ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
কুবির নতুন শেখ হাসিনা হলের কক্ষ দখল, জানেনা প্রশাসন
Published : Tuesday, 2 August, 2022 at 12:00 AM
সাঈদ হাসান, কুবি ||
দীর্ঘ পাঁচ বছর প্রতীক্ষার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শেখ হাসিনা হল উদ্বোধন হয়েছে রবিবার(৩১জুলাই)। ছাত্রীদের আবাসন সংকট নিরসনের জন্য ৩৭০ জনকে সিট বরাদ্ধ দেওয়া হয়। কিন্তু উদ্বোধনের ১ দিন পার না হতেই অনেকগুলো কক্ষে তালা মেরে দখলের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের নেত্রীদের বিরুদ্ধে। তবে তালা দেওয়ার বিষয়ে জানে না হল প্রশাসন।
সরেজমিনে দেখা যায়, শেখ হাসিনা হলের ২১৩, ২১৪,  ২১৫, ২০৭, ২০৮, সহ তৃতীয় তলার ২-৩টি রুমে ও নিচ তলায় কয়েকটি রুমে তালা দেয়া।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক হলটির একটি কক্ষের শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের বরাদ্দকৃত রুম ছাত্রলীগ তালা দিয়ে রেখেছে। আমরা রুমে এসে কেউ ঢুকতে পারছি না। আশেপাশের অনেকগুলো রুম তালা দেওয়া। ছাত্রলীগ যদি রুম তালা দিয়ে রাখে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেন আমাদের হলে সিট দিল।
আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন ছাত্রলীগের কর্মীদেরকে সিঙ্গেল বেড দিয়েছে, আর আমাদেরকে ডাবলিং দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মত জায়গায় এরকম বৈষম্য চোখে লাগার মত। আজকে এসে দেখলাম এখানে নিরাপত্তা প্রহরী নাই। আমাদের কে বলছে রুমে মালামাল রাখতে কিন্তু আমার জিনিসপত্র যে নিরাপদ থাকবে এটার ও কোন নিশ্চয়তা পাচ্ছিনা।
রুম দখলের বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, এখানে প্রশাসন হলের সিট নিদিষ্ট করে দিয়েছে। অন্যদের রুমে যদি ছাত্রলীগের কেউ তালা দিয়ে থাকে এবং এটি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাধ্যক্ষ মো. সাহেদুর রহমান বলেন, তালা মারার বিষয়টি আমি শুনেছি। কে তালা মেরেছে এখনো জানতে পারিনি। তবে আমরা যেভাবে সিট বরাদ্দ দিয়েছি সেভাবেই তাঁরা রুম পাবে।
তিনি আরও বলেন, আমি উদ্বোধনের আগের দিন রেজাল্ট তৈরি করে উপাচার্য স্যারকে দেখিয়েছি। ছাত্রলীগকে প্রায়োরিটি দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।
হলের নিরাপত্তা এবং রুম দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকীর বলেন, আমি আপনার কাছ থেকে মাত্র শুনেছি। হলের বিষয়ে তো আমি কিছু করতে পারবো না। এই বিষয়ে প্রভোস্ট যদি আমাকে অভিযোগ করে তাহলে আমি ব্যবস্থা নিতে পারবো।
তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে উপাচার্য প্রফেসর ড. এ. এফ. এম. আব্দুল মঈনকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি প্রতিবেদকের কল রিসিভ করেননি।