
দিনের
শুরুতে দ্রুত উইকেট নেওয়ার কাজটি ভালোভাবেই করেছিলেন এবাদত হোসেন ও সাকিব
আল হাসান। কিন্তু এরপর আর মেলেনি আশানুরূপ সাফল্য। বৃষ্টিবিঘ্নিত তৃতীয়
দিনে সবমিলিয়ে কেবল তিনটি উইকেট নিতে পেরেছে টাইগাররা। আধিপত্য ধরে রেখেই
দিন শেষ করেছে লঙ্কানরা।
মিরপুর টেস্টের বৃষ্টিবিঘ্নিত তৃতীয় দিনটিতে
খেলা হয়েছে ৫১ ওভার। যেখানে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৩৯ রান করেছে শ্রীলঙ্কা। দিন
শেষে তাদের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৮২ রান। বাংলাদেশের ৩৬৫ রানের চেয়ে এখন আর ৮৩
রানে পিছিয়ে শ্রীলঙ্কা। প্রথম ম্যাচের মতো আবারও উইকেটে থিতু হয়ে গেছেন
অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ।
আগেরদিন ২ উইকেটে ১৪৩ রান নিয়ে খেলা শেষ করেছিল
শ্রীলঙ্কা। দিনের শেষ ভাগে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে পাঠানো হয় রাজিথাকে। সেই
দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করে দিনের বাকি অংশে উইকেট বাঁচিয়ে রাখেন এ লেজের
সারির ব্যাটার।
তবে নতুন দিনে আর পারলেন না রাজিথা। আজ দিনের প্রথম
ওভারে বল তুলে দেওয়া হয়েছিল এবাদতকে। প্রথম বলে এক রান নিয়ে রাজিথাকে
স্ট্রাইক দেন করুনারাত্নে। পরের বলেই ভুল লাইনে খেলে বোল্ড হয়ে যান শূন্য
রান করা রাজিথা।
এরপর সাবেক অধিনায়ক ম্যাথিউজকে নিয়ে জুটি বাঁধেন
বর্তমান অধিনায়ক করুনারাত্নে। এবাদত ও সাকিবের শুরুর স্পেলে খুব একটা রান
করতে পারছিলেন না তারা। তবে ৫৫তম ওভারে এবাদতের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জড়তা
কাটিয়ে ওঠেন ম্যাথিউজ।
সাকিবের করার পরের ওভারে চার মারেন
করুনারাত্নেও। লঙ্কান অধিনায়কের বিদায়ঘণ্টাও সেই ওভারে বাজান সাকিব। ঝুলিয়ে
দেওয়া ডেলিভারিতে করুনারাত্নেকে সামনের পায়ে আনেন সাকিব, সেটিই কাল হয় এ
বাঁহাতি ওপেনারের জন্য।
ড্রাইভ করার ব্যর্থ চেষ্টায় সেই ডেলিভারিটি তার
ব্যাট ফাঁকি দিয়ে বল আঘাত হানে মিডল স্ট্যাম্পে। যার ফলে সমাপ্তি ঘটে ১৫৫
বলে ৯ চারের মারে ৮০ রানের ইনিংসের। এর আগে ব্যক্তিগত ৩৬ রানে বাংলাদেশের
রিভিউ ব্যর্থতা ও ৩৭ রানে ক্যাচ মিসের কারণে বেঁচে যান করুনারাত্নে।
অধিনায়ককে
হারানোর পর খোলসে ঢুকে পড়েন ম্যাথিউজ ও ধনঞ্জয়। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে খুব
একটা রান দিচ্ছিলেন না এবাদত, সাকিবরা। এবাদতের বলে বেশ কয়েকবার পরাস্তও
হয়েছেন ম্যাথিউজ। কিন্তু দাঁতে দাঁত চেপে সেশনের বাকি সময়টা কাটিয়ে দেন এ
অভিজ্ঞ ব্যাটার।
অন্যদিকে শুরু থেকেই হাত খুলে খেলার চেষ্টা দেখা গেছে
ধনঞ্জয়ের মাঝে। মধ্যাহ্ন বিরতি দেওয়ার আগের ওভারে এবাদতের বলে তিন
বাউন্ডারি হাঁকিয়ে লঙ্কানদের দুইশো পার করিয়ে দেন এ মিডল অর্ডার ব্যাটার।
সেশন শেষে ধনঞ্জয় ৪০ বলে ৩০ ও ম্যাথিউজ ৭৬ বলে ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
ইনিংসের
৭১তম ওভার শেষে হওয়ার কথা ছিল আজকের মধ্যাহ্ন বিরতি। কিন্তু সেই ওভারে
সাকিব প্রথম বল করার পরই নামে গুঁড়ি বৃষ্টি। যে কারণে ওভার শেষ না করেই
বিরতি দিয়ে দেন আম্পায়াররা। এই বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকে পুরো চার ঘণ্টা। এর
মাঝেই কেটে যায় মধ্যাহ্ন ও চা পানের বিরতি।
বিকেল ৪টায় আবার শুরু হয়
খেলা। মেঘাচ্ছন্ন কন্ডিশনে নতুন সেশনের শুরুতে আঁটসাঁট বোলিং করতে থাকেন
এবাদত হোসেন ও সাকিব আল হাসান। এই সেশনের প্রথম দশ ওভারে মাত্র ১২ রান করতে
সক্ষম হন ম্যাথিউজ ও ধনঞ্জয়। কিন্তু ৮১তম ওভারে নতুন বল নিতেই হাত খুলতে
শুরু করেন এ দুই ব্যাটার।
খালেদ আহমেদ ও সাকিবের ওভারে নিয়মিত বিরতিতেই
বাউন্ডারি হাঁকিয়ে নিজেদের ফিফটি তুলে নেন দুজন। সাকিবের করা ৮৮তম ওভারের
প্রথম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ফিফটি পূরণ করেন ম্যাথিউজ। যা শ্রীলঙ্কার পক্ষে
টেস্ট ক্রিকেটে তার ৫০তম পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস।
সেই ওভারেই ভাঙে
ম্যাথিউজ-ধনঞ্জয় জুটি। অফস্ট্যাম্পের বাইরে পড়া ডেলিভারিটি রক্ষণাত্মকভাবে
খেলতে গিয়েছিলেন ধনঞ্জয়। কিন্তু আচমকা লাফিয়ে তার ব্যাটের বাইরের কানায়
লেগে চলে যায় উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে। আম্পায়ার প্রথমে আউট দেননি। রিভিউ নিয়ে
৫৮ রান করা ধনঞ্জয়কে ফেরায় বাংলাদেশ।
এরপর দিনের বাকি ৯ ওভারে আর বিপদ
ঘটতে দেননি ম্যাথিউজ ও দিনেশ চান্দিমাল। দলের দুই অভিজ্ঞতম ব্যাটার মিলে
যোগ করেছেন আরও ১৬ রান। দিন শেষে ম্যাথিউজ ১৫৩ বলে ৫৮ ও চান্দিমাল ২৯ বলে
১০ রানে অপরাজিত রয়েছেন।