ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
সন্তানের মুখ দেখা হলো না ফায়ারম্যান মনিরুজ্জামানের
সীতাকুণ্ডে কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও আগুন নেভাতে গিয়ে মৃত্যু
Published : Monday, 6 June, 2022 at 12:00 AM, Update: 06.06.2022 12:54:18 AM

সন্তানের মুখ দেখা হলো না ফায়ারম্যান মনিরুজ্জামানেরনিজস্ব প্রতিবেদক: শনিবার রাতে সীতাকুণ্ডে কন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান চট্টগ্রামের কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে নার্সিং অ্যাডেনটেন্ট মনিরুজ্জামান (৩২)। মনিরুজ্জামান কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নাইয়ারা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হকের ছেলে।
কয়েকদিন আগে কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্য মো. মনিরুজ্জামান। ছুটি নিয়ে শিগগিরই মেয়েকে দেখতে আসার কথা ছিল। কিন্তু মেয়ের মুখ না দেখেই তাকে বিদায় নিতে হয়েছে। তিনি বিয়ে করেছেন বরিশালে। স্ত্রী বাবার বাড়িতেই কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এটিই তাদের প্রথম সন্তান। এ ঘটনায় নিহতের বাড়িতে শোকের মাতম বইছে। স্বজনদের আহাজারীতে সেখানে তৈরি হয়েছে হৃদয়বিদারক দৃশ্য।
ফায়ার সার্ভিস সদস্য মনিরুজ্জামান মনির মা শরীফা বেগম কেঁদে বলছিলেন, ছেলে আমার ফোনে বলছিলো- মা ঈদে বাড়ি আসমু। কয়েকদিন বাড়িতে থেকে মেয়ে জান্নাতুল মাওয়ার আকিকা দিমু। আমার জন্য দোয়া করবেন। ঈদে বড় ভাইয়াও বিদেশ থেকে বাড়ি আসবে। আপনি সময়মতো ঔষধ খাবেন। হাও মাও করে কেঁদে এ সব কথা বলেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত ফায়ার সার্ভিস কর্মী মনিরুজ্জামান মনির মা শরীফা বেগম।
তার স্বামীও দেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেন। এখন ছেলেও দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে মারা যান। তাই ছেলে শিশু সন্তানের দিকে থাকিয়ে একটু সহযোগিতা করার জন্য সরকারের কাছে দৃষ্টি কামনা করেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ২০১৬ সালে ফায়ার সার্ভিস কর্মী হিসেবে চাকরি নেন মনিরুজ্জামান মনির। দুই মাস পূর্বে মনির ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডে বলি হয়ে আসেন। ৭ বছর চাকরি জীবনে সাহসী ফায়ার কর্মী একাধিকবার পদকও পান তিনি। তিন বছর পূর্বে বরিশাল জেলায় বিয়ে করেন। সংসার জীবনে জান্নাতুল মাওয়া নামের দেড় মাসের একটি কন্যা রয়েছে। স্ত্রী মাহমুদ আক্তার মুক্তা মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়ি বরিশালে থাকেন। স্বমীর মৃত্যুর খবর শুনে শ্বশুর বাড়ি নাঙ্গলকোটে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় মানুষদের বাঁচাতে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হন। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে মনিরুজ্জামান মনির সবার ছোট। সকল ভাইয়েরা বিবাহ করে পিতক পিতক আছেন।
এ বিষয়ে নিহতের ভগ্নিপতি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, মনির সর্বশেষ রাতে তার বোনকে ফোন করে বলে, পানি নেই। পানি না থাকলে তারা মারা যাবে। এরিমধ্যে সে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার কাছে ভালো লাগতেছে না। তার জন্য দোয়া করতে বলছেন। রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। সকালে তার মৃত্যুর খবর পাই। এ ঘটনায় নিহতের বাড়িতে শোকের মাতম বাইছে।
নাঙ্গলকোট থানার ওসি ফারুক হোসেন বলেন, “রোববার সকালে খবর পেয়েছি মনিরুজ্জামান মারা গেছেন। আমরা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”