সোমবার ১৭ জুন ২০২৪
৩ আষাঢ় ১৪৩১
ব্রাহ্মণপাড়ায় দুশ্চিন্তায় কৃষকেরা
খরতাপে পানিশূন্য আউশের বীজতলা
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ মে, ২০২৪, ১:১৮ এএম |

খরতাপে পানিশূন্য আউশের বীজতলা

ইসমাইল নয়ন।। চলতি বছর স্মরণকালের ভয়াবহ তাপমাত্রার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। মাঝখানে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আসলেও আবারও বাড়তে শুরু করেছে তাপমাত্রা। এসময় অনাবৃষ্টির কারণে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় রোদের খরতাপে পানিশূন্য হয়ে পড়েছে আউশ ধানের বীজতলা। এতে বীজতলার মাটি ফেটে চৌচির হয়ে বীজতলা নষ্ট হয়ে পড়ছে। যার ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েছে ওই উপজেলার কৃষকেরা।
কৃষকেরা বলছেন, বৈশাখ মাসে তীব্র খরা শেষে কিছুটা বৃষ্টি হয়েছিল। সেই বৃষ্টির পানি দিয়েই আউশের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। বৈশাখ মাস শেষ হয়ে জৈষ্ঠ্যমাস শুরু হয়ে গেছে, কিন্তু এখন আর বৃষ্টির দেখা নেই। আবারও এই খরা দেখা দেওয়ায় জমি থেকে পানি শুকিয়ে মাটি ফাটতে শুরু করেছে। পানির অভাবে বীজতলা নষ্ট হয়ে পড়ছে। এভাবে আরও কিছুদিন চললে এই উপজেলায় ব্যাহত হবে আউশ চাষ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, আউশ মৌসুমে এ উপজেলায় বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৭৩.৯৫ হেক্টর। তবে খরার কারণে বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ২৩২ হেক্টর। এ বছর আউশধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ হাজর ৪৯৬ হেক্টর। অনাবৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও বীজতলায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ বীজতলা সুরক্ষিত রাখতে সেচের মাধ্যমে পানি দিতে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার দুলালপুর, শিদলাই, চান্দলা, শশীদল ও সদর ইউনিয়নের ফসলি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টি না হওয়ায় তীব্র রোদে বীজতলার পানি শুকিয়ে গেছে। কোন কোন বীজতলার মাটি পানিশূন্য হয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। পানির অভাবে নষ্ট হয়ে পড়ছে বীজতলা। কোন কোন বীজতলা জলাশয়ের পাশে হওয়ায় কৃষকেরা পানিশূন্য বীজতলায় সেচের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করছেন। এরকম বৈরী পরিস্থিতিতে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ লক্ষ্য করা গেছে। শীঘ্রই বৃষ্টি না হলে আউশ আবাদ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানান কৃষকেরা।
উপজেলা সদরের দীর্ঘভূমি এলাকার কৃষক ইমন মিয়া বলেন, 'আমি প্রতি বছর ৫২ শতক জমিতে আউশধান চাষ করি। সে লক্ষ্যে বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে বীজতলা তৈরি করেছিলাম। তবে এই মুহূর্তে অনাবৃষ্টির কারণে পানির অভাবে আমার বীজতলার মাটি শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। বীজতলা নষ্ট হয়ে গেলে আউশ আবাদে আমাকে বিপাকে পড়তে হবে।'
উপজেলার শিদলাই এলাকার কৃষক মোবারক হোসেন জানান, তিনি যেখানে বীজতলা তৈরি করেছেন এর কাছাকাছি কোন জলাশয় নেই। যে কারণে তার বীজতলায় খরার কারণে আউশ ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ বছর তাঁর ৬৯ শতক জমিতে আউশ আবাদের কথা রয়েছে। তবে খরার কারণে বীজতলা নষ্ট হয়ে গেলে তাকে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।
উপজেলার মহালক্ষীপাড়া এলাকার কৃষক মুমিনুল ইসলাম বলেন, 'টানা খরার কারণে বীজতলায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। শ্যালো মেশিন দিয়ে খাল থেকে পানি তুলে জমিতে সেচ দিচ্ছি। শিগগিরই বৃষ্টি না হলে এ উপজেলায় অনেক বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।'
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাসুদ রানা বলেন, 'ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় এ বছর আউশ ধানের বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭৩ হেক্টর। এখনো পর্যন্ত প্রায় ২৩২ হেক্টর জমিতে আউশের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে আউশ বীজতলা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে সুস্থ ও ভালো মানের চারা নিশ্চিত করার জন্য আমরা শতভাগ আদর্শ বীজতলা নিশ্চিত করার জন্য কৃষক ভাইদের পরামর্শ দিয়ে আসছি।
তিনি আরও বলেন,বীজতলায় চারা এখন প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। এসময়ের পরিচর্যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে কৃষকদের বীজতলায় পর্যাপ্ত পানি রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।'














সর্বশেষ সংবাদ
কুমিল্লায় ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৮টায়
‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর আরাফাতের ময়দান
বেশি ভাড়া রাখায় উপকূল পরিবহনকে জরিমানা
কুমিল্লায় সড়কে ঝরলো ৫ প্রাণ
কোরবানির পশুর হাটে শেষ মুহূর্তে জমজমাট বেচাকেনা
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
কুমিল্লায় ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৮টায়
ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হোক
বেশি ভাড়া রাখায় উপকূল পরিবহনকে জরিমানা
লালমাইয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কলেজ ছাত্রের মৃত্যু
দাউদকান্দিতে ১০ কি.মি দীর্ঘ যানজট
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২ | Developed By: i2soft