Published : Saturday, 7 May, 2022 at 12:00 AM, Update: 07.05.2022 12:51:50 AM

মো. হাবিবুর রহমান, মুরাদনগর ||
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা সদরে ফাঁস লাগানো অবস্থায় লক্ষী রানী দেবনাথ (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা চলছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সুলতান মিয়া (২৮) পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা সদরের নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নিমাইকান্দি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ওই গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত লক্ষী রানী দেবনাথ উপজেলার সদর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের নারায়ন দেবনাথের স্ত্রী ও যাত্রাপুর গ্রামের হরিপদ চন্দ্র দেবনাথের মেয়ে।
নিহতের মেয়ে বর্ষা রানী দেবনাথ (১৪) অভিযোগ করে দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে বলেন, আমাদের পরিবারের সাথে উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নোয়াকান্দি গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে সুলতান মিয়ার (২৮) সাথে আমাদের টাকার লেনদেন ছিল। ওই টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে কিছুদিন যাবত বিরোধ চলছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সুলতান আমাদের বাড়িতে আসে এবং মায়ের সাথে কথা বলে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতা-হাতি হলে তা দেখে আমার ছোট ভাই (৪) চিৎকার করলে সুলতান তাকে থাপ্পর দেয়। তখন আমার ভাইকে বাহিরে রেখে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি আমার সন্দেহ হলে দরজা খোলার চেষ্টা করি। আমার চিৎকারে সুলতান দরজা খুললে ঘরে প্রবেশ করে দিয়ে মায়ের দেহ ঝুলন্ত দেখতে পাই। তখন সুলতানকে আটকের চেষ্টা করলে সে পালিয়ে যায়।
নিহতের স্বামী নারায়ন দেবনাথ দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে বলেন, আমার স্ত্রীকে সুলতানই হত্যা করেছে। এ ঘটনার রাজ স্বাক্ষী আমার মেয়ে ও ছেলে। আমি এ হত্যার সাথে জড়িত সুলতানকে অবিলম্বে গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও এসআই বোরহান উদ্দিন মজুমদার দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে বলেন, নিহত ওই মহিলার সাথে সুলতান মিয়া নামের একজনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বলে জানতে পেরেছি। ঘটনার পর থেকে সেও পলাতক রয়েছে।
মুরাদনগর থানার ওসি আবুল হাসিম দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে বলেন, লাশ ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।