
সারা দেশে গত কয়েক দিনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিরাপত্তা-দুর্বলতার বিষয়টি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায় গত শনিবার রাতে এক গৃহবধূকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাঁর দুই শিশুসন্তান যেন চিৎকার করতে না পারে, সে জন্য তাদের মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। দুর্বৃত্তরা চলে গেলে স্কচটেপ পেঁচানো চার বছরের শিশুকন্যা পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের ঘটনাটি জানায়।
বিজ্ঞাপন
পরে তারা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে। সাভারে নিখোঁজের ১১ দিন পর নির্মাণাধীন বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে এক কলেজছাত্রের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। যশোরে দলীয় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় এক কিশোরকে ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার ভোরে রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকায় এক দন্ত চিকিৎসককে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ওদিকে রাজধানীর শাহজাহানপুরের রাস্তায় প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপুসহ দুজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে ভাড়াটে খুনি বলে মনে করছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ চারটি মামলা রয়েছে। সেই মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য টিপুকে হত্যার কন্ট্রাক্ট পায় সে।
কালের কণ্ঠে চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে প্রতিদিন সারা দেশে গড়ে সাতজন করে খুন হয়েছে। মোট হত্যাকাণ্ড ঘটেছে চার শর বেশি। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে সারা দেশে খুন হয়েছে তিন হাজার ৫৩৯ জন। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ জন করে খুন হয়েছে ওই বছর। চলতি বছর এ পর্যন্ত দৈনিক সাতজন খুন হয়েছে।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। কারণ গুরুতর অপরাধের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। সারা দেশেই অপ্রীতিকর ঘটনা বাড়ছে। সমাজের কিছু মানুষ যেন দিন দিন অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে। ধারণা করা যেতে পারে, এক শ্রেণির মানুষ পুলিশ প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, মানবিক মূল্যবোধ—কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছে না।
হঠাৎ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটল কেন? কেন খুনখারাবির লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না? কেন বন্ধ হচ্ছে না নৃশংস অমানবিকতা? সাধারণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে মানুষের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক।
খুনখারাবির লাগাম টেনে ধরতে না পারলে জনমনে নিরাপত্তাহীনতার বোধ আরো তীব্র হবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে দুশ্চিন্তা দেখা দেবে। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, তুচ্ছ কারণে ঘটা এসব অপরাধ থেকে উত্তরণ দ্রুত সময়ে ঘটবে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অন্যায়কারীর শাস্তি হলে তা দেখে অন্যরা অন্যায় কাজে নিরুৎসাহ হবে। আর সে কারণেই আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে আরো তৎপর হতে হবে। অপরাধীদের আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে।