
টিকা নিয়ে যেভাবে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছে তাতে সব দেশ চেষ্টা করছে তাদের নাগরিকদের জন্য টিকা নিশ্চিত করতে। এই দৌড়ে সবার আগে যুক্তরাজ্য বেশ এগিয়ে। সর্বশেষ যুক্তরাজ্য ৪ কোটি ফ্রান্সের উৎপাদিত ভ্যালনেভা টিকার অর্ডার দিয়েছেন।
দেশটির সরকার বলেছে, আগামী শীতে যেন মানুষের টিকা পেতে না সমস্যা হয়, সেই জন্য তারা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। সর্বশেষ তথ্যমতে যুক্তরাজ্য প্রায় ৪০ কোটি ৭০ লাখ টিকার বিষয়টি সুরক্ষিত করেছে।
ফ্র্যান্সের ভ্যালনেভা টিকাটি এখন দেশটিতে ট্রায়েল পর্যায় রয়েছে। মূলত যুক্তরাজ্য বর্তমানে বিভিন্ন টিকা কোম্পানির কাছে যে পরিমাণ অর্ডার দিয়েছে তা দেশটির মানুষদের তুলনায় অনেক বেশি। মূলত দেশটিতে যাতে সামনের দিনগুলোতে কোনো ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে না হয় তাই এমন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, দেশটিতে ১০ কোটি অক্সফোর্ডের এস্ট্রাজেনেকা, ফ্রান্সের ভ্যালনেভা ১০ কোটি, গ্লাসগোস্মিতক্লিন ৬ কোটি, নোভাভাক্স ৬ কোটি, ফ্রাইজার বায়োটেকের ৪ কোটি, জানসিন ৩ কোটি ও মর্ডানার ১ কোটি ৭০ লাখ টিকার অর্ডার দেওয়া হয়েছে। সরকার বলছেন, তারা দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়ার জন্য ৬ কোটি ডোজের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
বিজনেস সেক্রেটারি কোয়াসি কোয়ারটিং বলেন, ২০২১ সালে যাতে দেশটির মানুষ যেন ভয়াবহ অবস্থার মধ্য দিয়ে না যায় সেই জন্য প্রয়োজনের বেশি টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভ্যাকসিন মন্ত্রী নাদিম জাহাওয়াই বলেন, যদি যুক্তরাজ্যের কাছে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি টিকা থাকে তালে আমরা অন্যান্য দেশে তা দিয়ে দেব।
হ্যানকক টিকার যোগান নিয়ে বলেন, এটি খুবই আশা ব্যাঞ্জক যে যুক্তরাজ্য আরো ৪ কোটি ভ্যালনেভা টিকা নিশ্চিত করেছে।
টিকা আগাম নিশ্চিতকরণের পেছনে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে এটা নিয়ে আফসোসের কোনো কারণ নেই। যুক্তরাজ্য ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় জন্য আগাম বিনিয়োগ করছে।
ইতিমধ্যেই দেশটিতে প্রায় ১ কোটি মানুষ তাদের প্রথম ডোজ টিকা পেয়েছেন। ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১.৫ কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি রয়েছে যুক্তরাজ্য।