সৌদি আরবে দুর্বৃত্তদের হাতে প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি তুহিন
Published : Monday, 7 March, 2022 at 12:00 AM
সৌদিপ্রবাসী বাংলাদেশি তুহিন আহমেদ (২২) গত বৃহস্পতিবার রাতে দেশে থাকা ছোট ভাই তানভির আহমেদকে মুঠোফোনে জানাচ্ছিলেন, তাঁকে খুব শিগগির সৌদিতে নিয়ে যাবেন। পাশাপাশি তিনিও দেশে ফিরে বিয়ে করবেন। স্বপ্ন নিয়ে দুই ভাইয়ের এ কথোপকথনের এক দিন পরই সৌদি আরবে নিজ কর্মস্থলে দুর্বৃত্তদের হামলায় খুন হন তুহিন।
গত শুক্রবার মধ্যরাতে সৌদির জেদ্দা শহরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একটি পরিবারের স্বপ্ন থেমে গেছে। নিহতের পরিবারে চলছে মাতম। নিহত তুহিন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের রমজানপুর গ্রামের মৃত তারেক উদ্দিন ও শিলা বেগম দম্পতির ছেলে।
পরিবারের বরাত দিয়ে নিহতের খালাতো ভাই জুয়েল আহমেদ জানান, আট বছর আগে তুহিনের বাবা মারা যান। বাবা মারা যাওয়ার পর সংসার চালাতে গিয়ে তুহিনের মা শিলা বেগম দুই ছেলেসন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়েন। একপর্যায়ে জীবিকার তাগিদে তিনি সাত বছর আগে সৌদি আরবে যান। দুই বছর পর বড় ছেলে তুহিনকেও সেখানে নিয়ে যান। সৌদিতে একটি খাবারের দোকানে চাকরি করতেন তুহিন।
জুয়েল আহমেদ বলেন, শুক্রবার রাতে কর্মস্থলে কাজ শেষে তুহিন তাঁর তিন সহকর্মী ইয়েমেনের নাগরিকদের নিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সহকর্মীদের একজনের সঙ্গে তুহিনের বচসা হয়। একপর্যায়ে ইয়েমেনের ওই তিন নাগরিক মিলে তুহিনকে প্রথমে লাঠিপেটা ও পরে ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত ইয়েমেনের নাগরিকদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের একজন এখনো পলাতক।
নিহতের ছোট ভাই তানভির আহমেদ সকালে বলেন, সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। ভাই বলছিলেন, শিগগিরই তাঁকে সৌদিতে নিয়ে যাবেন। মায়ের সঙ্গে দুই ভাই একসঙ্গে বসবাস করবেন। আরও জানিয়েছিলেন, আগামী হজের পর বিয়ের জন্য বাড়িতে আসবেন। এ কথা শেষ হতে না হতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তানভির।
রাজগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. নোমান আহমেদ বলেন, নিহতের ছোট ভাই তানভির ও চাচারা বাড়িতে আছেন। ঘটনার পর থেকে ওই বাড়িতে বিলাপ চলছে। লাশ দেশে আসবে কি না, তা এখনো পরিবার জানে না। নিহতের মা সেখান থেকে সিদ্ধান্ত জানাবেন। লাশ দেশে আনতে চাইলে তিনি ও তাঁর ইউপি সার্বিক সহযোগিতা করবেন। নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন বলেন, পরিবারের সদস্যরা তুহিনের লাশ দেশে আনতে চাইলে সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের সহযোগিতা করা হবে।