Published : Tuesday, 1 February, 2022 at 12:00 AM, Update: 01.02.2022 1:51:55 AM

রণবীর
ঘোষ কিংকর: নির্বাচনের ভোট গ্রহণে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে ইলেক্ট্রনিক্স
ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতি চালু করেছে নির্বাচন কমিশন। আর ওই ইভিএম
পদ্ধতিতে শুধুমাত্র হাতের আঙ্গুলের ছাপ বাধ্যতামূলক করায় ভোট প্রদানে
বিপাকে পড়ছেন অনেক ভোটার। যাদের বড় একটি অংশ নারী ও বয়স্ক ভোটার।
৬ষ্ঠ
ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ২১টি ইউনিয়নেই
ইভিএম পদ্ধতি ভোট গ্রহণ হয়। তবে ভোটগ্রহণে বেশ ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়। এর
পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা দেয় আঙ্গুলের ছাপ জটিলতা, অধিকাংশ ভোটার ইভিএম
পদ্ধতিতে অভ্যস্ত না থাকা এবং ভোট প্রদানে একধিক ধাপ থাকা। সোমবার (৩১
জানুয়ারি) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র ঘুরে এসব তথ্য
জানা যায়।
উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের নোয়াপুস্করিনী কেরামতিয়া দাখিল
মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রের ৫৫ বছর বয়সী ভোটার মোবারক হোসেন জানান, "আমি রিক্সা
চালাই, ভোট দিতে আইয়্যা দেহি আমার আঙ্গুলের ছাপ না কি মিলে না। কতক্ষন
চেষ্টা কইরা কইল পরে আইতাম।"
ওই কেন্দ্রের সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার
আব্দুর রহমান জানান, আমি কয়েকবার চেষ্টা করেছি ওনার ফিঙ্গার প্রিন্ট মিলছে
না। তাই পরে আসতে বলেছি।
একই অভিযোগ করেন জলেখা বিবি, মরিয়ম বেগম। তারা
জানান সকাল ৮টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি ভোট দিতে। ১২টার সময় ভিতরে গেলে
মেশিনে নাকি আমাদের আঙ্গুলের ছাপ মিলে না, কতকিছু লাগিয়ে ঘষে চেষ্টা করলো
তাও নিলো না। পরে আসতে বললো।
প্রিজাইডিং অফিসার বিপ্লব কুমার দে জানান, এ
কেন্দ্রে এ পর্যন্ত ১৪-১৫জন ভোটারের এমন সমস্যা পেয়েছি। মূলত যারা বয়স্ক ও
নারী ভোটার তাদেরই সমস্যা বেশি হচ্ছে।
এদিকে ভোটাররা ইভিএম পদ্ধতির ভোট
গ্রহণে হাতের আঙ্গুলের ছাপের পাশাপাশি ভোটারদের মুখচ্ছবি বা চোখের রেটিনা
সনাক্ত পদ্ধতি চালু করা জরুরী বলে মনে করেন।
বেসরকারি কলেজ শিক্ষক গৌতম
কুমার দেব জানান, গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ নারীরা গৃহস্থলীর কাজ বেশি করে
থাকেন। যে কারণে নারীদের হাতের আঙ্গুলের ছাপ নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া শ্রমিক
শ্রেণীর পুরুষদের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটে। ভোটার সনাক্তে বিকল্প সনাক্তকরণ
পদ্ধতি চালু করা দরকার।