
(রম্য গল্প)
আমরা আমড়া খাবো

কাজী মোহাম্মদ আলমগীর ||
আমরা
আমড়া খাবো। মজাদার ফল খাবোই তো। সবুজ ফল। পাকা ফল হলদে। ভিটামিন সিতে
ভরপুর। বরিশালে বেশি হয়। এখন সারাদেশে হয়। নার্সারির কল্যানে চাষ বেড়েছে।
স্ট্রিট ফল বিক্রেতার চাকুর কারুকাজে আমড়া এখন গোলাপ। পেছনে কাঠি। লবন মরিচ
মাখা আমড়া না খেয়ে থাকা যায়? কিন্তু কে বললো এমন কথা।
একক কোন ব্যক্তি বলেনি, ‘আমি আমড়া খাবো।’
কিছু
লোক, তারা যৌথভাবে আমড়া খাবে। আমরা ভাবতে পারি, কয়েকজন বালিকা অথবা বালক
নবম দশম শ্রেনির, স্কুলের পাশের বাড়িতে গিয়ে আমড়া গাছের দিকে তাকিয়ে হয়তো
একসঙ্গে বলেছে, ‘আমরা আমড়া খাবো।’ গাছ কার তারা জানতে চাইনি। গাছ হয়তো
তাদের কোন বন্ধুর। বেশি কিছু না, আপেল না আঙুর না, আম না, সামাণ্য আমড়া
খাবে তারা। খাবে ক্ষতি কী! মরসুমের ফল শরীরের জন্য ওষুধ। স্বাস্থ্যের জন্য
ভালো। কিন্তু আমাদের মতো কিছু লোক আছে না। গল্পখোর। যাদের নাক বড়। গন্ধ
খুুঁজে। যা বলা হয় তার চেয়ে বেশি জানতে চায়। তারা একটা ছুঁতা তৈরি করেছে,
কারা এমন যৌথ সুরে বলল, ‘আমরা আমড়া খাবো’-এর রহস্য বের করতে হবে। এরা বলে
এটা তাদের মহৎ বায়না।
অন্য কেউ বলে, ‘দুইটাই বায়না। যারা খেতে চায় এবং যারা খাওয়ার রহস্য জানতে চায়, উভয় পক্ষ বায়না ধরেছে।’
ফুকি
এসব দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গিলছিলো। শুনছিলো বললে কম হবে,গিলছিলো। ফুকি নগদ জীবন
যাপন করে। তার কোন কিছুতে বাকি নেই। কাজ বলতে তেমন কিছু জানে না। গতর
খাটে। কোথায় পাঠাবেন, জাহান্নামে! ফুকি চলে যাবে। হাতে কয়টা টাকা ধরিয়ে
দিলে হলো। পেটে সামাণ্য বিদ্যা আছে।
ফুকি তর্ক তুলে। ‘কিছু মানুষ আমড়া খাবে বলেছে তাতে তোমাদের কী। তোমরা গল্পখোর লোকেরা খুব গন্ধপ্রবন।’
‘কেন এ কথা বললি ফুকি।’
‘কেন তোমরা এসব জানতে চাও?’
‘আরে বেটা, যৌথবোধ প্রায় ক্ষিয়মান। অন্তত আমড়া ফলকে কেন্দ্র করে একটা যৌথতার কথা যারা বললো তাদের খুঁজ নেয়া কি অন্যায়!’
‘তোমারা
খুব চালাক। কথাটা ওল্টে দিলে। তোমাদের যৌথবোধ-টোদ ফাও কথা। টান- ফানও
ফাইজলামী। তোমাদের কোন কাজ নেই তো তাই এসব উল্টা পাল্টা বলছো।। মাল খসাও
খবর দিবো।’
‘কত দিবো ?’
‘পাঁচশ। এক টাকা কম হবে না।’
আমরা ফুকিকে পাঁচশ টাকা দিলাম। ফুকি এখন কী করে দেখবো।
ফুকি
এক দৌড়ে ফলপট্টিতে হাজির। ফল পট্টির বিল্লাল হোসেন তার চেনা জানা।
স্বাস্থবান ফর্সা বিল্লাল হোসেন। একক দোকানদার। সততার জন্য পরিচিত। দক্ষিণ
দিকের মুখপাতে তার দোকান। বাকি ফল ব্যবসায়ীরা রাস্তার উত্তর পাশে। ফুকি কথা
তোলে। কারা নাকি বলেছে, দেশের কোন শহরে অথবা পাশের কোন গ্রামে বা গঞ্জে
বা নগরে...।
‘কী বলেছে ফুকি?’
ফুকি বিস্তারিত বললে বিল্লাল হোসেন হা
করে থাকে। এর মধ্যে কোন জায়গাটা সমস্যা বিল্লাল হোসেন বুঝতে পারে না।‘আমরা
আমড়া খাবো’ এর মধ্যে সমস্যা কোথায়, বিল্লাল জানতে চায়।
ফুকি মহা সমস্যায় পড়ে। তবু বলে, ‘এই যে এক সঙ্গে আমড়া খাবে বললো।’
‘আরে
শালা, মানুষ একসঙ্গে কিছুদিন আগেও হেগেছে, বনে , খেতের আইলে , খাল পাড়ে।
কম লোকসংখার দেশে এসব সার। শুকিয়ে টুকিয়ে তরলে টরলে শস্যের জমিনে প্রাণ।
কিন্তু বেশুমার লোকসংখ্যায় বিষ, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তাই যৌথ হাগা
প্রায় ওঠে গেলো। তাতে মঙ্গল হলো। কিন্তু এখন দেখছি যৌথ খাওয়া বন্ধ করার
ফন্দি করা হচ্ছে। একা খাবি, খা। একটা আপেল কিনতে, দুইটা খেজুর কিনতে,
পাঁচটা আঙুর কিনতে তোর লজ্জা লাগবে না?’
ফুকি বলে, ‘তোমার কথা সত্য। কিন্তু কারা এমন কথা বললো, ‘আমরা আমড়া খাবো।’
‘শালা
তোর বাপ বলেছে। না তোর দাদা বলেছে। তোর দাদা কমদামে একবার আঙুর কিনে
বাড়িতে নিয়ে গেলো। তোর বাপেরা ৭ ভাই ৫ বোন। আঙুর মুখে দিয়ে দেখে টক। তারা
এই আঙুর খাবে না। তোর দাদি করলো কী, আঙুরের টক রান্না করলো। তখন সকলে মিলে
আঙুরের টক খেলো। সেই থেকে তো সব টক’
আরে দুত্তরি, ‘তোমার দ্বারা হবে না। আমার পাঁচশ টাকার খেপ পানি ।’
‘শালা ভাগ এখান থেকে। গিয়ে বল, যারা জানতে চেয়েছে তাদের বল , আমি বিল্লাল বলেছি, আমরা আমড়া খাবো। আমার পরিবারের সকলকে নিয়ে খাবো।’
ফুকি ফুস্। বেলুন ফুস্।
কিন্তু
পাঁচশ টাকার তেজ আছে না। চ্যালেঞ্জের বেলুন আবার ফুলে। ফুকি ফলের আড়তে
যায়। কথা দিয়ে কথা ধরতে চেষ্টা করে। ফুকি শুনতে পায়। আইলার বছর এবং পরের
বছর বড়িশালে আমড়ার ফলন কম হয়েছে। আমরা গাছ নরম । ঝড়ে বহু গাছ নষ্ট হয়েছে।
দুই বছর আমড়ার দাম ছিল বেশি।
ফুকি এক আড়তদারকে কথার কাছাকাছি নিয়ে আসে। কিন্তু লোকটা বলার সময় বলে, ‘বেটা তুমি চালাকি করতে আইছো। তুমি মাইর খাইয়া মইরা যাইবা।’
ফুকি ভয় পায়। কেন মার খাবে ফুকি লোকটাকে জিজ্ঞেস করার সাহস পায় না। আমরাও শুনে স্তব্দ ।
ফুকি পাঁচশ টাকা ফেরত দিয়ে চলে যায়। আমরা ফুকির চলে যাওয়ার মধ্যে ভীতি লক্ষ্য করি।
শহরে
ঘুরে ঘুরে বড় হলো যে ছেলেটা, হঠাৎ কেমন বদলে গেলো। কিন্তু আমাদের মাথায়
এর রেশ থেকে যায়। আমাদের কান ক্রমশ খাড়া হতে থাকে। আমরা খরগোস, ভয় পাওয়া
হরিণ। প্রেম সংক্রান্ত কলঙ্ক শ্রবনের মতো মনোযোগী কিন্তু শঙ্কাযুক্ত। আমড়া
বিষযক কোন কথা শুনলেই কান খাড়া হয়ে যায় আমাদের।
তারপর একদিন ফুকির
সঙ্গে আমাদের দেখা হয়। আসলে ফুকিই দেখা করতে আসে। ফুকির গাল নাক মুখ ফোলা।
চোখের নিচে কালো দাগ। ফুকি হাসপাতাল থেকে এসেছে। ফুকির এ অবস্থা কে করলো।
ফুকি বলতে চায় না।
ফুকি বলে, ‘আগে পাঁচশ টাকা দাও। তারপর বলবো। আমার অবস্থা খারাপ।’
আমরা
ফুকিকে পাঁচশ টাকা সহজে দিয়ে দেই। ফুকির তখন গলা বসে গেছে। ভাঙা গলায় বলে,
‘কথাটা আমরা আমড়া খাবো না। তোমরা ভুল শুনে এসছো এতোদিন। তোমরা যারা
গল্পখোর তোমরা কানে খাটো। যেটুকু শুনতে পাওনা সেটুকু বানিয়ে কও। কথাটা হলো,
‘আমরা আমরা খাবো।’
কী বলে ফুকি! ‘আমরা আমরা খাবো! তার মানে?’
ফুকি বলে, কিছু লোক আমাকে মার দিয়ে বলেছে, শালা গোয়েন্দাগিরি করো, তোমার আব্বাদের গিয়ে কইও, আমরা আমড়া খাই না। আমরা আমরা খাই।
ফুকিকে বলি, ‘লোকগুলো কারা?’
ফুকি বলে- ভেবে দেখো।
গল্পাট এখানে শেষ।
বি:
দ্র: ফুকি কিছু দিন পর মোবাইল ফোনে আমাদের বলে, ৭ ভাই ৫ বোন, এতে রয়েছে
সংখ্যা তত্ত্বের আরেক ইঙ্গিত, ৭ এবং ৫ একত্রে বা পাশাপাশি রাখলে হয় ৭৫। এই
৭৫ পরবর্তী সময় থেকে ‘আমরা আমরা খাবো’ বলা শুরু হয়েছে।
পিয়াস মজিদ-এর বই 'আমার সিনেমা ঘর'
এস এ এম আল মামুন ||
সিনেমা
জীবনের প্রতিচ্ছবি।সিনেমা দেখে দেখে এক জীবন পার করে দিয়েছেন এমন বহু
মানুষ আছেন।গভীর বিষন্নতাবোধ এ আক্রান্ত কোন ব্যাক্তি নতুন করে বাঁচার উপায়
খুঁজে পায় সিনেমা দেখার পর।একটি ভালো সিনেমা একজন মানুষ এর বাঁচার জন্য
নতুন প্রেরনা তৈরি করে।সিনেমা নিয়ে প্রিয় লেখক পিয়াস মজিদ এর বই আমার
সিনেমাঘর।ভাবা যায় একজন মানুষ সিনেমা থেকে কতটা গভীর অনুপ্রেরণা পেয়েছেন যে
গোটা একটা বই লিখে ফেলেছেন।সিনেমা নিয়ে আরো অনেকেই অনেক সাহিত্য রচনা
করেছেন।সবার থেকে পিয়াস মজিদ এর লেখা বইটি একটু আলাদা।একজন পাঠক যখন বইটি
হাতে নিবে প্রচ্ছদ দেখে মনে হবে আগেকার যুগ এর কোন ফিল্ম এর রিল।প্রচ্ছদ
দেখেই মনে হচ্ছে একটা আস্ত সিনেমা।প্রচ্ছদ শিল্পী তার মনের ভাবনার রঙ
মিশিয়ে দারুন এক দৃস্টি নন্দন প্রচ্ছদ করেছেন।সব্যসাচী হাজরা বইটির প্রচ্ছদ
করেছেন।বই টির শুরুতেই বিশিষ্ট চলচ্চিত্র গবেষক রূদ্র আরিফ এর এক টুকরো
লেখা বইটি সম্পর্কে,উনি বলেছেন দর্শক হিসাবে কবি পিয়াস মজিদ সিনেমা ঘোর
এখানে আঞ্চলিকতার জমিন ছুঁয়ে আন্তর্জাতিকতায় ডানা মেলেছে।আসলেই কিন্তু
বইটিতে রয়েছে লেখক এর প্রিয় সিনেমা চল্লিশ নিয়ে লেখা।দেশী বিদেশি নানা
ভাষার হরেক রকম গল্প নিয়ে হরেক রকম সিনেমা।এ জেন এক চলচ্চিত্র শিল্পের
ফেরিওয়ালা এসেছেন বাক্সভর্তি চলচ্চিত্র নিয়ে।প্রথমেই চোখে পড়বে চেরির স্বাদ
নামক একটা লেখা যেটি লেখা আব্বাস কিয়োরোস্তমনির 'স্টেট অফ চেরি' নামক
সিনেমা নিয়ে।লেখক এর চোখে পাঠক দেখতে এমনকি অনুধাবন করতে পারবেন
সিনেমাটিকে।অলিভের ছায়া শিরোনামে 'থ্রু দ্যা অলিভ ট্রিস'।এই লেখা টি পড়ে
মনে হবে সিনেমা দেখে লেখক সিনেমা নিয়ে আস্ত একটি কবিতা লিখে
ফেলেছেন।জীবনদ্বীপ, মৃত্যুদ্বীপ বা ময়নাদ্বীপ শিরোনাম দেখে অবাক হবার
কিচ্ছু নেই এখানে 'পদ্মা নদীর মাঝি' চলচ্চিত্র নয়ে।লেখক এই লেখার শেষ এ
একটি প্রশ্ন রেখে গিয়েছেন।আসলেই তো গন্তব্য কি ময়নাদ্বীপ? নাকি জীবনদ্বীপ
বা মৃত্যুদ্বীপ? জাদুকর এর মৃত্যকামী জীবনপ্রণালী শিরোনাম এ লিখেছেন সঞ্জয়
লীলা বানসালীর গুজারিশ সিনেমা নিয়ে।লেখক বলেছেন গুজারিশ একটা মুভি ছদ্মবেশী
কবিতা!গুলাবো সিতাবো কিংবা পুতুল নাচের ইতিকথা শিরোনাম এ লেখা আছে সুজিত
সরকার এর সিনেমা গুলাবো সিতাবো নিয়ে।আগুন এর বাগান, ছাইয়ের কবরী;লোরকা ও
দালি এই শিরোনাম এ লেখা পল মরিসন এর লিটল অ্যাশেজ সিনেমা নিয়ে। প্রতিটা
সিনেমার নামের পাশাপাশি লেখক পিয়াস মজিদ তৈরি করেছেন আলাদা আরেকটি
শিরোনাম।যেই শিরোনাম গুলি সিনেমার বিষয়বস্তুর সাথে ওতপ্রোতভাবে ভাবে
জড়িত।লেখক সিনেমা দেখার পর গভীর অনুধাবন এই শিরোনাম তৈরির সত্তা কে জাগ্রত
করেছে। প্রতিটি লেখা যেন একেকটি অমর কাব্য।দত্ত ভার্সেস দত্ত কিংবা আমি
ভার্সেস আমি শিরোনামে লেখা হয়েছে অঞ্জন দত্ত এর দত্ত ভার্সেস দত্ত সিনেমা
নিয়ে।লেখক লেখাটির শেষ এ লিখেছেন
“জীবন নামের মৃত্যু- মজলিশে বসে 'দত্ত ভার্সেস দত্ত' দেখি।
আমি
আমার আল্টার ইগো
ধূসর সময় আর তার সবুজ ভারসাম্য।“
সিনেমা
দেখে সিনামা নিয়ে এত সুন্দর কবিতা একজন শক্তিশালী লেখকই লেখতে পারেন।তারেক
মাসুদ এর মুভি মাটির ময়নার শিরোনাম দিয়েছেন লেখক মাটির ময়নার আকাশে উড়তে
চাওয়া।ব্যাবহার করেছেন দারুন শব্দশৈলী 'জন্মযুদ্ধের ধ্বনিমালা'।সৃজিত
মুখার্জির নির্বাক সিনেমা নিয়ে লেখাটির শিরোনাম দিয়েছেন কথা ও নিরবতার
ঘ্রান।হুমায়ূন আহমেদ এর শেষ চলচ্চিত্র ঘেটুপুত্র কমলা নিয়ে লেখাটির শিরোন
দিয়েছেন ঘেটুপুত্রের রক্তধারা,কান্মাবতী জলঘাথা।এরকম ভাবে চল্লিশটি সিনেমা
নিয়ে চল্লিশ টি লেখা এবং প্রতিটা লেখার একটি আলাদা শিরোনাম লেখক এর
নান্দনিকতার বহুমাত্রিক প্রকাশ।প্রতিটা শিরোনাম সিনেমার বিষয়বস্তুর সাথে
এতটা ওতোপ্রোতভাবে জড়িত যে শিরোনাম গুলি শুনলেই উপলব্ধি করা যায় ।পিয়াস
মজিদ এর লেখার অন্যতম বৈশিস্ট হচ্ছে সাবলীল ভাবে সহজ ভাষার প্রয়োগ এর
নান্দনিক ব্যাবহার।
বইয়ে আরো আছে পাঁচ পরিচালক এর কথা এবং কাহিনি।বোনের
শাড়িতে ভাইয়ের সিনেমার স্ক্রিপ্ট শিরোনামে বলেছেন ঋত্বিক ঘটক এর কথা।
লেখাটায় ঋত্বিক ঘঠক এর অনেক না জানা কথা আমরা জানতে পারব।তিতাস একটি নদীর
নাম ছবির বিষয় এ এমন একটি তথ্য দেওয়া আছে যা পড়ে আমিও চমকে উঠেছি।যারা বইটি
পড়বেন তারাও চমকে উঠবেন।
জীবনের জয়গান এবং জহির রায়হান এই শিরোনামে
লেখক লিখেছেন চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান এর কথা।জহির রায়হান ঘন্টার পর ঘন্টা
চায়ের দোকানে বসে থাকতেন কেন এই লেখাটি পড়ে জানতে পেরেছি।অনেক চমকপ্রদ
তথ্য পেয়েছি প্রিয় এই চলচ্চিত্রকারকে নিয়ে।
ঝিলটুলি থেকে 'মহাপৃথিবী'র মৃণাল সেন শিরোনামে লিখেছেন মৃণাল সেনকে নিয়ে।লেখক লিখেছেন
“আপনাকে খুঁজছি,মৃণাল সেন।
কোথায় আপনি?
আরে,ওই তো-ঝিলটুলি পেরিয়ে মহাপৃথিবীর পথে; আর কে!
আপনিই তো।
বুদ্বদেব
দাশগুপ্তের কূজনবাহার শিরোনামে লিখেছেন বুদ্বদেব দাশগুপ্ত কে নিয়ে।এখানে
লেখক ব্দ্বুদেব দাশগুপ্ত এর সিনেমা গুলি নিয়ে দারুন মনের ভাব প্রকাশ
করেছেন।
তারেক মাসুদঃকাছের মানুষ, দূরের দেখা শিরোনামে লিখেছেন প্রিয়
চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ কে নিয়ে।ঢাকার হলে লেখক এর দেখা প্রথম ছবি তারেক
মাসুদ এর মাটির ময়না।তারেক মাসুদ কে নিয়ে লেখক এর আবেগীয় স্মৃতিকাতরতা এই
লেখায় আছে।
তাঁহারা শিরোনামে লেখক লিখেছেন তিন নায়িকা কে নিয়ে।এবং
শাবানা আজমি শিরোনামে শাবানা আজমি এর সিনেমাগুলি নিয়ে। দীপুর মা থেকে গ্রাম
পালানো গোলাপী নামের মেয়ে শিরোনামে লিখেছেন চিত্রনায়িকা ববিতাকে নিয়ে।লেখক
এর অনুভব বলেছেন এই সমাজের 'দীপুর মা, দীপুদের মা ববিতা।(দীপু নাম্বার টু
সিনেমায় দীপুর মা চরিত্রে ববিতা অভিনয় করেছিলেন)।মৌনমুখর জয়া আহসান
শিরোনামে লিখেছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী জয়া আহসানকে
নিয়ে।জয়া আহসান এর ব্যাতিক্রম ধর্মী হরেক রকম সিনেমার হরেক রকম চরিত্র
নিয়েই মূলত লেখক এখানে বলেছেন।
পরিশেষে তে লিখেছেন দুই জন জনপ্রিয়
চলচ্চিত্রের মানুষ কে নিয়ে। বুনুয়েলের শেষ দীর্ঘশ্বাস শিরোনামে লিখেছেন
স্পেনীয় চলচ্চিত্র পরিচালক লুইস বুনুয়েল কে নিয়ে।এখানে লেখক লুইস বুনুয়েল
এর আতœজীবনী এর বিষয় এ! বলেছেন।
তুমি অনন্য, ঋতুপর্ণ শিরোনামে লিখেছেন
ওপার বাংলার জনপ্রিয় চলচ্চিত্রকার ঋতুপর্ণ কে নিয়ে লেখা 'প্রথমা এখন'
ম্যাগাজিন এর ঋতুপর্ণ ঘোষ সংখ্যা নিয়ে।
এর পর সর্বশেষ এ দেখতে পারবেন
সিনামের পোস্টার গুলি।ঝকঝকে কালার এর দারুন চাপানো পোস্টার গুলি আসলেই
বইয়ের এক দারুন আবেদন তৈরি করেছে।
আমার কাছে মনে হয়ে পিয়াস মজিদ এই বইটি
সাহিত্যের জগতে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকবে।সিনেমা নিয়ে এত সুন্দর সাবলীল
রচনা খুব কমই হয়।একজন লেখক যখন দর্শক হিসাবে তার দেখা সিনেমা নিয়ে অনুভূতি
প্রকাশ করেন তখন তার আবেদন ভিন্নমাত্রা তৈরি করে। যে কোন পাঠক এই বইটি পড়লে
তার সিনেমা দেখতে ইচ্ছা হবে।এটাই হচ্ছে সাহিত্যের রস।বই পড়ার পর সিনেমা
দেখতে ইচ্ছা হয় এমন বই খুব কম আছে।আমি ফেসবুকে সিনেমা বিষয়ক গ্রুপে প্রথম
পিয়াস মজিদ এর সিনেমা রিভিউ পড়ি।আর যখন শুনলাম সিনেমা নিয়ে লেখক পিয়াস মজিদ
এর আস্ত একটা বই বের হয়েছে তখন প্রমোদ ঘুনতে শুরু করি।বই মেলা শুরুর দিকে
শুক্রবার ভর দুপুরে একুশের বই মেলায় ঐতিহ্য এর স্টল এ গেলাম বইটি খুঁজতে
বন্ধু নিজাম উদ্দিন রাব্বি সহ কিন্তু দুঃখভারাকান্ত মন নিয়ে ফিরে আসি তখনো
বইটি মেলায় যুক্ত হয় নি।পরে কুমিল্লা নির্বাচিত বই এর স্টল এ পেলাম এ বছরের
বই মেলার সভচাইতে কাংখিত বইটি।লেখক এবং লেখক এর সন্তান 'আমার সিনেমাঘর' বই
টির জন্য জানাই অনেক অন্রক শুভকামনা।
লেখাঃপিয়াস মজিদ এর 'আমার সিনেমা ঘর' বই এর রিভিউ
লেখকঃ মুভি ক্রিটিক, রিভিউ লেখক(আইএমবিডি)