
অপেক্ষার
প্রহর শেষ হয়েছে। বুধবার দুপুরে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের কনফারেন্স
রুমে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড
(বিসিবি)। সাকিব আল হাসানকে অধিনায়ক করে ১৫ সদস্যের মূল দল ঘোষণা করা
হয়েছে। সেখানে বাদ পড়েছেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
রিয়াদ
বাদ পড়লেও বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ফেরানো হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তকে।
অথচ তেমন কিছু না করেই! টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নাজমুল হাসান শান্তর
পরিসংখ্যান মোটেও সুখকর নয়। ৯ ম্যাচে ১৮.৫০ গড়ে শান্তর রান ১৪৮,
স্ট্রাইকরেট ১০৪.২২। এমন পারফরম্যান্সে এশিয়া কাপের দল থেকে তাকে বাদ পড়তে
হয়েছে। মূলত অন্য টপ অর্ডারদের ফর্মহীনতা ও কন্ডিশন বিবেচনাতে টিকে গেছেন
তিনি।
শুধু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপই নয়, এই দলটি নিউজিল্যান্ডে
অনুষ্ঠিতব্য ত্রিদেশীয় সিরিজও খেলবে। বিশ্বকাপের দলটিই মূলত ত্রিদেশীয়
সিরিজের দল। তবে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ত্রিদেশীয় সিরিজে মূল দলের সঙ্গে
চার ক্রিকেটারকে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের বাইরে
থাকা সৌম্য সরকার আছেন এই তালিকায়। এছাড়া শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসাইন, শেখ
মেহেদী হাসানকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। কারও ইনজুরির সুবাদে স্ট্যান্ডবাই
তালিকা থেকে মূল দলে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।
সাবেক অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ
ছাড়াও বাদ পড়েছেন এনামুল হক, পারভেজ হোসেন ইমন। শেখ মেহেদীরও মূল দলে জায়গা
হয়নি। মুশফিক তো এশিয়া কাপ থেকে ফিরেই অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। মুশফিকের
অবসরের ঘোষণার পর মাহমুদউল্লাহর অবসর নিয়ে আলোচনা ছিল সর্বত্র। শেষ পর্যন্ত
মাহমুদউল্লাহ অবসর না নিলেও টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে বাদ দিয়েই দল ঘোষণা
করেছে।
এছাড়া ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন ইয়াসির আলী রাব্বি, হাসান মাহমুদ,
নুরুল হাসান সোহান ও লিটন দাস। ইয়াসির আলী দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ইনজুরিতে
পড়ে ছিটকে যান। ওই হিসেবে প্রায় ৫ মাস পর ফিরলেন এই ব্যাটার।
জিম্বাবুয়ে
সিরিজে অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া সোহান এবং লিটন দাস ইনজুরির কারণে এশিয়া
কাপে খেলার সুযোগ হারিয়েছিলেন। অন্যদিকে ইনজুরির কারণে জিম্বাবুয়ে সিরিজে
যেতে পারেননি হাসান মাহমুদ। সোহান এবার অবশ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত
সাকিবের ডেপুটি হিসেবে থাকবেন।
বাংলাদেশ দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে
নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে। স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড ছাড়া
বাংলাদেশের আরেক প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। মূলত অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য ত্রিদেশীয় সিরিজটি কাজে লাগবে। এরপর সেখান থেকে
বাংলাদেশ দল সরাসরি চলে যাবে অস্ট্রেলিয়ায়। গিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকা ও
আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে অংশ নেবে।
২৪ অক্টোবর
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মিশন শুরু হবে প্রথম পর্ব পেরিয়ে আসা
দলের সঙ্গে। ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের মুখোমুখি হবে সাকিবের দল। দ্বিতীয়
ম্যাচ ২৭ অক্টোবর সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ
আফ্রিকা। ব্রিসবেনের গ্যাবায় ৩০ অক্টোবর বাংলাদেশ খেলবে ‘বি’ গ্রুপের
চ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে। অ্যাডিলেডে বাংলাদেশের শেষ দুটি ম্যাচ খেলবে ভারত ও
পাকিস্তানের বিপক্ষে। ২ নভেম্বর ভারত ও ৬ নভেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে
ম্যাচ খেলবে সাকিবের দল।