ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
সবুজ শহরের স্বপ্নে
Published : Wednesday, 27 October, 2021 at 12:00 AM
সবুজ শহরের স্বপ্নেশাইখ সিরাজ ||
কয়েক বছর ধরেই ঢাকা শহরের বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্বের বসবাসযোগ্য শহরগুলোর যে নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ), এতে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অবস্থান হয়েছে নিচের দিক থেকে ৪ নম্বর। ২০২১ সালের এই তালিকার ১৪০টি দেশের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৩৭তম। তালিকায় ঢাকার নিচে আছে পাপুয়া নিউগিনির পোর্ট মোরেসবি, নাইজেরিয়ার লেগোস ও সিরিয়ার দামেস্ক। এই তালিকার মানদ-গুলো কী কী, জানি না। তবে আমি এ ঢাকা শহরেই বেড়ে উঠেছি, বড় হয়েছি। শৈশবের দেখা ঢাকা শহরের সঙ্গে বর্তমানের এই শহর মেলানো যায় না। কী অদ্ভুত সুন্দর এক শহর ছিল ঢাকা! আমার শৈশবে ঢাকা ছিল সবুজ এক শহর। ওই সময় আমার বাসার এলাকা খিলগাঁও ছিল মূলত একটা গ্রাম। বিশ্বরোডের ধারে বিশাল অরণ্যশোভিত বনজ, ফলদসহ নানা গাছের সমারোহে সবুজ এক বসতি ছিল। গাছপালায় এত ঘন ছিল যে, সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়তেই অন্ধকার নেমে আসত, বিকালেই ডেকে উঠত শিয়াল। কাছেই ছিল তেজগাঁও বিমানবন্দর। বিমান ল্যান্ডিং বা উড়ে যাওয়ার সময় শব্দ শুনে আকাশের দিকে তাকালে গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে কখনো কখনো ঢাউস আকারের বিমান চোখে পড়ত ঠিকই কিন্তু গাছের ডালপালা, পাতার কারণে পূর্ণ বিমান দেখাটা কখনো সম্ভব হতো না। গাছপালায় এতটাই ঘন ছিল প্রকৃতি। মনে পড়ে রাস্তাঘাটে হাঁটার সময় খুব সাবধানে থাকতাম, এই বুঝি কোনো গাছের ডাল থেকে মৌমাছি তেড়ে আসে। প্রাকৃতিকভাবেই নানা ফুলের গাছগাছালিতে ভরা ছিল খিলগাঁও। ফলে মৌমাছি বাসা বাঁধত গাছে গাছে।
আমাদের খিলগাঁও উন্নয়নের ধারায় আসে কমলাপুর রেলস্টেশন নির্মাণের সময়। তখন শুনেছি এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম রেলস্টেশন হবে কমলাপুর রেলস্টেশন। রেললাইনের পাশাপাশি হবে ১০০ ফুটের বড় রাস্তা। শহর উন্নয়নে সারি সারি গাছ কেটে ফেলা হলো। এভাবেই প্রয়োজনের তাগিদে শহর বড় হতে থাকল। বাড়তে থাকল মানুষ, বাড়তে থাকল স্থাপনা। বুড়িগঙ্গার টলটলে পানি আমরাও দেখেছি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দূষিত হলো বুড়িগঙ্গা। ধূসর হলো ঢাকা শহর। আমরাই ঢাকাকে নষ্ট করে ফেলেছি। ঢাকাকে ফের বাসযোগ্য করে তুলতে হলে অবশ্যই সবুজ করতে হবে। এখানে যেভাবে বেড়ে উঠছে ইট-কাঠ-পাথরের জঞ্জাল, সেভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে না সবুজ। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো অনেক আগে থেকেই সবুজায়নের তাগিদ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। যেমন- জাপান ১৯৯৭ সালে কিয়োটো প্রটোকলের ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রিন হাউস গ্যাসের প্রভাব মোকাবিলার জন্য ভবন নির্মাণের সময় ছাদ ও কার্নিশে বাধ্যতামূলক প্রশস্ত বাগান গড়ে তোলার ওপর জোর দেয়। তারা ছাদে সবুজের চাষ করাটাকে আইন পাস করে বাধ্যতামূলক করেছেন। প্রতিটি বাড়ির ছাদে গাছ লাগানোকে করা হয়েছে অপরিহার্য। কারণ বসবাসের শহরটিকে সুরক্ষিত করতে হবে। গড়তে হবে অক্সিজেনের খামার। মানুষের বসবাসের উপযোগী করে তুলতে হবে। কিন্তু আমাদের এখানে সেই পরিবেশটা নেই। আমরা যখন বাড়ি বা অট্টালিকা তৈরি করি, তখন বাড়ির ছাদটা যে সবুজ হওয়া দরকার- এ চিন্তাটা আমাদের থাকে না। দুয়েকজন বাড়ি নির্মাণের সময় ছাদকৃষির বিষয়টি মাথায় রাখেন। বহুমুখী চিন্তা থেকেই তিনি বাড়ি নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে ছাদকৃষিতে সাজিয়ে তোলেন। গত কয়েক বছরে ঢাকাকে সবুজ নগরে পরিণত করতে একটা উদ্যোগ নিয়েছি। চ্যানেল আইয়ে ছাদকৃষি বিষয়ে অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যমে নগরবাসীকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি নিরন্তর।
শুধু যে শহর সবুজ হচ্ছে, তা নয়। নিরাপদ খাদ্যের প্রশ্নে অনেকেই ছাদকৃষিতে ভরসা করছেন। ইতোমধ্যে অনেকে ছাদকৃষির মাধ্যমে সফল হয়েছেন। আমি দেখেছি ছাদে লাউ, ঝিঙা, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, বিভিন্ন সবজি, আম, পেয়ারা, মাল্টা, আখ, ডালিম, জাম্বুরা, কামরাঙা, জামরুলসহ নানা ফলের চাষ করে পারিবারিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে।
চ্যানেল আইয়ে আমি দুই শতাধিক ছাদকৃষি পর্ব প্রচার করেছি। দেখেছি অবসরে চলে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী কিংবা ব্যবসায়ী-শিল্পপতি নিজেদের অবসর সময়টাকে ফলপ্রসূ করে তুলছেন ছাদে এক টুকরো ছাদকৃষির সঙ্গে যুক্ত হয়ে। তারা বলেছেন, ছাদকৃষি দিয়েছে আত্মিক প্রশান্তি। যার নিজস্ব ভবন ও ছাদ রয়েছে, তারা ছাদে একস্তর বা দ্বিস্তরবিশিষ্ট ছাদকৃষি গড়ে তুলছেন। আবার যাদের নিজস্ব বাড়ির ছাদ নেই, তারা বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলে ছাদের একপাশে বা বারান্দায় গড়ে তুলেছেন নিজস্ব ছাদকৃষি। এ ছাদকৃষি দিয়ে তিনি খাদ্যের চাহিদা পূরণ করছেন, মিটছে পারিবারিক পুষ্টি, পাচ্ছেন মানসিক প্রশান্তি। এর পাশাপাশি পালন করছেন একটা জাতীয় দায়িত্ব। শহরকে সবুজায়নে সহায়তা করছেন। নগরে অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছেন।
আশার কথা হচ্ছে, ছাদকৃষি নিয়ে আমার উদ্যোগটি ছড়িয়ে পড়েছে অনেকখানি। ছাদকৃষি ও এর বিজ্ঞানসম্মত দিকগুলো নিয়ে গবেষণা করেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ। এ বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুব ইসলামের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী একটি মডেল ছাদকৃষি গড়ে তুলেছেন। ড. মাহবুব জানিয়েছিলেন- টেলিভিশনে অনুষ্ঠান দেখে নগরবাসী যখন উদ্বুদ্ধ হচ্ছে ছাদকৃষিতে, তখন চিন্তা করলেন এর একটা গবেষণারও প্রয়োজন সৃষ্টি হয়েছে। ওই তাগিদ থেকেই তিনি গড়ে তুলেছেন ছাদকৃষি গবেষণাগারটি। ২০১৮ সালে তিনি ছাদে টব, কাঠের বাক্স, সিমেন্টের স্ট্রাকচারসহ বিভিন্ন কাঠামোয় ফল-ফসল চাষ করে ফলনের একটা তুলনামূলক চিত্র আমাদের দেখিয়েছিলেন। এর পাশাপাশি ছাদকৃষিতে সেচের বিষয়টি নিয়ে তিনি ও তার শিক্ষার্থীরা মিলে কাজ করছিলেন। তখন ড. মাহবুব জানিয়েছিলেন, তিনি ছাদকৃষির একটি মডেল তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ঠিক এক বছর পর ২০১৯ সালে আবার সেখানে দেখেছি মডেল ছাদকৃষিটির গবেষণা অনেক দূর এগিয়েছে। ছাদকৃষি উদ্যোক্তাদের কাছে আমি সব সময়ই জানতে চাই, ছাদের নিচের ঘরটি শীতল থাকে কিনা। তাদের সবারই উত্তর ছিল, হ্যাঁ। এর সত্যতা মেলে অধ্যাপক মাহবুবের কথায়। তিনি জানিয়েছিলেন, তাদের গবেষণায় দেখেছেন- যে ছাদে ছাদকৃষি আছে, সে ছাদের ছাদপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৮ ডেগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কম থাকে। ফলে ছাদকৃষি রয়েছে- এমন ছাদের নিচের ঘরটিতে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কম থাকে। ঘরটি থাকে শীতল। অনেকেই বলেন, ছাদকৃষি ছাদের ক্ষতি করে। কিন্তু এ গবেষক বলেছেন ভিন্নকথা। ছাদকৃষি যেমন ছাদের নিচের ঘরটিকে রাখে শীতল, তেমনি ছাদটিকে দেয় সুরক্ষা। তিনি বলেন, ছাদকৃষির ফলে ছাদের স্থায়িত্ব বাড়ে। কারণ ছাদকৃষি না থাকলে ছাদপৃষ্ঠ গ্রীষ্মকালে ৫০ ডিগ্রি পর্যন্ত উত্তপ্ত হয়। ফলে উচ্চতাপ ইট, বালু, পাথর, সুরকির ক্ষতি করে।
ছাদকৃষির দেশব্যাপী প্রসার এবং প্রযুক্তিগতকরণের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. শেখ আহমাদ আল নাহিদ শিক্ষকদের বাসভবনের ছাদে গড়ে তুলেছেন সমন্বিত ছাদকৃষি ব্যবস্থাপনা গবেষণাকেন্দ্র। সেই ব্যবস্থাপনাও ঘুরে দেখে আসার সুযোগ হয়েছে। ড. শেখ আহমাদ আল নাহিদের সঙ্গে আলাপে জানিয়েছিলেন, ছাদকৃষির প্রসার ও বাণিজ্যিকীকরণের উদ্দেশ্যে ছাদকৃষিতে উন্নত প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন তারা একদল উদীয়মান গবেষক। ছাদকৃষিতে পানির অপচয় রোধে পানির পুনর্চক্রায়ন, মাছ ও গাছের পুষ্টি চক্র স্থাপন, মাছের প্রাকৃতিক খাবারের চাষ, শোভাবর্ধক জলজ উদ্ভিদের চাষ, দেশীয় রঙিন মাছের প্রজাতি উদ্ভাবন, দেশীয় শোভাবর্ধক মাছের রঙ উন্নতকরণ, রঙিন মাছের প্রজনন, ড্রাগন ফলসহ অন্যান্য বিদেশি ফলমূল চাষ, ভার কমাতে গাছের জন্য মাটির বিকল্প হিসেবে তুষ এবং নারিকেল খোসার ব্যবহার, সহজলভ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে অ্যাকুয়াপনিক্স, ভার্টিপনিক্স ও হাইড্রোপনিক্স তৈরি, ছাদে পরিবেশবান্ধব কম্পোস্টিং ইউনিট তৈরিসহ নানাবিধ বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন তারা।
পুরো পৃথিবী এখন সোচ্চার ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচারের বিষয়ে। বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং জলবায়ুর পরিবর্তন পৃথিবীর জীব ও প্রাণের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এ কারণে কৃষিকেই সবচেয়ে বেশি মুখোমুখি হতে হচ্ছে পরিবর্তিত জলবায়ুর। এই বিরূপ পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে কৃষির সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। মাটি ও পানি সংকটের মধ্য থেকেই ফলিয়ে নিতে হবে কাক্সিক্ষত ফসল। বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা পরিবর্তিত জলবায়ু মোকাবিলা করে টেকসই উন্নয়নে কৃষিকে যুক্ত করার এ অ্যাপ্রোচটিকে বলছে ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার। এটি কোনো কৌশল নয়, বলা যায় কৃষিকে টিকিয়ে রাখার সম্মিলিত প্রয়াস। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সহ গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশ জোরেশোরে ছাদকৃষি ও নগরকৃষি নিয়ে তাদের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।
তরুণদের জন্য ছাদকৃষি হতে পারে নতুন নতুন উদ্যোগের ক্ষেত্র। ছাদকৃষির এ প্রসারকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে নেওয়া যায় নতুন নতুন উদ্যোগ। মহল্লার কিছু ছাদ বেছে নিয়ে অর্গানিক ছাদকৃষি করে উৎপাদিত ফল-ফসল বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। ফ্রান্সে দেখেছি রেস্তোরাঁর ছাদে উৎপাদিত তরতাজা শাকসবজি দিয়ে খাবার তৈরি করে বিক্রি করতে। এতে গ্রাহক যেমন গাছ থেকে সবজি তোলার স্বাদ পাচ্ছেন, তেমনি পাচ্ছেন সতেজ সবজির স্বাদ।
এ প্রজন্মের প্রকৌশলবিদ্যার শিক্ষার্থীরাও নগরকৃষির বিষয়টি নিয়ে ভাবছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তমাল অ্যাগ্রোপলিস নামে একটা প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করেছিল। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েক শিক্ষার্থীর প্রজেক্ট প্রেজেন্টেশনে উপস্থিত থাকার সুযোগ হয়েছিল। দেখলাম তারাও স্থাপত্য কলাকৌশলে কৃষিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে নগর সবুজায়নে ছাদকৃষি বা নগরকৃষির বিকল্প নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শহর বড় হতে থাকবে। শহরের আশপাশের কৃষিজমিতে গড়ে উঠবে শহরের স্থাপনা। তাই পৃথিবীর সবুজ বজায় রাখতে হলে শহরের স্থাপনার ছাদগুলোকে সবুজ করতে হবে। নিরাপদ খাদ্যের তাগিদেই শুধু নয়, পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ছাদকৃষি তথা নগরকৃষিকেও সমান গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।
ঢাকা শহরকে দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে ও সবুজায়ন করতে আমি মনে করি, ছাদকৃষির রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। শহরের সব ছাদ গাছগাছালিতে সবুজ হয়ে উঠলেই ঢাকা হয়ে উঠবে সবুজ এক শহর।
লেখক:মিডিয়া ব্যক্তিত্ব
পরিচালক, চ্যানেল আই