ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
রহস্য উদঘাটন করুন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ফাইল গায়েব
Published : Wednesday, 3 November, 2021 at 12:00 AM
রহস্য উদঘাটন করুন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ফাইল গায়েবদুর্নীতিতে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ বেশ কয়েকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ধারাবাহিকভাবে দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ নেওয়ায় দুর্নীতি কিছুটা কমেছে। কিন্তু অবস্থান এখনো চ্যাম্পিয়নদের কাছাকাছিই রয়ে গেছে। বাংলাদেশে একসময় রাজনীতিবিদদের দুর্নীতি অন্যদের টপকে গিয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, প্রশাসনের দুর্নীতি অন্যদের পেছনে ফেলেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির জরিপেও উঠে এসেছে এমন তথ্য। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তেও উঠে এসেছে অনেক কর্মকর্তার নাম। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, করোনা মহামারির কারণে দেশজুড়ে যখন রীতিমতো হাহাকার চলছিল, তখনো সরকারের স্বাস্থ্য খাতের অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এমনকি করোনা রোগীদের স্বাস্থ্যসেবায় গৃহীত কর্মসূচিতেও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক একজন ডিজিসহ ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি দুদক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। আরো অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত চলছে। এমন একসময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি হয়ে গেছে। বিষয়টি সর্বমহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে বহু প্রতিবেদন হয়েছে। করোনার ভুয়া টেস্ট ও সার্টিফিকেট দেওয়া নিয়ে রিজেন্ট হাসপাতাল ও তাঁর মালিক সাহেদ ব্যাপক আলোচিত হয়েছিলেন। গ্রেপ্তারকৃত সেই সাহেদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের অনেকের যোগসাজশের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছিল। সাবেক ডিজিসহ আরো কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে করোনা চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ করা সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আছে। এসব বিষয়ে প্রতিবেদন করতে গিয়ে অতীতে কোনো কোনো সাংবাদিককে নির্যাতনের মুখোমুখি পর্যন্ত হতে হয়েছে। অনেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তথ্য চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। সেই মন্ত্রণালয় থেকে ১৭টি ফাইল গায়েব হয় কিভাবে? জানা গেছে, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তারা প্রয়োজনে কর্মকর্তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে জানানো হয়েছে। বিষয়টিকে কোনোমতেই হালকাভাবে দেখার উপায় নেই। দুদকসহ অন্যান্য সংস্থা যখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি নিয়ে কাজ করছে, থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ছে, তখন অফিসের ফাইল কেবিনেট থেকে ফাইল গায়েব হয়ে যাওয়া বড় কোনো ষড়যন্ত্রের আভাসই দেয়। আর যেখানে ফাইলই গায়েব হয়ে যায়, সেখানে ফাইলের ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সব নথি গায়েব হয়ে যাচ্ছে কি না কিংবা বদলে যাচ্ছে কি না তা-ই বা কে জানে?
রাষ্ট্রের প্রশাসন যদি দুর্নীতিমুক্ত না হয়, রাষ্ট্রের সব উন্নয়নপ্রচেষ্টা হুমকির মুখে থাকে। উন্নয়নের গতি শ্লথ হয়ে যায়। আমরা অতীতে বালিশকাণ্ডসহ অনেক কাণ্ডের খবর দেখেছি। বনকর্তার বাসা থেকে টাকার বালিশ উদ্ধার করতে দেখেছি। রেলকর্তার কাছ থেকে টাকার বস্তা উদ্ধার হতে দেখেছি। অনেক পুলিশকর্তার বড় বড় দুর্নীতির খবরও দেখেছি। এখন সময় হয়েছে দুর্নীতির লাগাম টানার। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে গায়েব হওয়া ফাইলের সঙ্গেও বড় দুর্নীতির যোগসাজশ রয়েছে। তাই এর কারণ উদঘাটনসহ জড়িতদের আইনের আওতায় আনতেই হবে।