ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
কোলে চড়ে কেন্দ্রে এসেছে ভোট দিতে পারলেন না নাজিম
Published : Tuesday, 1 February, 2022 at 12:00 AM, Update: 01.02.2022 1:51:59 AM
কোলে চড়ে কেন্দ্রে এসেছে ভোট দিতে পারলেন না নাজিমশাহীন আলম, দেবিদ্বার ||
কুমিল্লার মুরাদনগর ইউপি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি বৃদ্ধ ষাটোর্ধ নাজিম উদ্দিন। দুই হাতে ভর করে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ভোট কেন্দ্রে আসেন তিনি। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাকে কোলে তুলে নিদিষ্ট ভোট কক্ষে পৌছে দেন তাকে। তবে ভোট না দিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু ভোট উৎসবে  শরিক না হওয়ার ইচ্ছাটা ঠিক আগের মতোই রয়েছে তাঁর। ভোটের তালিকায় নাম খুঁজে পাওয়া গেলেও বিপত্তি দেখা দেয় ভোট দিতে গিয়ে। তাঁর আঙুলের ছাপ চিহ্নিত করতে পারেনি ভোটিং যন্ত্র ইভিএম। ফলে ভোট না দিয়েই ফিরে যেতে হলো বৃদ্ধ নাজিম উদ্দিনকে। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের গুনজর উত্তর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। নাজিম উদ্দিন মুরাদনগর উপজেলার পূর্ব নবীপুর ইউনিয়নের গুনজর উত্তর পাড়া এলাকার বাসিন্দা।   
আবু হানিফ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, নাজিম উদ্দিন সম্পর্কে আমার দাদা হয়। তিনি প্রায় ৫১ বছর ধরে অসুস্থ। তাঁর ছেলে সন্তান নেই, তবে দুই মেয়ে রয়েছে। তাঁরা তাঁর সাথে থাকেন। এক সময়ে নাজিম উদ্দিনের বাবার বেশ সহায় সম্পদ ছিলো, এলাকায় নাম ডাকও ছিলো, এখন কিছুই নেই। বর্তমানে অর্থেকষ্টে সংসার চলে। সমাজের বিত্তশালী মানুষেরা মাঝে মাঝে তাকে সাহায্য করেন।  
বৃদ্ধ প্রতিবন্ধী নাজিম উদ্দিন জানান,  ৫১বছর ধরে এভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে চলাফেরা করি। অনেক চিকিৎসা করেছি, তবুও ভালো হয়নি।  অনেক আশা  করে ভোট দিতে এসেছিলাম, কি জানি মেশিনে কি সমস্যা আমার আঙ্গুলের ছাপ উঠে না, তাই ভোট দিতে পারলাম না, কেউ একজন বলছে হাতের বুড়া আঙ্গুল নাকি সাবান দিয়ে ভালমত  ধুয়ে আসতাম, আমি এ শরীর নিয়ে আবার আসতে পারব না তাই চলে যাচ্ছি। হুইল চেয়ার দিলে চেয়ারে বসে চলতে পারবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার শরীরে ওই শক্তি নেই, হুইল চেয়ারে বসে চলাচল করার, তাছাড়া সাহায্য করারও কেউ নেই, দুই মেয়ে আছে তাঁরা দুজনই স্বামী পরিত্যক্তা, অন্যের বাড়িতে কাজ করে। ছয় মাস পর পর প্রতিবন্ধী ভাতা পাই,  তবে এই ভাতায় কি আর সংসার চলে ? মুরাদনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদ আহাম্মদ বলেন, ‘বয়সের কারণে অনেকের আঙুলের ছাপ নিতে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। তবে ইভিএম এর সমস্যার কারণে ভোট দিতে সমস্যা হয়নি কারণ অন্য সবার ভোট দিতে সমস্যা হয়নি।