
কদিন আগেই চাকরিতে যোগ দেন মবিনুল হক। বিস্ফোরণে উড়ে যায় তার এক পা। আগুন লাগার পরপরই বাবাকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছিলেন মবিনুল। সে সময় বিস্ফোরণে একটি পা উড়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে বাবার কাছে মাফ চেয়ে নেন তিনি।
ফোনে বাবাকে মবিনুল বলেছিলেন, ‘বাবা কিছুক্ষণ পর পর এখানে বিস্ফোরণ হচ্ছে। আমার পা উড়ে গেছে।’ এরপরই লাইন কেটে যায়।
ফোনে হঠাৎ ছেলের আর্তনাদ শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন বাবা ফরিদুল হক। এরপরও ছেলের কণ্ঠ শোনার অপেক্ষায় ফোন কানে ধরে রাখেন অনেকক্ষণ। কিন্তু না, ছেলের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি। ছেলের এমন খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে রাতেই বাঁশখালী থেকে শহরে চলে আসেন তিনি। ছেলের খোঁজ না পেয়ে স্বজনদের পাঠান হাসপাতালে। শনিবার রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মবিনুলের লাশ শনাক্ত করেন তারা। ডিপোতে বিস্ফোরণে নিহতদের মধ্যে সর্বপ্রথম শনাক্ত করা লাশটিই ছিল মবিনুলের।
মবিনুলের বাবা ফরিদুল হক বলেন, ফোনেই সে চিৎকার করে বলছিল- বাবা এখানে কিছুক্ষণ পর পর ব্লাস্ট হচ্ছে। দ্বিতীয়বার ফোন করে বলেছিল- বাবা আমার একটা পা উড়ে গেছে। আমাকে কালেমা পড়ে দেন। এটাই আমার সঙ্গে তার শেষ কথা।
কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের একটি সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করে বিএম ডিপোতে চাকরি নেন মবিনুল। বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া এলাকার বাসিন্দা তিনি। চাকরি নেয়ার পর থেকে চলছিল তার বিয়ের কথাবার্তা।
একই ডিপোতে কর্মরত রয়েছেন মবিনুলের চাচাতো ভাই তায়েব। মবিনুল আইসিটি কাউন্টারে কাজ করতেন। আগুন লাগার পর দেখতে গিয়ে তিনি দুর্ঘটনায় পড়েন বলে ধারণা করছেন তায়েব।
এদিকে, ৩৬ ঘণ্টা পেরোলেও ডিপোর আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে নিয়ন্ত্রণকাজ অব্যাহত রেখেছে ফায়ার সার্ভিস।
সোমবার সকালে দেখা গেছে, ডিপোর ভেতর পশ্চিমপাশে কনটেইনারে জ্বলছে আগুন। আশপাশের কয়েকটি কনটেইনার থেকেও বের হচ্ছে ধোঁয়া। তবে আগুনের তীব্রতা আগের চেয়ে কম বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
শনিবার রাত ৮টার দিকে ডিপোর লোডিং পয়েন্টের ভেতর এ আগুন লাগে। খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে এক কনটেইনার থেকে অন্য কনটেইনারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে একটি কনটেইনারে থাকা রাসায়নিক থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।
বিস্ফোরণের সময় ঘটনাস্থল থেকে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে আশপাশের অনেক বাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ার খবরও পাওয়া যায়।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জনের দেওয়া সবশেষ তথ্যমতে, আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৪৯ জনের। এর মধ্যে ৯ জন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী। এছাড়া দগ্ধ ও আহত হয়ে চট্টগ্রাম এবং ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন শতাধিক।