
গোমতী-ঘুঙ্ঘুর
নদীর পলল-বিধৌত অঞ্চল নিয়ে গঠিত শিক্ষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও সভ্যতার
লীলাভূমি ভারত সীমান্ত ঘেরা কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা)
নির্বাচনী এলাকার কীর্তিমান রাজনীতিবিদ, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বীর
মুক্তিযোদ্ধা সাবেক সফল জাতীয় সংসদ সদস্য মরহুম আলহাজ্ব অধ্যাপক মো: ইউনুস।
বিশিষ্ট এই সমাজ সেবক ও শিক্ষাগুরু ছিলেন বুড়িচং এরশাদ জিগ্রী কলেজের
প্রতিষ্ঠাতা।
অধ্যাপক মো: ইউনুস ছিলেন বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ার সকল দল,
মত, পথ ও পেশার মানুষের কাছে সর্বগ্রহণযোগ্য, সর্বজননন্দিত, সমাদৃত ও
সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। নিজের কর্মগুণে ইতিহাসের পাতায় এবং মানুষের মনের
মনিকোঠায় স্মরণীয়, বরণীয় ও নন্দিত হয়ে থাকবেন স্বাধীনতাত্তোর বুড়িচং ও
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার উন্নয়নের এই স্বপ্নদ্রষ্টা ও রুপকার।
পারিবারিক জীবন:
অধ্যাপক
মো: ইউনুস ১৯৪৪ সালের ৪ঠা জুলাই বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের
গোপীনাথপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ
করেন। স্যারের পিতার নাম মৌলভী মো: চান্দ মিয়া মুন্সী এবং মাতার নাম
হাজেরাখাতুন। মাত্র ৯ (নয়) বছর বয়সে তিনি পিতৃহারা হন। মা ও চাচা হাজী লীল
মিয়ার স্নেহ ও আদরে অনেকটা সংগ্রামী ও আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে তিনি সকলের দোয়া ও
ভালোবাসায় বেড়ে উঠেন।
তিনি মেট্রিক্যুলেশন পাশের পর পর পার্শ্ববর্তী
শিবরামপুর গ্রামের প্রভাবশালী, সম্ভ্রান্ত ও বুনিয়াদী পরিবার হাজী
নজিমউদ্দিন ও জিনাতুন্নেসা বেগমের কনিষ্ঠ কন্যা লুৎফুন্নেসা বেগমের সাথে
বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকেই তিনি তার প্রিয়তমাস্ত্রীর সহযোগিতা ও
অনুপ্রেরণায় এবং মা, চাচা, মামা, ও শ্বশুর-শাশুড়ি সহ এলাকাবাসীর দোয়ায়
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফল হতে থাকেন।
অধ্যাপক মো. ইউনুস ২০২১ সালের
২৭শে মার্চ বার্ধক্যজনিত কারণে পরলোক গমন করেন। তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী
লুৎফুন্নেসা বেগম ২০১২ সালের ২২শে জুলাই ঢাকার অদুরে বুলতা নামক স্থানে এক
মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। অধ্যাপক মো: ইউনুস ও লুৎফুন্নেসা
বেগম ২ মেয়ে, ২ মেয়ের জামাই, ৫ পুত্র, ৫ পুত্র বধু এবং ১৫ জন নাতি-নাতনী,
অসংখ্য আত্মীয়স্বজন এবং হাজারো ভক্ত ও অনুসারী রেখে গেছেন।
স্যারের বড়
মেয়ের নাম রেহেনা নার্গিস ও ছোট মেয়ের নাম সেলিনা নার্গিস। তারা দুজনেই
সুশিক্ষিত, বিবাহিত ও গৃহিণী। স্যারের জ্যেষ্ঠপুত্র ড. নাজমুল হাসান শাহীন
আমেরিকার স্বনামধন্য গাড়ি মেরামতকারী ফোর্ড মোটর কোম্পানীর একজন
পদস্থকর্মকর্তা। তিনি মিশিগান ডেমোক্রেটিক পার্টির ভাইস চেয়াম্যান এবং
মিশিগান বাংলাদেশী আমেরিকান ডেমোক্রেটিক ককাসের প্রতিষ্ঠাতা। ড. শাহীনের
স্ত্রী ফারজানা ফেরদৌস একজন কম্পিউটার প্রকৌশলী। তিনি স্বনামধন্য জেনারেল
ইলেকট্রনিক কোম্পানীতে কর্মরত আছেন।

অধ্যাপক ইউনুসের দ্বিতীয় পুত্র
অধ্যাপক কামরুল হাসান (নাসিম) পেশায় একজন শিক্ষক। তিনি বর্তমানে বুড়িচং
এরশাদ ডিগ্রী কলেজে অধ্যাপনা করছেন। তার স্ত্রীর নাম সামিয়া রহমান।
স্যারের তৃতীয় ছেলে বদরুল হাসান (লিটন)। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
সরকারের বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা এবং সরকারের একজন
উপসচিব। তার স্ত্রীর নাম কানিজ ফাতেমা।
স্যারের চতুর্থ ছেলে সাইফুল
হাসান (রিপন)। তিনিও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিসিএস (প্রশাসন)
ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা এবং সরকারের একজন উপসচিব। তার স্ত্রীর নাম
ফারজানা চৌধুরী (নিপা)। তিনি একটি অনলাইন বিজিনেস এর স্বত্বাধিকারী।
স্যারের ৫ম পুত্র ডা: মেহেদী হাসান (সুমন)। তিনি স্কয়ার হাসপাতালে শিশু
আইসিইউতে ক্লিনিকাল স্টাফ হিসেবে কর্মরত আছেন। তার স্ত্রীর নাম আমরিন বিনতে
ফিরোজ।
শিক্ষা জীবন:
অধ্যাপক মো: ইউনুস শৈশব থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও
কৃতি ছাত্র ছিলেন। তিনি গোপীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্রীপুর
ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা ও বুড়িচং জুনিয়র মাদ্রাসায় প্রাথমিক ও নিম্ন
মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশুনা করেন। তিনি প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিকে কৃতিত্বের
সাথে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেন। তিনি ১৯৬০ সালে পুর্ব বাংলার একমাত্র
ঢাকা বোর্ডে কুমিল্লা হোচ্ছামিয়া বাই মাদ্রাসা থেকে মেট্রিক্যুলেশন
পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে মেধা তালিকায় কৃতিত্বের সাথে ১২তম স্থান অধিকার
করেন। তারপর শতবর্শী ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ হতে ১৯৬২
সনে আইএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে
১৯৬৪ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনস্থ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ
থেকে বিএসসিতে (সন্মান) গণিতে কৃতিত্বের সাথে পাশ করেন। তিনি ১৯৬৭ সনে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় হতে ফলিত গণিতে মেধাতালিকায় প্রথম শ্রেণিতে এমএসসি পাশ
করেন।
শিক্ষকতা জীবন:
শিক্ষানুরাগী, যুগশ্রেষ্ঠ শিক্ষা উদ্যোক্তা ও
শিক্ষার পৃষ্ঠপোষক জনাব অধ্যাপক মো: ইউনুসের রয়েছে সুদীর্ঘ শিক্ষকতার
অভিজ্ঞতা। তিনি বুড়িচং আনন্দ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে (১৯৬৪-৬৫ এবং ১৯৬৬-৬৭
শিক্ষাবর্ষ) বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরে তিনি দেবিদ্বার
ক্যাপ্টেন সুজাত আলী কলেজ (১৯৬৮-৬৯), চট্রগাম সরকারি কলেজ (১৯৫৯-৭৩),
চৌদ্দগ্রাম চিওড়া কলেজ (১৯৮০-৮৪), এবং নিমসার জুনাব আলী কলেজে (১৯৮৪-৮৬)
গণিত বিভাগে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ছিলেন বুড়িচং এরশাদ ডিগ্রী
কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। এরপর ১৯৮৬-২০০৯ সাল পর্যন্ত কলেজটির অধ্যক্ষ হিসাবে
সুনাম, দক্ষতা, সততা ও সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবন ও মুক্তিযুদ্ধে ভুমিকা:
অধ্যাপক
মো: ইউনুস স্যারের রয়েছে সুদীর্ঘ ৬০ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, যা
কুমিল্লা-৫ নির্বাচনী এলাকার জন্য একটি মাইলফলক। তিনি ১৯৬২ সালের শিক্ষা
আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলন, এবং ১৯৬৯ সালের গনআন্দোলন ও
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ ভুমিকা রাখেন, যা যুগে যুগে ইতিহাসের
সাক্ষী হয়ে আগামী প্রজন্মকে উজ্জিবীত করবে। তিনি কুমিল্লা-৫ আসন থেকে চার
বার (১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৮৮, ২০০১) জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জনগনের
প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
তিনি ১৯৬২ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ
স্টুডেন্ট লীগ এর সক্রিয় সদস্য হিসাবে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন।এইসময়
তিনি পুর্ব পাকিস্তানের যুগপোযুগী শিক্ষা নীতি প্রনয়ন ও কুমিল্লায়
বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য আন্দোলন করেন। তিনি ১৯৬৫-৬৬ সালে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন ছাত্র রাজনীতির সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন।
তিনি শহীদউল্লাহ হল (ঢাকা হল) শাখার ছাত্রলীগের নির্বাচত সভাপতি ও ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও ডাকসুর ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হন।
তিনি পুর্ব পাকিস্তান ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সক্রিয় সদস্য হিসাবে ১৯৬৬
সালের ৬ দফা এবং ১৯৬৮ সালের ১১ দফা আন্দোলনে ছাত্র, শিক্ষক ও জনতাকে
সম্পৃক্ত করতে বিশেষ ভুমিকা রাখেন।
তিনি ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে
সাড়া দিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাত থেকে দেশ রক্ষায় মহান স্বাধীনতা
যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। যার কারনে পাক হানাদার বাহিনী বুড়িচং এ সর্বপ্রথম উনার
গ্রামের বাড়ী আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং পরিবারের কাউকে না পেয়ে
নিকটাত্মীয়দের উপর ব্যাপক দমন নিপীড়ন করে এবং তাদেরকে ঘর ছাড়া করে।
তিনি
স্বাধীনতা যুদ্ধে তদানীন্তন জাতীয় পরিষদ সদস্য এডভোকেট আহাম্মদ আলী ও
অধ্যাপক মো: খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে গঠিত ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার
ইস্টার্ন কমান্ড কাউন্সিল কতৃক পরিচালিত বক্সনগর ও পদ্মনগর ইয়ুথ
ট্রেনিংক্যাম্পের ডেপুটি-ইন-চার্জ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্যাম্পের
দায়িত্বে নিয়োজিত তিনি ও অধ্যক্ষ আ: রউফ বাংলার মুক্তিকামী ছাত্র ও যুবকদের
প্রাথমিক প্রশিক্ষনের ব্যবস্হা করেন। তিনি বাংলাদেশের সীমান্তে টহলরত ও
ব্যাংকারে আশ্রিত হানাদার পাক বাহিনীর উপর ২নং সেক্টরের ক্যাপ্টেন দিদারুল
আলম ও ক্যাপ্টেন হায়দারের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত সাঁড়াশী
অভিযানে সর্বাত্মক সাহায্য ও সহযোগীতার জন্য ক্যাম্পের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত
যুবকদের নিয়োজিত করেন।
অধ্যাপক মো. ইউনুস পদ্মনগর শরণার্থী রিশিপশন
ক্যাম্পেরও ডেপুটি ইনচার্জ ছিলেন। ভারতে স্থাপিত শরণার্থী ক্যাম্পের মধ্যে
অন্যতম ছিল এটি। তিনি বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাড়ি দেয়া হাজার হাজার
শরণার্থীদের রিশিপশন এবং ক্যাম্পে পুনর্বাসনের দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীনতা
যুদ্ধের সময় একদিন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী
আগরতলার ইস্টার্ন কমান্ড কাউন্সিল ইয়ুথক্যাম্প পরিদর্শনে আসেন। এসময়ে তিনি
অধ্যাপক মো. ইউনুসের বীরত্ব গাথা ভুমিকার ভুয়সী প্রশংসা করেন এবং তাকে একটি
পিস্তল উপহার দেন। পরবর্তীতে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি বঙ্গবন্ধুর অস্ত্র
জমা দেয়ার নির্দেশে সাড়া দিয়ে মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর দেয়া পিস্তলটি
সরকারের কাছে ফেরত দেন।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি বঙ্গবন্ধুর ডাকে
সাড়া দিয়ে সরকারি কলেজের শিক্ষকতা ছেড়ে দেন এবং ১৯৭৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই সংসদে তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত
স্নেহধন্য ও কনিষ্ঠ সংসদ সদস্যদের একজন।
পঁচাত্তুরের পটপরিবর্তনের পর
তিনি তাঁর দলের প্রতি আকুন্ঠ আনুগত্য থেকে রাজনীতি করেছেন। একসময় তিনি
আওয়ামীলীগের তৎকালীন নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী ও আব্দুর রাজ্জাক সাহেবের
বলয়ের লোক হয়েও সেইদিন আওয়ামীলীগ (মিজান) কিংবা রাজ্জাক সাহেবের বাকশালে
যোগ দেন নাই।
দলের প্রতি আনুগত্যতা ও সীমাহীন ত্যাগ তিতিক্ষা পুরুষ্কার
স্বরুপ তিনি ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন নিয়ে
নির্বাচন করার প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু তিনি সেইদিন দলীয় মনোনয়ন না
পাওয়ায় এলাকার মানুষ তাঁকে জোড় করে তালা মার্কা প্রতীকে স্বতন্ত্র নির্বাচন
করতে বাধ্য করেন। জনগণ সেদিন নিজেরা চাঁদা তুলে উনার নির্বাচন পরিচালনা
করেন এবং তাকে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেন।
১৯৮৬ সালের
নির্বাচনে স্বতন্ত্র জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচত হয়েই অধ্যাপক মো: ইউনুস নিজ
দল আওয়ামীলীগে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করেন। দলে প্রত্যাবর্তন করতে ব্যার্থ
হয়ে তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় এক বিশাল জনসভার আয়োজন করেন এবং নেতাকর্মী ও
জনতার কাছে তার করনীয় কি তা জানতে চান। হাজারো হাজারো জনতা সেইদিন সমস্বরে
তাকে তৎকালীন সরকারি দল জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ
করতে মতামত দেন। এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের ভোটের প্রতি দায়বদ্ধতার কারনেই
তিনি জনসভা শেষে দফায় দফায় তার নেতাকর্মীদের সাথে মতামত বিনিময় করেন। তারপর
অনেক চিন্তা ভাবনা করে এবং জনতার দাবী ও মতামতকে শ্রদ্ধা জানানোর
সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সরকারি দলের কাছে নিজের মন্ত্রিত্ব কিংবা অন্যান্য
সুবিধাদি নয় বরং মানুষের কল্যাণে বুড়িচং সদরে একটি কলেজ, দুই উপজেলায় দুইটি
হাইস্কুল সরকারিকরন, গোমতী নদীর উপর ব্রীজনির্মান, কুমিল্লা-বুড়িচং-মিরপুর
রাস্তা সহ আরো কতগুলো উন্নয়নমুলক প্রকল্প দাবী করেন। তৎকালীন সরকার তাঁর
সবগুলো দাবী মেনে নেয়ার আশ্বাসের পর তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। মাটি ও
মানুষের নেতার সেইদিনের এই সময়োচিত সিদ্ধান্তে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ায়
ব্যাপক উন্নয়নের পথ উন্মোচিত হয়।
১৯৮৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনাব
অধ্যাপক মো: ইউনুস দ্বিতীয় বারের মতো অপরাজনীতির শিকার হন। সেইদিন আগের মতো
আবারো জনতার ইস্পাত কঠিন সমর্থনে তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের জাল ছিন্ন করে
জাতীয় পার্টি থেকে তৃতীয়বারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচত হন। উল্লেখ্য,
১৯৮৬-১৯৯০ সালেই বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ায় শিক্ষা, প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত
ব্যাপক উন্নয়ন হয়। তাই মানুষ এই সময়টাকে উন্নয়নের স্বর্ণযুগ হিসাবে চিহ্নিত
করে থাকে।
৯০ দশক পরবর্তী সময়ে পেশী শক্তি, নমিনেশন বানিজ্য ও
অর্থবিত্তের রাজনীতি থেকে তিনি নিজেকে গুটিয়ে নেন এবং আবারো শিক্ষকতার
পেশায় ফিরে যান। তিনি ছিলেন আপাদমস্তক একজন শিক্ষক। তাই তিনি শিক্ষক হয়ে
রাজনীতির দুর্বিত্যায়নে নিজেকে কখনো মানিয়ে নিতে পারেননি। যার কারণেতিনি
১৯৯০ এর পরে দীর্ঘ ১০ বছরেরও অধিক সময় কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত
ছিলেন না এবং নিজেকে সবধরনের রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে
রাখেন।
উল্লেখ্য, বুড়িচং ও ব্রাক্ষণপাড়ায় অধ্যাপক মো. ইউনুসের এক বিশাল
ভোট ব্যাংক আছে যা দলীয় ভোটের সাথে যোগ হলে একটা বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেয়।
তাই, ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি তাকে দলে নিতে আগ্রহ
দেখায় এবং যথাযথ মাধ্যমে তার সাথে যোগাযোগ করে। কিন্তু বারবার অপরাজনীতির
শিকার হওয়া এই রাজনীতিক সেইদিন রাজনীতিতে আর না ফেরার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন
এবং শিক্ষকতায় মনোনিবেশ করেন। তবে শিক্ষকতাই যার নেশা ও পেশা তাকে পরিবেশ,
পরিস্থিতি এবং জনগনই বার বার রাজনীতিতে টেনে এনেছে এবং বার বার তাকে সংসদে
এই জনপদের প্রতিনিধিত্বকরার সুযোগ করে দিয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনীতির
ইতিহাসে দেখা গেছে যে নেতা রাজনীতি থেকে একবার নিষ্ক্রিয় হয়েছেন তার পক্ষে
রাজনীতিতে আবারো ফেরত আসা কখনো সম্ভব হয়নি। এই সত্যিটা অধ্যাপক মো: ইউনুস
এর বেলায় বার বার মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি
আবারো অধ্যাপক মো: ইউনুস স্যারকে দলের মনোনয়নে নির্বাচন করানোর সিদ্ধান্ত
নেয়। বিএনপির পক্ষে কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন
মাধ্যমে স্যারের সাথে যোগাযোগ করা শুরু করে। এসময়েস্যারের আদর্শের অনুসারী
শত শত তৃণমুল নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা স্যারকে আবারো নির্বাচন করার জন্য চাপ
দেয়।একই সময়ে, স্যারের সুখ দু:খের সাথী ও প্রিয়তমা স্ত্রী লুৎফুন্নেসা
বেগমও সেইদিন স্যারকে জনগণের সেবা করার কথা বিবেচনায় নিয়ে আবারো রাজনীতিতে
সক্রিয় হওয়ার অনুরোধ করেন। এরপর বিএনপিতে যোগ দিয়ে ২০০১ সালে আবারো
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটান। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন
করে ৫০% এর অধিক ভোট পেয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আসনটি বিএনপি-কে উপহার
দেন অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস।
স্যারের নামে কখনো দুর্নীতি, স্বজনপ্রীত ও
অবৈধ উপার্জনের অভিযোগ ও মামলা ছিলো না। তাই ১/১১ পরবর্তী সেনা সমর্থিত
সরকারের সময়ে স্যার বীরদর্পে এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং দলীয় নেতা কর্মীদের
সাহস যুগিয়েছেন। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও তিনি ২০০৮ সালের সাধারণ
নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হন। এই সময় জাতীয় পার্টি স্যারের ব্যাপারে
আগ্রহদেখায়। জাতীয় পার্টি থেকে স্যারকে মহাজোটের মনোনয়ন পাইয়ে দেয়া হবে এই
প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। কিন্তু সে দিন তিনি নিজদলের প্রতি আনুগত্যতা
দেখিয়েছেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের নির্বাচনে ও জাতীয় পার্টি স্যারের সাথে
যোগাযোগ করে। কিন্তু তিনি এবারও সম্ভাব্য ক্ষমতার সুযোগ গ্রহন করেননি।
উল্লেখ্য
যে, ২০০৮ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত এই দীর্ঘ ১০ বছর আবারো তিনি রাজনীতিতে
নিষ্ক্রিয় থাকেন। ২০১৮ সালের শুরুতে দলীয় নেতা কর্মী ও হাজারো জনতার ডাকে
রাজনীতিতে কিছুটা সক্রিয় হন। মাঠ পর্য়ায়ের জরিপ ও বিভিন্ন গোয়ান্দা
রিপোর্টে উঠে আসে অধ্যাপক ইউনুসের কোনো বিকল্প নেই। বিএনপির মনোনয়নে বুড়িচং
ও ব্রাহ্মণপাড়ার রাজনীতির অভিভাবক খ্যাত এই বরেণ্য রাজনীতিক ২০১৮ সালের
জাতীয় নির্বাচনে তার জীবনের শেষ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক অবদান:
অধ্যাপক
মো: ইউনুস মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আজীবন এলাকার উন্নয়নে ও মানুষের কল্যাণে কাজ
করে গেছেন। তিনি চার (৪) বারের সংসদ সদস্য ছিলেন বটে। কিন্তু তিনি
দায়িত্বপালন করেছেন মাত্র ১১ থেকে সাড়ে ১১ বছরের মতো। এই সময়ে সম্পুর্ণ
প্রচার বিমুখ এই নেতা রাজনীতিকে জনসেবার সোপান হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তিনি
নিজের কিংবা স্ত্রীর নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানোর নামকরণ করেন নাই। তিনি তার
পুত্র-কন্যা কাউকে রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত করেন নাই এবং তাদের কাউকে ব্যবসা
বাণিজ্য ও অবৈধ উপার্জনের সুযোগ করে দেন নাই। তিনি কোনদিনও সরকারি কাজে
নিয়োজিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে কারো জন্য অবৈধ আবদার নিয়ে যেতেন না
কিংবা সুপারিশ করতেন না।
এক নজরে অধ্যাপক মো. ইউনুসের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড:
১). ১৯৭৩ সালে বুড়িচং থেকে ব্রাহ্মণপাড়াকে আলাদা করে থানা গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন যা ১৯৭৬ সালে বাস্তবায়িত হয়।
২).
একসময় ময়নামতি ও মোকাম ইউনিয়নের প্রশাসনিক থানা ছিল বুড়িচং। কিন্তু
এখানকার ভোটারগণ কোতোয়ালি থানাধীন ছিল। তিনি এই দুটি ইউনিয়নের ভোটারদেরকে
বুড়িচং থানায় অন্তর্ভুক্ত করতে ভূমিকা রাখেন।
৩) ১৯৮৬ সালে বুড়িচং এরশাদ ডিগ্রী কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
৪). ১৯৮৬ সালে বুড়িচং পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও ব্রাহ্মণপাড়া ভগবান উচ্চ বিদ্যালয় সরকারিকরণ করেন।
৫). তিনি বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় দুইটি সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করতে ভূমিকা রাখেন।
৬). তিনি বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় শতাধিক প্রাইমারী, মাধ্যমিক ও হাই স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এমপিওভুক্তি করেন।
৭). তিনি সরকারি অনুদানে শত শত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও মন্দিরের ভবন উন্নয়ন ও সংস্কার করেন।
৮).
তিনি ইউনিয়ন ভিত্তিক সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিক ও পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিক
স্থাপন করে চিকিৎসা সেবা মানুষের কাছেপৌছে দিতে বিশেষ ভুমিকা রাখেন।
০৯). তিনি স্বাধীনতাত্তোর বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় পোস্ট অফিস ভবন, ডাকবাংলো, এবং টিএনটি অফিস স্থাপনে ভূমিকা রাখেন।
১০).
তিনি বুড়িচং উপজেলা সদরে একটি সৌন্দর্যমণ্ডিত, অত্যাধুনিক এবং দৃষ্টিনন্দন
জামে মসজিদ নির্মানে সরকারি অর্থায়নের ব্যবস্থা করেন।
১১). তিনি বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় পাঁচ শতাধিক কিলোমিটার নতুন ও পুরাতন রাস্তা তৈরী ও মেরামত করতে ভূমিকা রাখেন।
১২).
তিনি সরকারি অনুদানে কুমিল্লার পালপাড়াস্থ গোমতী নদীর প্রথম ব্রীজ ও
গোবিন্দপুর-এবদারপুর গোমতী ব্রীজ নির্মাণ করার ব্যবস্থা করেন।
১৩).
তিনি প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য কুমিল্লা-বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া-মিরপুর সড়ক ও
৩৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য কুমিল্লা-চানপুর-ফকিরবাজার-শশীদল-শালদা নদী সড়ক
দুইটিকে এলজিইডি থেকে রোডস এন্ড হাইওয়েতে স্থানান্তর করে পুন:নির্মাণ ও
প্রসস্থকরণ করতে সরকারি অনুমোদনের ব্যবস্থা করেন।
১৪). তিনি দেবপুরে বিদ্যুৎ সাবস্টেশন তৈরীর ব্যবস্থা করেন।
১৫). তিনি ২০০১-২০০৬ সালে পল্লী বিদ্যুতায়নে মাধ্যমে বুড়িচং ব্রাহ্মণপাড়ার অধিকাংশ গ্রামে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়ার ব্যবস্থা করেন।
১৬). তিনি ৮০ এর দশকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সহযোগীতায় গোমতী নদীর বেরী বাধ নির্মাণ করে বন্যা নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন।
১৭). তিনি ঘুঙ্গুর নদী খনন করে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ও নদী শাসনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।
১৮). তিনি দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করেন।
১৯). তিনি ভারতের সাথে বর্ডার সিকিউরিটি উন্নয়ন ও চোরকারবারী রোধে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।
২০).
তিনি প্রায় ৩০টি হাটবাজারের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে স্থানীয়দের জন্য
দোকানঘর নির্মাণ করেন এবং প্রকৃত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করেন।
২১). তিনি
সহায় সম্বলহীন গৃহহীন মানুষের জন্য সরকারি অর্থায়নে বাকশীমুল ও রাজাপুরের
ইউনিয়নের পাহাড়পুরে “গুচ্ছগ্রাম” প্রতিষ্ঠা করেন।
২২). বুড়িচং ব্রাহ্মণপাড়ায় বর্ডারে ভারতের সীমানা পিলার স্থাপন ও জমি চিহ্নিতকরণে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক:
অধ্যাপক
মো: ইউনুস আমেরিকার প্রভাবশালী সেনেটর, কংগ্রেসম্যান ও ডেমোক্রেটিক
পার্টির নেতাদের সাথে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। ২০১০
সালে তিনি স্বস্ত্রীক তার আমেরিকা প্রবাসী জ্যেষ্ঠ পুত্র ড. নাজমুল হাসান
শাহীনের বাসায় বেড়াতে যান। এসময় তিনি প্রভাবশালী ইউএস সেনেটর কার্ল লেভীন,
ইউ এস সিনেটর ডেভী স্টেভেনো এবং ইউএস কংগ্রেসম্যান জন কনিয়ার্স ও ইউএস
কংগ্রেসওম্যান কেরোলাইন কিলপ্যাট্রিক কর্তৃক বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও
অর্থনৈতিক অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরুপ ৪টি বিশেষ
সন্মাননা লাভ করেন। তিনি ইউএস কংগ্রেসম্যান হ্যানসেন হাশিম ক্লার্ক, ইউএস
কংগ্রেসম্যান জন ডিঙ্গেল, মিশিগান স্টেইট হাউস স্পীকার এ্যান্ডি ডীলন ও
মিশিগান ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান মার্ক ব্রোয়ার সহ অনেক শীর্ষ
নেতাদের সাথে সাক্ষাত করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে আমেরিকার সহযোগিতা
অব্যাহত রাখতে অনুরোধ জানান।
বাংলাদেশে নিযুক্ত তৎকালীন আমেরিকান
এ্যাম্বাসেডর ড্যান মজিনার সাথে ছিলো অধ্যাপক মো: ইউনুসের বন্ধুত্বপূর্ণ
সম্পর্ক। বিভিন্ন সময়ে তারা একে অন্যকে দাওয়াত করেছেন এবং অত্যন্ত
হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে আমেরিকা ও বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলাপ
আলোচনা করেছেন।
অধ্যাপক মো: ইউনুস ব্যক্তিগত ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজে
আমেরিকা, কানাডা, ইংল্যান্ড, মেক্সিকো, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত ও সৌদি
আরব ভ্রমণ করেন।
একজন ক্রীড়াবিদ ও নাট্যকার:
অধ্যাপক মো: ইউনুস
ছিলেন একজন বিশিষ্ট ক্রীড়ানুরাগী। তিনি নিজেও ছিলেন একজন কীর্তিমান
ফুটবলার। একই সাথে তিনি ছিলেন একজন নাট্য অভিনেতা। জীবনের একসময় তিনি নাটকে
অভিনয় করতে ভালোবাসতেন। তিনি টিপু সুলতান ও নবাব সিরাজউদ্দোলা চরিত্রে
অভিনয় করেছেন বহুবার।
উপসংহার:
অধ্যাপক মো: ইউনুস বুড়িচং ও
ব্রাক্ষনপাড়ার ১৭টি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের হাজারো হাজারো মানুষের নাম ও
পরিচয় জানতেন। তিনি দিনের ২৪ ঘন্টাই তার ব্যক্তিগত ফোন খোলা রাখতেন এবং
মানুষের ফোন রিসিভ করে তাদের সুখ দু:খের কথা শুনে সম্ভব সবরকমের সাহায্য ও
সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। তিনি তার সুন্দর ব্যবহার, নীতি নৈতিকতা ও
নি:স্বার্থ কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে যুগে যুগে ইতিহাস হয়ে বেঁচে থাকবেন এই
জনপদের মানুষের অন্তরে।