
দেশের
বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০২১ সালে ১০১ শিক্ষার্থী
আত্মহত্যা করেছেন। সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশনের গবেষণা
থেকে পাওয়া এমন তথ্য আমাদের সমাজের জন্য একটি বড় ধরনের ঝাঁকুনি। গবেষণা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাত্রীদের চেয়ে ছাত্ররা বেশি আত্মহননের পথে গেছেন।
বেসরকারির চেয়ে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রবণতা বেশি।
করোনা মহামারিকালে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের এই আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া কেন?
বিশেষজ্ঞরা
বলছেন, গুরুতর কোনো মানসিক রোগ না থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পনা বা দীর্ঘমেয়াদি
আত্মহত্যা-চিন্তা ছাড়াই কোনো সংকটে বা মানসিক চাপে হঠাৎ করেই ঝোঁকের বশে
অনেকে আত্মহত্যা করেন বা চেষ্টা চালান। মানসিক চাপে বা কোনো দুর্ঘটনায় খাপ
খাইয়ে নেওয়ার দক্ষতার অভাবে এমনটি ঘটতে পারে। আর্থিক সংকট, বিচ্ছেদ,
পরীক্ষা বা পেশাগত কাজে ব্যর্থতা, গুরুতর শারীরিক রোগ, তীব্র ব্যথা ইত্যাদি
কারণে আত্মঘাতী প্রচেষ্টা নিতে দেখা যায় মানুষকে। ডিপ্রেশন, ব্যক্তিত্বে
সমস্যা ছাড়াও মাদকাসক্তি, অপরাধ বোধ, আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অশিক্ষা,
দারিদ্র্য, দাম্পত্য কলহ, প্রেম কলহ, অভাব-অনটন, দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভোগা,
যৌন নির্যাতন, মা-বাবার ওপর অভিমান, পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট, প্রেমে ব্যর্থ
ও প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকে আত্মহত্যা করেন। সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যা
সংঘটিত হয় ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতার জন্য।
দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গবেষণায়
দেখা যাচ্ছে, করোনাভাইরাস এবং এই মহামারির সঙ্গে জড়িত আনুষঙ্গিক বিষয়াবলি
যেমন—সামাজিক দূরত্ববিধি, কোয়ারেন্টিন, আইসোলেশন, লকডাউন, বন্ধ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিসের দীর্ঘ ছুটি, বিনোদনব্যবস্থার সংকোচন, বেকারত্ব,
মোবাইল-ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার ইত্যাদির পারিবারিক-সামাজিক
প্রতিক্রিয়াও মানসিক চাপের কারণ হয়েছে।
চিকিৎসক ও গবেষকরা বলছেন, এসব
আত্মহত্যার সব না হলেও বেশির ভাগই প্রতিরোধযোগ্য। আগে থেকে সঠিক ব্যবস্থা
নেওয়া হলে জীবনের এ মর্মান্তিক পরিণতি এড়ানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
আত্মহত্যার প্রতিরোধ করতে হলে প্রথমে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কাজ করতে হবে।
অভিভাবক ও পরিবার এখানে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের
বুঝতে হবে বিষয়টি। তাঁদের একটি বিশাল ভূমিকা রয়েছে। আবার সমাজও কিন্তু
এখানে অনেক বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। পরিবার ও সমাজ এগিয়ে এলে আত্মহত্যা
প্রতিরোধ অনেকাংশে সম্ভব হবে। মানসিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা যদি উন্নত থাকে,
তাহলে এটি প্রতিরোধ সম্ভব। সবার দায়িত্বশীলতা আত্মহত্যা প্রতিরোধে ভূমিকা
রাখবে।