কায়সারের জরিমানা:
আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আবারো ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সারকে। রবিবার প্রার্থীকে এই জরিমানা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কানিজ ফাতেমা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন পূর্ব সময়ে, মিছিল শোডাউন করায় এবং সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ২০১৬ লঙ্ঘন হওয়ায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালানোর সময় জনসমাগম করে মিছিল ও শোডাউন করায় এই জরিমানা করা হয়।
উল্লেখ্য, নিজাম উদ্দিন কায়সার নির্বাচনী প্রচারণার শুরুর প্রথম দিনে মিছিলে জীবন্ত ঘোড়া প্রদর্শনের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আচরণবিধি মেনে চলতে তাকে ডেকে নিয়ে সতর্ক করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।   এনিয়ে তিনি ১ লাখ টাকা জরিমানায় দণ্ডিত হলেন।