
আসিথা
ফার্নান্দোর করা ১০৮তম ওভারের প্রথম বলে রিভিউ নিয়ে দ্বিতীয় জীবন
পেয়েছিলেন ইবাদত হোসেন। তার ‘জীবনে’ শের-ই-বাংলায় আশা জেগে ওঠে মুশফিকুর
রহিমের চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরির। দুজনে টেনেটুনে মধ্যাহ্ন বিরতি পর্যন্ত
নিলেও বেশিদূর এগোয়নি। বিরতির পর ইবাদতের রানআউটে ইতি ঘটে ডাবলের স্বপ্ন।
তবুও বাংলাদেশ যে শুরুর বিপর্যয় সামলে প্রথম ইনিংসে ৩৬৫ রান করেছে, তাও কম
কিসের।
ব্যাট হাতে প্রত্যাবর্তনের রূপকথা লিখলেও বল হাতে একশব্দে
বাংলাদেশের পাফরম্যান্স এলোমেলো কিংবা খাপাছাড়া। দুই দিনের শুরুতেই সুবিধা
আদায় করে নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। প্রথম দিন ২৪ রানে ৫ উইকেট তোলার পর আজ
দ্বিতীয় দিন অষ্টম ওভারে লিটন দাস-মোসাদ্দেক হোসেনের উইকেট। কিন্তু তাদের
ইনিংসের শুরুতে বাংলাদেশের বোলাররা এই সুবিধাটা আদায় করতে পারেনি। উল্টো
ক্যাচ মিস, রিভিউ না নেওয়ার আক্ষেপে পুড়েছে স্বাগতিক শিবির।
এত সুযোগ
পেয়ে শ্রীলঙ্কা যেন পেয়ে বসে, আগ্রাসী ভূমিকায় ব্যাটিং করে দ্রুত রান তোলার
চেষ্টা করেছে। দ্বিতীয় দিন (মঙ্গলবার) শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ২ উইকেটে
১৪৩ রান। বাংলাদেশ থেকে এখনও পিছিয়ে আছে ২২২ রানে। ৭০ রানে দিমুথ
করুণারত্নে ও নাইট ওয়াচম্যান কাসুন রাজিথা অপরাজিত আছেন ১ রানে। একটি করে
উইকেট নিয়েছেন ইবাদত ও সাকিব আল হাসান।
৯১ বলে ৫৭ রান আসে ওশাদার ব্যাট
থেকে। তার ইনিংসে চারের মার ছিল ৮টি আর ছয় ১টি। একবারের নিখুঁত ইনিংস
খেলেছেন, তা না। সাকিবদের দেওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। নিশ্চিত আউট থেকে
বেঁচে যান রিভিউ না চাওয়াতেও। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরিয়েছেন ইবাদত।
কুশল
মেন্ডিস প্রথম দিন ২৩ ওভারে বুকে ব্যথার কারণে মাঠ ছেড়েছিলেন। তবে আজ
দিনের শুরু থেকেই ফিল্ডিং করেছেন। ফিট হয়েই মাঠে নামেন কুশল। তাকে দিন
শেষের আগে এলবিডব্লিউ করে ফেরান সাকিব। ৪৯ বলে ১১ রান করেন কুশল। তার উইকেট
কিছুট স্বস্তি দেবে বাংলাদেশকে।
ক্রিজে থাকা করুণারত্নেকে ৩৭ রানে
সিপ্লে জীবন দিয়েছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। তার ব্যাটে এখন পাওয়া যাচ্ছে
সুযোগ কাজে লাগানোর আভাস। ৮৪ বলে ৫ চারে তুলে নিয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি।
মুশফিক-লিটনে
দিনের শুরুটা করেছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ ওভারে টানা দুই চারে সেই বার্তায়
যেন দিয়েছিলেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল মুশফিক। কিন্তু অষ্টম ওভারে সব এলোমেলো
হয়ে যায়। কাসুন রাজিথার প্রথম বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন।
একই ওভারের পঞ্চম বলে ফেরেন নতুন ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক। ১৩৫ রানে দিন শুরু
করা লিটন আজ মাত্র ৬ যোগ করেন। তার ব্যাট থেকে ১৬ চার ও ১ ছয়ে আসে ১৪১
রান। লিটনের এটি ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস।
লিটন আউট হলেও মোসাদ্দেক থাকায়
স্কোর বড় করার প্রত্যাশা দেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ৩ বলের বেশি মাঠে টিকতে
পারেননি। তামিম ইকবালদের মতো মোসাদ্দেকও গোল্ডেন ডাক। ৯৮৭ দিন পর
প্রত্যাবর্তনটা তিনি নিজেও ভুলে যেতে চাইবেন। একই ওভারে দুজন আউট হওয়ার পর
৩০০ নিয়েও শঙ্কা জাগে। এটাকেও ভুল প্রমাণ করলেন মুশফিক। বাংলাদেশের স্কোরে
যোগ হয় আরো ৬৯ রান। তাতে তাইজুলের অবদান ১৫ আর বাকিটা মুশফিকের।
১১৫
রানে দিন শুরু করা মুশফিক তুলে নিয়েছিলেন দেড়শও। তার ৯টি সেঞ্চুরির ৫টিই যে
দেড়শ ছুঁয়েছে। তাইজুলের দারুণ সঙ্গতে ভরসা জাগে মুশফিকের ডাবলের। তবে তিনি
ফেরায় প্রত্যাশার বেলুন চুপসে যায়। মাঠে এসে খালেদ ফেরেন শূন্য রানে। এরপর
ইবাদতকে নিয়ে শুরু হয় মুশফিকের লড়াই। পুরো ওভার খেলে শেষ দিকে রান নিয়ে
খেলার চেষ্টা করে গেছেন। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে তার আউটে শেষ হয়ে যায়
বাংলাদেশের ইনিংস। তিনিও ফেরেন কোনো রান না করে। এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো
এক ইনিংসে বাংলাদেশের ৬ ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন শূন্য রানে।
এর আগে ২০০২
সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। তবে ছয় শূন্যর পরও সর্বোচ্চ দলীয় রানের
রেকর্ড কিন্তু হয়েছে। মুশফিক অপরাজিত থাকেন ১৭৫ রানে। ৩৫৫ বলে ১৬ চার ও ২
ছয়ে এ রান করেন তিনি। মুশফিকের ক্যারিয়ারে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ স্কোর।
শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট নেন রাজিথা। প্রথম টেস্টে কনকাশন সাব
নামা এই পেসার দেখাচ্ছেন কারিশমা। প্রথম লঙ্কান পেসার হিসেবে টেস্ট
ক্রিকেটে বাংলাদেশের মাটিতে নেন ৫ উইকেট।