
বিপিএলের
৮ম আসরে এখন পর্যন্ত সবগুলো দলই কমবেশি হারের স্বাদ পেয়েছে। পায়নি শুধু
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম পর্বের শেষ দিন প্রথম ম্যাচে
তারা হারের স্বাদ পেল। মাহমুদউল্লাহ-তামিমের ব্যাটে রান পাহাড় গড়ার পর
আন্দ্রে রাসেল আর কায়েস আহমেদের দারুণ বোলিংয়ে মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা জিতেছে
৫০ রানের বড় ব্যবধানে।
রান তাড়ায় নেমে কুমিল্লা বড় ধাক্কা খায় লিটন
দাসের বিদায়ে। রুবেল হোসেনের বলে ইমরানের তালুবন্দি লিটন আজ তিন বল খেলে
'ডাক' মারেন। রান-আউট হওয়ার আগে ফাফ ডু প্লেসিসও ৮ রানের বেশি করতে
পারেননি। কুমিল্লার সর্বশেষ ম্যাচে এই দুজনের ব্যাটই হেসেছিল। এসময় দলের
হাল ধরেন অধিনায়ক ইমরুল কায়েস এব তরুণ ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। দুজনের ৪৪
বলে ৭০ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি ভাঙে ইমরুলের বিদায়ে।
১১তম ওভারের
প্রথম বলে আন্দ্রে রাসেলের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ২৩ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ২৮
রান করেন ইমরুল। একই ওভারের শেষ বলে ৩০ বলে ৮ চারে ৪৬ রান করা মাহমুদুলকেও
বোল্ড করেন ক্যারিবীয় অল-রাউন্ডার। ক্যামেরন ডেলপোর্ট (৩) রান-আউট হয়ে
ফিরলে ৮৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় কুমিল্লা। এরপর জোড়া আঘাত
হানেন কায়েস আহমেদ। ১৬তম ওভারের প্রথম এবং তৃতীয় বলে তুলে নেন আরিফুল হক
(১২) আর নাহিদুল ইসলামকে (০)। পুরোপুরি ব্যাকফুটে চলে যায় কুমিল্লা। আর
ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও ছিল না তাদের সামনে। ১৭.৩ ওভারে ১৩১ রানে অল-আউট হয়ে
যায় কুমিল্লা। ২.৩ ওভার বল করে ১৭ রানে ৩ উইকেট নেন আন্দ্রে রাসেল।
এর
আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮১ রান তোলে
মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা। যদিও তাদের শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় ৭ রানে মোহাম্মদ
শাহজাদকে (৬) লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মুস্তাফিজুর রহমান। ৪৮ রানের জুটি
গড়ে বিপদ সামাল দেন তামিম ইকবাল আর ইমরান উজ্জামান। ১৪ বলে ১৫ করা ইমরানকে
বোল্ড করেন বেদম মার খেয়ে ৩.৫ ওভারে ৪৬ রান দেওয়া করিম জানাত। উইকেটে আসেন
অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। তামিমের সঙ্গে তার জুটি জমে উঠেছিল। তখনই ছন্দপতন।
তানভীর
ইসলামের বলে করিম জানাতের তালুবন্দি হয়ে ফিরেন ৩৫ বলে ২ চার ৩ ছক্কায় ৪৬
রান করা তামিম। ভাঙে ৩০ রানের জুটি। এরপরের সময়টা যেন 'মাহমুদউল্লাহ শো'।
৪১ বলে ৩ চার এবং ৪ ছক্কায় ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন ঢাকা অধিনায়ক।
তাকে কেউ সঙ্গ দিতে পারেননি। আন্দ্রে রাসেল (৭), মোহাম্মদ নাঈম (১০)
শুভাগত হোম (৯) কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। ২* রানে অপরাজিত থাকেন
মাশরাফি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ঢাকার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১৮১ রান।