ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
কনডেম সেলে কয়েদির পোশাকে নির্বাক প্রদীপ-লিয়াকত!
Published : Wednesday, 2 February, 2022 at 12:00 AM
নিজস্ব প্রতিবেদক: সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীকে আদালত মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ার পর তাদের কক্সবাজার কারাগারে রাখা হয়েছে। অন্য কয়েদিদের মতো তাদেরও পরানো হয়েছে কারাগারের নির্ধারিত পোশাক। তারা সেখানে দুটি সেলে রয়েছেন। রায় ঘোষণার পর থেকে চুপচাপ রয়েছেন প্রধান দুই আসামি। কারো সঙ্গে তাদের কথা বলতে দেখা যায়নি। এখনো কাউকে তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ।
সোমবার আলোচিত সিনহা রাশেদ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ১৫ আসামির মধ্যে দুজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। আর ছয়জনকে যাবজ্জীবন এবং সাতজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল এই রায় ঘোষণা করেন।
২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। সিনহাকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার পরপরই পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ এবং তৎকালীন সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সিনহার মৃত্যুর পর ৫ আগস্ট টেকনাফের তৎকালীন ওসি প্রদীপসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের বোন শারমিন শাহরিয়ার। সেই মামলায় চার মাস দশ দিন পর এলিট ফোর্স র‌্যাব ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়।
কারা সূত্র বলছে, কনডেম সেল অন্য সেলের তুলনায় আকারে ছোট। সেলের ভেতর আলো-বাতাস তেমন থাকে না, তবে দিনের নির্দিষ্ট সময় আসামিদের সেলের বাইরে হাঁটা-চলার সুযোগ দেওয়া হয়। সোমবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে জেলা কারাগারে পৌঁছানোর পর থেকে একদম চুপচাপ রয়েছেন প্রদীপ ও লিয়াকত। তারা কারো সঙ্গে কথা বলছেন না।
সূত্র জানায়, কারাগারের অন্য বন্দীদের মতো তাদের খেতে দেওয়া হয় সাদা ভাত, মাছ ও সবজি। কনডেম সেলের আসামিরা মাসে এক দিন জেলগেটে গিয়ে দর্শনার্থীদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদেরই কনডেম সেলে বন্দীদের সার্বক্ষণিক পাহারায় রাখা হয়। সেলে একজনের বেশি আসামি রাখা হয় না। মৃত্যুদণ্ডের রায় উচ্চতর আদালত থেকে বাতিল না হওয়া পর্যন্ত কনডেম সেলেই থাকতে হবে প্রদীপ ও লিয়াকতকে।
কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেল সুপার নেচার আলম বলেন, প্রদীপ ও লিয়াকতকে পৃথক দুটি কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। তারা চুপচাপ আছেন। শরীরের অবস্থাও স্বাভাবিক আছে। বাইরের কারও সঙ্গে তাদের দেখা–সাক্ষাৎ হয়নি।
সোমবার বিকালে রায় ঘোষণার পর আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার জন্য প্রদীপকে যখন প্রিজন ভ্যানে তোলা হচ্ছিল, তখন আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়ানো উৎসুক জনতা চিৎকার করে প্রদীপকে গালাগাল করেন।
দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করা ওই হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ এসেছে বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ ও পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে। রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত ও পুলিশের তিন সোর্সসহ ছয়জনের। রায়ে সাজাপ্রাপ্ত আটজনের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও করা হয়। এছাড়া অপরাধ প্রমাণ না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে এপিবিএনের তিন সদস্যসহ সাতজনকে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- পুলিশের এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, রুবেল শর্মা, মোহাম্মদ আইয়াজ আয়াছ, সাগর দেব, নুরুল আমিন এবং নিজাম উদ্দিন। খালাস পাওয়া সাতজন হলেন এপিবিএনের তিন সদস্য এসআই মো. শাহজাহান আলী, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, কনস্টেবল রাজিব হোসেন, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল ছাফানুল করিম, কনস্টেবল কামাল হোসাইন আজাদ কনস্টেবল আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এদিকে রায়ের পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় মামলার বাদী ও সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার বলেন, ‘রায় নিয়ে আমাদের প্রত্যাশার শুরু থেকে বলেছি- মামলার প্রধান দুই আসামি প্রদীপ এবং লিয়াকতের সবোচ্চ সাজা নিশ্চিত করতে হবে। সেটা কিন্তু হয়েছে। রায়েও আমরা সেটা দেখেছি। এই দিক থেকে প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। এজন্য বিজ্ঞ আদালতকে ধন্যবাদ জানাই। আদালত চুলচেরা বিশ্লেষণ করে রায় দিয়েছেন।’
তবে আসামিপক্ষ এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রদীপ কুমার দাশের আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।