
গার্মেন্ট বা
পোশাকশিল্প এখন পর্যন্ত দেশের প্রধান রপ্তানি খাত। করোনাভাইরাসের
প্রাদুর্ভাবের পর দেশের তৈরি পোশাকশিল্প বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। শুধু
বাংলাদেশ নয়, করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রভাব পড়ে সারা বিশ্বে। বাংলাদেশের
পোশাকশিল্পের রপ্তানির প্রধান বাজার ইউরোপ ও আমেরিকায় করোনা সংক্রমণ বেড়ে
গেলে চাহিদা কমে যায়। তীব্র সংকটে পড়ে ব্যবসা গুটিয়ে নেয় অনেক বড়
ব্র্যান্ড। অনেক ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠান নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করে। এ সংকটে
চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশের পোশাক খাত। ২০১৩ সালের পর
এ ধরনের সংকটে পড়তে হয়নি বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পকে। ২০১৩ সালে রানা
প্লাজা ধসের পর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমে
গিয়েছিল। ২০১৮ সালে এসে আবার এই বাজার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। উদ্যোক্তারা
জানাচ্ছেন, ২০১৮ সাল থেকেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে থাকে। আমদানিকারকরা
ক্রমে বেশি করে ঝুঁকতে থাকে বাংলাদেশের দিকে। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে
সেই ধারায় বড় ধরনের ছেদ পড়ে। করোনার প্রকোপ কেটে যেতে শুরু করেছে। একই
সঙ্গে পোশাক খাতের দুঃসময়ও আস্তে আস্তে কেটে যেতে শুরু করেছে। সোমবার জাতীয়
দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে গত সেপ্টেম্বর মাসে ৩৪১
কোটি ৮৮ লাখ ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।
একক মাস হিসেবে এযাবৎকালের এটাই সর্বোচ্চ রপ্তানি। যেখানে প্রবৃদ্ধি ছিল
প্রায় ৪২ শতাংশ। তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা বলছেন, কভিড পরিস্থিতির স্থবিরতা
কাটিয়ে উঠছে পোশাকের বাজার।
সম্প্রতি আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে
জনজীবন আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। শিল্প-কারখানা, অফিস-আদালতের
পাশাপাশি খুলে যাচ্ছে মার্কেট ও শপিং মল। ক্রেতারা আবার কেনাকাটা শুরু
করেছে। ফলে বাড়ছে পোশাকের চাহিদা। আর তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের তৈরি
পোশাকের রপ্তানিও অনেক বেড়েছে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, কভিড পরিস্থিতির
কারণে যথাসময়ে পণ্য ডেলিভারি পাবে না এই আশঙ্কায় ভিয়েতনাম থেকে কিছু অর্ডার
সরে গেছে। আর পরবর্তী চয়েস হিসেবে ক্রেতাদের জন্য বাংলাদেশ ভালো জায়গা।
কারণ বাংলাদেশ এই সেক্টরে দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান ধরে
রেখেছে।
তবে বাংলাদেশকে এখন বুঝেশুনে এগোতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে। লক্ষ
রাখতে হবে নিজেদের সক্ষমতার দিকে। অর্ডার বেশি আসছে, কিন্তু অতিরিক্ত
অর্ডার নেওয়া আমাদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। সঠিক সময়ে পণ্য ডেলিভারি
দিতে না পারলে তখন হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। ভিয়েতনাম থেকে কিছু
অর্ডার বাংলাদেশে শিফট হওয়ায় রপ্তানি বেড়েছে। আবার বাংলাদেশে বর্তমানে যে
বায়াররা কাজ করেন তাঁদের বিক্রিও বেড়েছে। এখন কাজের দক্ষতা দিয়ে নিজেদের
বায়ারদের কাছ থেকে বাড়তি অর্ডার আদায় করে নিচ্ছে বাংলাদেশ। এই ইতিবাচক
অবস্থা ধরে রাখতে হবে। লক্ষ রাখতে হবে কাজের মানের দিকেও। তৈরি পোশাক খাত
এগিয়ে যাক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।