স্কুটি চালিয়ে যাচ্ছিলেন ক্যাম্পাসে, ফ্লাইওভারে প্রাণ গেল নর্থ সাউথ ছাত্রীর
Published : Saturday, 2 April, 2022 at 12:00 AM
ছুটির দিনের সকালে ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে স্কুটি নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী, রাজধানীর কুড়িল ফ্লাইওভারে কোনো এক গাড়ি কেড়ে নিয়েছে তার প্রাণ।
মায়শা মমতাজ মিম নামের ২২ বছর বয়সী ওই তরুণী নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছিলেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কোনো এক সময় তিনি দুর্ঘটনায় পড়েন বলে পুলিশের ধারণা।
খিলক্ষেত থানার এসআই মিজানুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মিম স্কুটি চালিয়ে উত্তরার বাসা থেকে রওনা হয়েছিলেন। কুড়িল ফ্লাইওভারে ওঠার পর মাঝামাঝি জায়গায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। বাসের ধাক্কায় না অন্য কোনোভাবে তার মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।"
অজ্ঞাত সেই গাড়ির চাপায় রক্তাক্ত অবস্থায় ফ্লাইওভারেই পড়ে ছিল মিমের দেহ। পাশেই পড়ে ছিল তার স্কুটি। পুলিশ দুর্ঘটনার খবর পায় ৯৯৯ এ একটি ফোনে।
ওই অবস্থায় মিমকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পরে ময়নাতদন্ত হয় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
মিমের মামা হাবিবুর রহমান চুন্নু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্যই সকালে বাসা থেকে বের হয়েছিল মেয়েটা। কীভাবে দুর্ঘটনায় পড়ল, আমরা এখনও জানতে পারিনি।”
তবে মিমের মামাতো ভাই অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন মর্গে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা শুনেছেন, একটি কাভার্ডভ্যান মিমের স্কুটিকে চাপা দিয়ে চলে যায়। পুলিশকে তারা বিষয়টি জানিয়েছেন।
গাজীপুরের মৌচাক আইডিয়াল পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নূর মোহাম্মদ মামুনের দুই মেয়ের মধ্যে মিম বড়। উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে তাদের বাসা। গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায়, তবে মৌচাকেও তাদের বাড়ি আছে। ময়নাতদন্ত শেষে মিমের মরদেহ দাফনের জন্য সেখানেই নিয়ে গেছেন স্বজনেরা।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক শর্মী হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, মিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল ২০২০ সালে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এখন ভাষা প্রতিযোগিতা চলছে ক্যাম্পাসে। মিম সেখানে স্বেচ্ছাসেবীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। শুক্রবার চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই ক্যাম্পাসে যাচ্ছিলেন।
শর্মী হোসাইন ফেইসবুকে লিখেছেন, “আজ আমাদের বিভাগে একটা ইভেন্টে আসার জন্য মেয়েটা রওনা হয়েছিল। দুই বছর অনলাইনে ক্লাস করা বাচ্চা মেয়েটা হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ের এইসব এক্সট্রাকারিকুলার অনুষ্ঠানে খুব আনন্দ নিয়ে যুক্ত হয়েছিল-- কিছু কাজ শিখবে, প্রিয় বন্ধুদের সাথে একটু আড্ডা দিবে, রাতে কিছু ছবি পোষ্ট করবে। এইই তো। শেষ হয়ে গেল সব।”
মিমের আরেক মামা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান বাদল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পাঁচ মাস হল ও স্কুটি চালাতে শুরু করেছিল। মাথায় হেলমেট পরত। দুর্ঘটনার সময়ও মাথায় হেলমেট ছিল। তবে মূল আঘাতটা মাথাতেই লেগেছে।”
তিনি জানান, মিমের ছোট বোন এবার এইচএসসি পাস করেছে। সকালে ছিল তার মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা। তাকে নিয়ে সেজন্য মিরপুর বাংলা কলেজে গিয়েছিলেন তাদের বাবা নূর মোহাম্মদ মামুন।
“মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে উনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। উনাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”