
অধ্যক্ষ মো: মফিজুল ইসলাম ||
উন্নত
বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ
‘বিনিয়োগ বিকাশ’ কর্মসূচি। দেশে বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন ও দেশি-বিদেশি
বিনিয়োগ আকর্ষণে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের
ফলে দেশে বিনিয়োগের খরা কাটছে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ‘বিনিয়োগ বিকাশ’
বহির্বিশ্বে এমনভাবে ব্র্যান্ডিং করা হচ্ছে যাতে বিদেশিরা এদেশে বিনিয়োগ
করতে এগিয়ে আসেন। এছাড়া দেশি উদ্যোক্তাদেরও আস্থা ফিরিয়ে বিনিয়োগে উৎসাহিত
করা হবে। বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে ইতোমধ্যে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ
করেছে। বিনিয়োগের প্রধান বাধাগুলো কি তা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এসব বাধা দূর করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয়
শিল্পনীতিও বিনিয়োগবান্ধব করা হয়েছে। দেশি ও বিদেশি বিনয়োগকারিদের বিনিয়োগে
আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। শিল্পনীতির খসড়ায় বলা
হয়েছে, কোন বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে ১০ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বা
প্রায় আট কোটি টাকা বিনিয়োগ করলে অথবা কোন স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে ২০ লাখ
ডলারের সমপরিমাণ প্রায় ১৬ কোটি টাকা স্থানান্তর করলে তাকে বাংলাদেশের
নাগরিকত্ব দেয়া হবে। সরকারের এই উদ্যোগকে বিদেশিরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছে
বলে দাবি করেছেন উদ্যোক্তারা।
ভারত, চীন, জাপান ও কোরিয়ার বিনিয়োগ
বাড়াতে ওই দেশগুলোর জন্য পৃথক অর্থনৈতিক অঞ্চল সংরক্ষণ করার ঘোষণা দেয়া
হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল
আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন। এছাড়া দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরো
অর্থনৈতিক অঞ্চলের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। শুধু তাই নয়, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ
বাড়াতে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সারাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা
হবে। এর ফলে দেশের রফতানি আয় বৃদ্ধি পাবে অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে প্রায় ১ কোটি মানুষের।
প্রধানমন্ত্রীর
একান্ত ব্যক্তিগত ইচ্ছায় এসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে যা ‘শেখ হাসিনা
বিশেষ উদ্যোগ’ নামে পরিচিত। এসব কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন ও ব্র্যান্ডিং
সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রধানমন্ত্রীর
বিশেষ উদ্যোগে নেয়া দশ কর্মসূচিকে ব্র্যান্ডিং করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
কর্মসূচীগুলো হচ্ছে- ১। নারীর ক্ষমতায়ন, ২। আশ্রয়ণ প্রকল্প, ৩। শিক্ষা
সহায়তা কর্মসূচি ৪। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, যা ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক’
নামে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করছে, ৫। ডিজিটাল বাংলাদেশ, ৬। কমিউনিট
ক্লিনিক ও শিশু বিকাশ, ৭। পরিবেশ সুরক্ষা ৮। সামাজিক/সামষ্টিক নিরাপত্তা
কর্মসূচি, ৯। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, ১০। বিনিয়োগ বিকাশ কর্মসূচি। এসব কর্মসূচি
গ্রহণের ফলে, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ এসডিজি বাস্তাবায়ণ ও ২০৪১ সালে
উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা পাবে। বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন বাজেটেও
বিশেষ কর্মকৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে। বিদ্যমান বিনিয়োগের সক্ষমতা বাড়িয়ে উৎপাদন
ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এজন্য বিনিয়োগকারীদের সব
ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে।
দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে শেখ
হাসিনার দৃঢ় অঙ্গীকার ও বিভিন্ন গণমুখী উদ্যোগের মধ্যে এই ১০টি ক্ষেত্রকে
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
হিসেবে চিহ্নিত করেছে। রূপকল্পের স্বপ্ন হচ্ছে উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং
মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে জীবনমান উন্নয়ন। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকারের
কৌশল হচ্ছে উপযুক্ত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর
উন্নয়ন, গণদ্রব্য ও সেবার যোগান বৃদ্ধি, বিশ্ব বাজারের সঙ্গে ক্রমান্বয়ে
একীভূত হওয়া, উৎপাদন বিশেষায়ন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সামষ্টিক অর্থনীতির
স্থিতিশীলতা রক্ষা। আর এগুলোর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিনিয়োগ ও
বিনিয়োগের উৎকর্ষ বৃদ্ধি করা।
সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বরাবরের মতো
এবারের বাজেটেও প্রবৃদ্ধি সহায়ক খাতসমূহ অগ্রাধিকার দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ
করেছে। বিশেষ করে ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো খাত বিদ্যুত, জ্বালানি, পরিবহন,
যোগাযোগ, বন্দর উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আইসিটি খাতে অধিকতর সম্পদ
সঞ্চালন করা হচ্ছে। পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন, উড়াল সড়ক নির্মাণ, এক্সপ্রেস ওয়ে
নির্মাণ, ঢাকায় মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন, পরিবহন খাতে গুরুত্বপূর্ণ
মহাসড়কসমূহকে চার লেনে উন্নীতকরণের চলমান কাজ দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা
হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন রাস্তা সম্পন্ন করা হয়েছে।
পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধণ
করবে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়নে জোর দেয়াসহ দ্রুত সময়ের মধ্যে
বৃহৎ প্রকল্পের কাজ শেষ করা হচ্ছে।
সামগ্রিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর
প্রাক্তন মুখ্য সচিব ও এসডিজি বাস্তবায়নের প্রধান সমন্বয়ক মো: আবুল কালাম
আজাদ বলেন, “বিনিয়োগ বিকাশ কর্মসূচির তথা গৃহীত দশটি কর্মসূচিই দেশের
উন্নয়নে এবং এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে ভূমিক রেখে যাচ্ছে, যেমনঃ সামাজিক
নিরাপত্তা দারিদ্র বিমোচনে বিরাট ভূমিকা পালন করছে। নারীর ক্ষমতায়ন বিশ্বের
বিভিন্ন দেশে প্রশংসিত হচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তা ও
সংস্থা যুক্ত হওয়ায় উন্নয়ন কার্যক্রম ও সমস্যার সমাধান দ্রুত বাস্তবায়ন
হচ্ছে। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা ও সংস্থার মধ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়নের
চুক্তি সম্পাদন হওয়ায় অনেক কর্মকান্ড দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। একটি বাড়ি একটি
খামার প্রকল্প/পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক গ্রামীণ দরিদ্র মানেুষের মধ্যে ক্ষুদ্র
সঞ্চয়ের মনোভাব গড়ে তুলছে। আগামীতে দেশের প্রতিটি গ্রামে এই প্রকল্প চালু
করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই কর্মসূচিকে বাস্তবায়নে আমাদের সকলকে যার যার
অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।