কারও কাছে
তিনি ‘বিস্ময় বালক’, কারও কাছে ‘নতুন পেলে।’ এত আলোচনা, এই হইচই, সেসব যে
বাড়াবাড়ি নয়, সেই ঝলক যেন দেখিয়ে দিলেন এন্দ্রিক। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার
গোলই জেতাল ব্রাজিলকে। তাকে নিয়ে উচ্ছ্বাস-আলোচনার স্রোতেও তাই এখন নতুন
জোয়ার। সেখানে শামিল দরিভাল জুনিয়রও। ব্রাজিলের কোচের বিশ্বাস, এই মানসিকতা
ধরে রাখতে পারলে একদিন বিশ্ব ফুটবলের বড় নাম হয়ে উঠবেন ১৭ বছর বয়সী এই
ফরোয়ার্ড।
প্রীতি ম্যাচে শনিবার এন্দ্রিকের গোলেই ইংল্যান্ডকে হারায়
ব্রাজিল। গোলটি এমন দারুণ বা চোখধাঁধানো কিছু ছিল না। তবে ১৭ বছর বয়সে
ওয়েম্বলিতে ইংলিশদের বিপক্ষে স্নায়ুর চাপ সামলে গোল করাটাও চাট্টিখানি কথা
নয়।
ক্লাব বা দেশের হয়ে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করার রেকর্ডটি এখন এন্দ্রিকেরই।
তুমুল
প্রতিভাবান বলেই তার দিকে অনেক আগে থেকে নজর ছিল ইউরোপের বড় বড় ক্লাবের।
শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে রেয়াল মাদ্রিদ। আগামী জুলাইয়ে ইউরোপের সফলতম ক্লাবে
যোগ দেবেন তিনি।
ব্রাজিলের জার্সিতে তার অভিষেক হয় গত নভেম্বরে।
কলম্বিয়ার বিপক্ষে যখন বদলি হিসেবে মাঠে নামেন, ৫৭ বছরের মধ্যে তিনিই ছিলেন
ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষিক্ত সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার। দেশের হয়ে তৃতীয় ম্যাচেই
পেলেন প্রথম গোলের স্বাদ। বদলি হিসেবে মাঠে নামার মিনিট দশেকের মধ্যে গড়ে
দিলেন ম্যাচে ব্যবধান।
একদম শেষ সময়ে গোলের আরও একটি সুযোগ তিনি পেয়েছিলেন। তবে পারেননি কাজে লাগাতে। তবু ম্যাচের নায়ক তিনিই।
গোলের পর তার বাঁধনহারা উদযাপনেই ফুটে উঠছিল উচ্ছ্বাসের মাত্রা। পরে তা মিশে থাকল তার প্রতিক্রিয়াতেও।
“অনন্য
অনুভূতি এটি, এখনও চেষ্টা করছি হজম করে উঠতেৃ। আমার পরিবার আছে এখানে,
আমার বান্ধবী, এজেন্ট, সবাই আছেৃ। আমি এমন নই যে খুব কান্নাকাটি করি,
নিজেকে সামলে রাখছি। তবে সত্যিই এটা অনন্য এক অনুভূতি, আমি খুবই খুশি।”
এন্দ্রিকের
প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত কোচ দরিভাল জুনিয়রও। ব্রাজিলের কোচ হিসেবে প্রথম
ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করলেন তিনি। সেই স্বস্তির পাশাপাশি এন্দ্রিককে নিয়েও
তার আছে উচ্চাশা। ব্রাজিলের কোচের বিশ্বাস, ঠিক পথে থাকতে পারলে বিশ্ব
ফুটবলের নক্ষত্র হয়ে উঠবেন এই তরুণ।
“এখনও পর্যন্ত যে মানসিকতা সে
দেখিয়েছে, তা যদি ধরে রাখতে পারে, তাহলে সে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ও বিশ্ব
ফুটবলের খুবই গুরুত্বপূর্ণ নাম হবে।”