দেবীদ্বার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত দিনের সাজা শেষে ফিরল প্রার্থীর ভাই ও এজেন্ট
Published : Tuesday, 15 February, 2022 at 12:00 AM
বিশেষ প্রতিবেদক।
সপ্তম ধাপে অনুষ্ঠিত হওয়া কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনেক প্রার্থীর লোকজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দেওয়া হয়েছে জেল জরিমানা। সাত দিনের কারাবাস শেষে বাড়ি ফিরল উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থীর বড় ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য আলী আশরাফ সরকার ও এজেন্ট জহিরুল ইসলাম।
কারাবাস শেষে অনেকটা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আলী আশরাফ সরকার জানান, জীবনে কখনও অন্যায় করিনি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আওয়ামী লীগ রাজনীতির মধ্য দিয়ে রাজনীতি জীবন শুরু করি এখনও আওয়ামী লীগেই আছি। সামান্য এক মেম্বার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে পরিকল্পিত ভাবে পুলিশ আমাকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করে। আর ভ্রাম্যমান আদালতে আমার কোন কথা না শোনেই সাত দিনের জেল দেন! এর চেয়ে বড় দুঃখ আর হতে পারে না।
জানা যায়, ১৪নং সুলতানপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদে ৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে মোরগ প্রতীকে ইছমত আলী সরকার, তালা প্রতীকে সামছুল আলম সরকার ও টিউবওয়েল প্রতীকে মিজানুর রহমান বাবুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই ওয়ার্ডের সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫৬৭। সেখানে ৭টি বুথে ২হাজার ২টি ভোট পড়ে। এর মধ্যে ১২৯টি বাতিল ভোট এবং ১ হাজার ৮৭৩টি বৈধ ভোট গণনা করা হয়। এতে তালা প্রতীক প্রার্থী ৭৭৩ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়।
পরাজিত প্রার্থী ইছমত আলী সরকার অভিযোগ করে বলেন, দুপুর ১টা পর্যন্ত ওই কেন্দ্রে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণ হয়। তারপর থেকে ওই কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ তালা প্রতীকের প্রার্থীর সাথে সখ্যতা গড়ে অসাধু পথ অবলম্বন করে আমার ভোটার ও লোকজনদের উপর চড়াও হতে শুরু করে। আমার ভোটার কেন্দ্রে প্রবেশ করলেই তারিয়ে দেয় পুলিশ। অবৈধ পথ অবলম্বন করে তালা প্রতীকের ব্যালটে সীল মারতে আমার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়। এসময় আমার এজেন্ট জহিরুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। কেন তাকে আটক করল এমন প্রশ্ন করতে আমার আপন বড় ভাই এবং ১নং বুথের এজেন্ট আলী আশরাফ সরকার জানতে চাইলে তাকেও আটক করে পুলিশ। কিছুক্ষণ পর হোমনা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত কেন্দ্রে আসলে তাদের দুইজনেক সাত দিনের কারাদণ্ড দেয়।
প্রার্থী ইছমত আলী আরও জানান, আমি পরপর দুই বারের মেম্বার। দুপুর এটা পর্যন্ত যে পরিমান ভোট পড়েছে তাতেই আমি ৫৭০ ভোট পাই। দুপুর ১টা পর আমার কোন ভোটার ভোট দিতে পারেনি। পুলিশ আমার ভাই ও এজেন্টকে আটক করে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করে দেয়। ওই সুযোগে তালা প্রতীক প্রার্থী অবৈধ ভাবে ভোট লুট করে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. আলতাব হোসেন এর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।