দেবিদ্বারে ঈদগাহ কমিটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন
Published : Sunday, 5 June, 2022 at 12:00 AM
শাহীন আলম, দেবিদ্বার।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে রসুলপুর ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ও কবরস্থানের দুটি পাল্টাপাল্টি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে।
ঈদগাহ ও কবরস্থানের টাকা আত্মসাতের পরস্পর বিরোধী বক্তব্যে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে বিরুপ মন্তব্য। তবে দুই পক্ষই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন। গতকাল শনিবার বিকালে রসুলপুর ঈদগাহ মাঠে প্রতিবাদ সভা করে সদ্য ঘোষিত একটি কমিটি। এর আগে মঙ্গলবার বিকালে রসুলপুর বাজারে পূর্বের কমিটির অনিয়মের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে অন্য আরেকটি পক্ষ। শনিবার ঈদগাহ মাঠে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন হাজী আবদুল হান্নান, আবুল কাশেম, ওহাব পুলিশ, জাহাঙ্গীর আলম সরকার, সৈয়দ আলী মাস্টার আরও অনেকে।
পোস্ট মাস্টার মোহন সরকারের পরিচালনায় বক্তারা বলেন, তাঁরা যে মানববন্ধন করেছে এখানে এ ঈদগাহে নামাজ পড়ে এমন দুই একজন ছাড়া কেউ নেই, ভাড়া করা লোক দিয়ে মানববন্ধন করে কতগুলো মিথ্যা অভিযোগ এনে বক্তব্য দিয়েছে। আমরা এ এলাকার মানুষের দানে ও সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের নিজস্ব অর্থায়নের এ ঈদগাহ ও কবরস্থানের উন্নয়ন করেছি। যা এলাকার লোকজন স্বাক্ষী রয়েছে। আমরা কমিটি থাকাবস্থায় প্রত্যেকে ১০হাজার করে টাকা অনুদান দিয়ে এই ঈদগাহ মাঠ পাকা করি, অথচ তাঁরা বক্তব্যে বলছে তাঁরা নাকি ১০লক্ষ টাকা খরচ করে এই মাঠ পাকা করেন, এটি একটি বানোয়াট কথা। এসএম আবুল বাসারসহ ঈদগাহ মাঠে উপস্থিত সকলের পরামর্শে ঈদের দুইদিন পর ঈদগাহ মাঠে কমিটি ঘোষণা করার কথা কিন্তু তাঁরা কমিটি আমরা কমিটির প্রস্তাব করেছি, কিন্তু তাঁরা গত ঈদের নামায শেষে কবরস্থানে কবর জিয়ারতের সময় মারামারি হয়। ওই মারামারি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ঈদের দুইদিন পর যে কমিটি ঘোষণা করার কথা তা স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু তাঁরা ওই কথা না মেনে আমাদেরকে বাদ দিয়ে এলাকার কয়েকজন মিলে এসএম নিজামকে সভাপতি ও আবুল বাসারকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করে দেন। যে কমিটি এ এলাকার কেউ মানে না।
হাজী ইউনুছ সরকারের সভাপতিত্বে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, সংসদ সদস্য রাজী ফখরুলের নির্দেশনা মেনে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। অপর একটি পক্ষ পাল্টা কমিটি ঘোষণা করে এলাকায় দাঙ্গা লাগাতে চাইছে। এলাকাবাসী শান্তির লক্ষ্যে আছে। আমরা দুই একদিনের মধ্যে কবরস্থানের উন্নয়নের কাজ শুরু করব। স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল কবরস্থানে ল্যাম্পপোস্ট সহ ঈদগাহ মিনার ও টাইলস স্থাপনে সহযোগিতা করেছেন। এ এলাকার সাধারণ মানুষও টাকা দিয়ে সহাযোগিতা করেছেন।
অপর পক্ষের অভিযুক্ত এসএম নিজাম উদ্দিন বলেন, আমার বাবা দীর্ঘদিন ৩০বছর এই ঈদগাহ ও কবরস্থানের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেছেন। ওনি জীবিত থাকাববস্থায় ঈদগাহ ও কবরস্থানের জমি দান করেছেন। তখন কেউ ওনার বিরুদ্ধে কথা বলেনি, তিনি সততার সাথে দীর্ঘদিন দায়িত¦ পালন করেছেন বলে ৩০ বছর সভাপতি ছিলেন। আব্বা মারা যাওয়ার পর বিগত কয়েক বছর আমি ১০ লক্ষ টাকা খরচ করে ঈদগাহ পাকা করি। আজ তাদের কাছে ঈদগাহ ও কবরস্থানের আয় ব্যয়ের হিসেব চাওয়ায় পাল্টা কমিটি ঘোষণা করে এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করছে।
প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি সদস্য মো. সুলতান মেম্বার, সিয়াম সরকার, মো. জাকির হোসাইন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মো. রফিকুল ইসলাম, বাহাদুর, মোসলেম মেম্বার, অদুধ সরকার, মো. হামিদ, শহিদ মিয়া, ইদ্রিস মিয়া, নজরুল সরকার, গোলাম মোস্তফা, জালাল ডিলার, আলতাফ উদ্দিন, জুলহাস, রফিকুল ইসলাম,সফিকুল ইসলাম প্রমুখ।