ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
দৌরাত্ম্য বন্ধ হোক পথে পথে চাঁদাবাজি
Published : Tuesday, 12 April, 2022 at 12:00 AM
দৌরাত্ম্য বন্ধ হোক পথে পথে চাঁদাবাজিগত সপ্তাহে দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনাসংক্রান্ত টাস্কফোর্স কমিটির প্রথম সভায় শাক-সবজিসহ নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে পথে পথে চাঁদাবাজি বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চেয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই সভায় বলা হয়, ট্রাকের ভাড়ায় চাঁদাবাজির টাকা যুক্ত হওয়ায় পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। বাজার থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও বাজারে তাজা শাক-সবজির দাম বেশি। পথে পথে চাঁদাবাজির কারণে এসব পণ্যের দাম বাড়ছে।
টাস্কফোর্স কমিটির ওই বৈঠকে চাঁদাবাজি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ারও প্রস্তাব করা হয়।
গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, বগুড়া থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজার পর্যন্ত ২৪০ কিলোমিটার এই পথে অন্তত ১০টি স্থানে এক হাজার ৫০ টাকা দিতে হয় চাঁদা। সড়কে চাঁদাবাজির কারণে কৃষক পর্যায় থেকে ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছতে একই সবজির দাম বেড়ে যাচ্ছে তিন থেকে চার গুণ। চালকরা জানাচ্ছেন, পথের মোড়ে মোড়ে চলছে চাঁদাবাজি। চাঁদা না দিলে দুর্বৃত্তরা গাড়ি ভাঙচুর করে। বিশেষ করে গাড়ির সামনের হেডলাইট বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে ভেঙে দেয়। বাধা দিলে গায়ে হাত তোলে। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের কথা বলে বিভিন্ন হারে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চাঁদাবাজি রোধের বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরকে জানানো হয়েছে। আর পুলিশ সদর দপ্তর গত মঙ্গলবার চাঁদাবাজি বন্ধে সারা দেশের মাঠ পর্যায়ের পুলিশকে নির্দেশনাও দিয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়া এক প্রতিবেদনেও চাঁদাবাজিসহ নানা কারণে সবজির বাজার চড়া হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পথে পথে চাঁদাবাজি, বারবার হাতবদল, অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অজুহাত এবং বাজারে যথাযথ নজরদারি না থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে সবজির দাম। গ্রামের কৃষকের হাত থেকে সবজি রাজধানীতে ভোক্তার হাতে পৌঁছতে অন্তত চারবার হাতবদল হয়। কৃষক থেকে পাইকার, সেখান থেকে রাজধানীর আড়ত, সেখান থেকে ছোট পাইকার, তাঁর কাছ থেকে খুচরা বিক্রেতা। এরপর ভোক্তার হাত পর্যন্ত পৌঁছতে প্রতিটি পর্যায়ে দাম বাড়ছে একটি সবজির।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধেও পাওয়া যায় চাঁদাবাজির অভিযোগ, বিশেষ করে সড়ক-মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পরিবহনে চাঁদাবাজির ঘটনা তো ওপেন সিক্রেট। দেশের স্থলবন্দরগুলোতেও বিভিন্ন নামে চাঁদা আদায় করা হয়। সারা দেশে চলাচলকারী পণ্যবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা আদায় করা হয়। এর প্রভাব পড়ে পণ্যের দামের ওপর।
চাঁদাবাজির কারণে একদিকে যেমন পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পকেট থেকে বাড়তি পয়সা গুনতে হচ্ছে, অন্যদিকে এই চাঁদাবাজির শেষ পর্যন্ত মাসুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকেই। ট্রাকের ভাড়ায় চাঁদাবাজির টাকা যুক্ত হওয়ায় পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও বাজারে তাজা শাক-সবজির দাম বেশি। পথে পথে চাঁদাবাজির কারণে এসব পণ্যের দাম বাড়ছে।
আমরা আশা করব, পথে পথে চাঁদাবাজি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।