ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
অবসরে গেলেও পার পাবে না দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী
Published : Friday, 8 October, 2021 at 12:00 AM
অবসরে গেলেও পার পাবে না দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীবাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে। অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে ও হচ্ছে। কিন্তু দুর্নীতির যে ব্যাপকতা লক্ষ করা যাচ্ছে, তাতে সেই উন্নয়ন কতটা টেকসই হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ নিলেও তা দুর্নীতির ব্যাপকতার তুলনায় খুবই সামান্য। ফলে দুর্নীতিবাজদের জন্য দুদক বড় কোনো সতর্কবার্তা দিতে পারছে না। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও ঘোষণা করেছেন, সরকারি প্রকল্পে অনিয়মকারীরা অবসরে গেলেও পার পাবেন না। কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন প্রকল্পে অনিয়মের যে অভিযোগ উঠেছে সে প্রসঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে গিয়ে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি প্রকল্পের কাজ আরো গতিশীল করারও নির্দেশ দেন।
দুর্নীতির অক্টোপাস অনেক আগে থেকেই আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদের ‘চাটারের দল’ বলে উল্লেখ করতেন। তিনি অনেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। প্রশাসনের দুর্নীতি নিয়েও তিনি নানাভাবে হতাশা প্রকাশ করেছেন। পঁচাত্তরের পর দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন। দুর্নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাংলাদেশ বিমান, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কলকারখানা প্রায় ধ্বংস করে ফেলা হয়েছিল। দুর্নীতি যেমন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছিল, তেমনি তা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছিল। সেখান থেকে উঠে আসা বা দুর্নীতির লাগাম টানা খুবই কঠিন কাজ। আর সেই কঠিন কাজটিই করে যাচ্ছেন জাতির পিতার সুযোগ্যা কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। দুর্নীতির অভিযোগে দল ও অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মীকে এরই মধ্যে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। অনেকেই রয়েছেন গোয়েন্দাদের কঠোর নজরদারিতে। প্রশাসনের দুর্নীতিকেও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। সে কারণেই তিনি উচ্চারণ করেছেন, দুর্নীতি করে কেউ ছাড় পাবে না। অবসরে গেলেও তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
অতীতে রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ বেশি ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ বেশি উঠছে সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। টাকার বালিশ, বালিশ কেলেঙ্কারি, সরকারি ভবনে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ছাদ নির্মাণসহ উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা লুটপাটের অনেক খবরই গণমাধ্যমে আসছে। উন্নয়ন টেকসই করার স্বার্থে এগুলো বন্ধ করতেই হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুর্নীতি নির্মূল করতে হলে দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থাকে জোরদার করতে হবে। দুদককে আরো শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে। দুর্নীতিবিরোধী অন্যান্য সংস্থাকেও জোরেশোরে মাঠে নামতে হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব হালনাগাদ রাখতে হবে। নজরদারিতে রাখতে হবে রাজনীতি-সংশ্লিষ্টদেরও। বিদেশে অর্থপাচার কঠোরভাবে রোধ করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সততার চর্চাকেও উৎসাহিত করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে দেশ একদিন মুক্ত হবেই।