
দ্বাদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৫৫নং কুমিল্লা-৭ আসনে নৌকা প্রতীক প্রার্থী অধ্যাপক
ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত ও ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুনতাকিম আশরাফ
টিটুর সমর্থকদের মধ্যে বেড়েই চলছে সংঘর্ষ। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায়
উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। তবে দুই পক্ষের নানা অভিযোগ থাকলেও কোন
ঘটনার দায় নিচ্ছেন না কোন প্রার্থী বা সমর্থক।
শনিবার এক দিনে
সর্বোচ্চ ৫টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে নৌকা শিবিরে ৪টি হামলায় নৌকার ৬
নেতা-কর্মী মারাত্মক আহত হয়। এছাড়া ৪টি গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় ৩টি ঈগল
সমর্থকদের অপরটি নৌকার। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় থানায় ৩টি অভিযোগ
দায়ের করা হয়। এর মধ্যে নৌকা সমর্থক ৬ নেতা-কর্মী আহতের ঘটনায় একটি মামলা
আমলে নিয়ে নথিভূক্ত করেছে পুলিশ।
জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে ঈগল
সমর্থিত প্রার্থী মুনতাকিম আশরাফ টিটু’র পিতা মরহুম অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২১
সালের ৩০ জুলাই তিনি মৃত্যু বরণ করলে উপ-নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়
নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেকিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য
বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। তারপর থেকেই মনস্তাত্ত্বিক
দ্বন্দ্ব শুরু হয় দুই গ্রুপের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর মাঝে। চলতি
নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তকে আবারও
মনোনয়ন দেয়ায় তা মেনে নিতে পারেননি মুনতাকিম আশরাফ। পিতার অনুসারী
নেতা-কর্মীদের পূঁজি করে এবারের সংসদ নির্বাচনে ঈগল প্রতীক নিয়ে
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে এ পর্যন্ত দুই
পক্ষের হামলা-ভাংচুরের ২০টি পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। রিটার্নিং
অফিসার থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
করেন। গত ৩০ ডিসেম্বর (শনিবার) সন্ধ্যা থেকে রাত সাাড়ে ৭টা পর্যন্ত ৪টি
স্থানে ৫টি পৃথক হামলার ঘটনা ঘটে।
তারমধ্যে সন্ধ্যায় উপজেলার গল্লাই
ইউনিয়নে গল্লাই আবেদানূর কমপ্লেক্স এলাকায় নৌকার নির্বাচনী অফিসে ঈগল
সমর্থিত নেতা-কর্মীরা হামলা করে। মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে একই স্থানে
আবারও ঈগল সমর্থিত নেতা-কর্মীদের হামলায় নৌকা প্রতীকের ৫নেতা-কর্মী
রক্তাক্ত হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
আনলে তাদের মধ্যে ৩জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ পাঠানো
হয়। এক ঘন্টার ব্যবধানে একই ইউনিয়নে কালিয়ারচর বাজারে হামলার ঘটনায় এক নৌকা
সমর্থিত কর্মী সাবেক ইউপি সদস্য আহত কুপিয়ে আহত করায় আহতের সংখ্যা বেড়ে
৬জনে দাঁড়ায়।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পৌরসভার ছায়কোট এলাকায় ঈগল প্রতীকের
স্বতন্ত্র প্রার্থীর গাড়ি বহরে হামলায় তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এসময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর গাড়ি বহরের ৩টি গাড়ি ভাংচুর করায় ঈগলের তিন
সমর্থক কমবেশি আহত হয়।
রাত সাড়ে ৭টায় নবাবপুর ইউনিয়নের আটচাইল গ্রামে
নৌকার নির্বাচনী গাড়ি বহরে হামলা করা হয়। এসময় নৌকার একটি মাইক্রো বাসের
কয়েকটি গ্লাস ভেঙ্গে ফেলে ঈগল সমর্থিতরা।
নৌকা প্রতীকের নেতা-কর্মীর
উপর হামলার পৃথক ঘটনায় দুইটি লিখিত অভিযোগের মধ্যে ৩১জনের নাম উল্লেখ করা
হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় মুনতাকিম আশরাফ টিটু
নিজেই বাদী হয়ে নৌকার ৮জনের নাম উল্লেখ করে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।
এর
আগের দিন শুক্রবার রাত ৩টায় পৌরসভার ছায়কোটে গ্রামে ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ
কার্যালয়ের তালা ভেঙ্গে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনাটি ঈগল প্রতীক
সমর্থকরা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন নৌকা প্রতীকের নেতা-কর্মীরা। একই রাত
৯টায় নৌকার মিছিলের সময় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আবু তাহের এর বাড়ির
টিনের নিরাপত্তা বেস্টুনি ভাঙ্গার অভিযোগ উঠে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী
মুনতাকিম আশরাফ টিটু জানান, আমি নেতা-কর্মী নিয়ে গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে
নৌকা সমর্থিত নেতা-কর্মীরা আমার গাড়ি বহরে হামলা চালায়। তারা আমাদের ৩টি
গাড়ি ভাংচুর করে এবং আমাদের তিন নেতা-কর্মী আহত করে। তিনি অভিযোগ করে
বলেন, শুরু থেকেই আমার নেতা-কর্মীদের উপর হামলা করা হচ্ছে। আমি বিভিন্ন
স্থানে অভিযোগ করেছি।
নৌকা প্রতীক প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক
ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত জানান, আমি চাইনা আমার রাজনীতি করতে এসে কেউ খুনোখুনি
করে প্রাণ হারাক। আমি সংঘাতের রাজনীতি নিজেও করিনা আমার কোন নেতা-কর্মীকে
করতেও দেই না। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দ নেয়ার পর থেকেই
নৌকার লোকজনের উপর যেভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে জননেত্রী শেখ
হাসিনার নৌকা প্রতীক প্রতিহত করাই তার বড় চ্যালেঞ্জ। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু
বিচার কামনা করছি।
চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আহাম্মদ সনজুর
মোরশেদ জানান, প্রতিটি পৃথক ঘটনা শুনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন
করেছি। ৬ জনকে আহত করার ঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। গাড়ি ভাংচুরের
অভিযোগ আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
