
ক্যাচ
মিসেই ভঙ্গ হয়েছে স্বপ্ন, তাই হাই ক্যাচিং দিয়েই শুরু হয়েছে অনুশীলন। বেশ
কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে চলা এই ক্যাচিং অনুশীলনেও হাত ফসকেছে নাঈম শেখ-লিটন
দাসদের। বেশ কিছুক্ষণ ক্যাচিংয়ের পর ক্রিকেটাররা যে যার বিভাগ নিয়ে মেতে
ওঠেন।
মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) বিশাল দুবাই স্পোর্টস সিটির ভেতরে আইসিসি
ক্রিকেট একাডেমির সবুজ গালিচায় বাংলাদেশ দলের অনুশীলনের এমন দৃশ্য দেখা
যায়।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচকে কেন্দ্র করে অনুশীলন হওয়ার কথা ছিল
আবু ধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। কিন্তু তার পরিবর্তে হয় দুবাইয়ে
আইসিসি ক্রিকেট একাডেমিতে। বাংলাদেশ দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে
ঘাঁটি গেড়েছে দুবাইতে, প্রায় দেড় ঘণ্টার দূরত্বে আবু ধাবি না গিয়ে অনুশীলন
সারে এই মাঠেই।
স্থানীয় সময় দুপুর ২টা থেকে শুরু হয় অনুশীলন।
ওয়ার্মআপের পর চারটি গ্রুপে ভাগ হয় দল। এরপর শুরু হয় হাই ক্যাচিং
প্রশিক্ষণ। এর মাধ্যমেই বাংলাদেশ দল ফিল্ডিং অনুশীলন সারে। গ্রাউন্ড
ফিল্ডিংয়ের দিকে আর মনোযোগ দেয়নি দল। হাই ক্যাচিংয়ে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়ে
ব্যাটিং-বোলিংয়ে মনোযোগ দেন ক্রিকেটাররা।
অনুশীলন শুরুর দেড় ঘণ্টা আগে
সংবাদ সম্মেলনে আসেন বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ ওটিস গিবসন। বরাবরের মতো
গিবসনও ক্যাচিং নিয়ে পড়েন প্রশ্নের মুখে। তার উত্তর, ক্যাচ পড়তেই পারে।
তিনি
বলেন, 'প্রতিটি ক্রিকেট ম্যাচে একটি বা দুটি ক্যাচ হাত থেকে ফসকে যায়।
অবশ্যই যখন ক্যাচ ম্যাচের ফলে ভূমিকা রাখে এটাকে বেশি বড় করে দেখা হয়। তবে
আমরা সব সময়ই ক্যাচ নিয়ে প্রচুর অনুশীলন করি। তবে ছেলেরা যখন মাঠে চাপের
মধ্যে থাকে, ক্যাচ ছাড়ার মতো ভুলগুলো হয়ে যায়। আমি বলব না এটা উদ্বেগের
ব্যাপার। আমরা প্রতিদিনই ক্যাচ ধরার অনুশীলন করি।'
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে
সুপার টুয়েলভের ম্যাচ একসময় বাংলাদেশ নিজেদের দিকে টেনে নিয়ে এসেছিল।
কিন্তু এক লিটন দাসের দুই ক্যাচ মিসে সবকিছু শেষ হয়ে যায়। আজকের এই
অনুশীলনে অনুমিতভাবেই লিটনের দিকে ছিল কড়া নজর। ক্যাচ মিসিংয়ের পর
সতীর্থদের পূর্ণ আস্থা পেয়েছেন। তবে আজ তাকে বিচলিত দেখা যায়নি। বরাবরের
মতো ক্যাচিংয়ের পর তিনি ব্যাটিং অনুশীলন করে মাঠ ত্যাগ করেন।
লিটনকে
নিয়ে সাফাই গাইছেন কোচ গিবসন, 'সে আমাদের সেরা ফিল্ডারদের একজন। সত্যি
বলতে, বেশ কিছু ক্যাচই হাতছাড়া হয়েছে। এর মানে এই না সে দলে অবদান রাখছে
না। যে কেউ ক্যাচ ফেলতে পারে। এটা নিয়ে কথা বেশি হচ্ছে কারণ, কেউ বিতর্ক
করতে পারে, এগুলো ম্যাচের ফলে প্রভাব রেখেছে।'
তিনি আরো বলেন, 'লিটন
বেশ কিছু দিন ধরেই আমাদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। বাস্তবতা হচ্ছে, ওই পজিশনে
যে কেউ এই ক্যাচগুলো ফেলতে পারত। আমরা তাকে ওর মান সম্পর্কে মনে করিয়ে
দিয়েছি এবং সে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আমরা একজন খেলোয়াড়ের পাশে
থাকব সে লিটন দাস কিংবা অন্য যেই হোক।'
বুধবার বাংলাদেশ সময় ৪টায়
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ। এর আগে কখনো ইংলিশদের বিপক্ষে সংক্ষিপ্ত
সংস্করণের ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা নেই বাংলাদেশের। এই প্রথম দেশটির
মুখোমুখি হবে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে
শুরু করেছে তারা, টি-টোয়েন্টিতে র্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানও তাদের দখলে।
তাদের বিপক্ষে জিততে হলে কোনো ভুল করা চলবে না, ক্যাচ তো ফসকানো যাবেই না।