
গত শনিবার
দেশব্যাপী শুরু হয়েছে ছয় দিনের বিশেষ টিকা অভিযান। করোনাভাইরাস ব্যাপক
আকারে ছড়িয়ে পড়ায় মানুষের মধ্যে টিকা নেওয়ার আগ্রহও ছিল প্রচুর। সারা দেশের
১৫ হাজারের বেশি টিকাদান কেন্দ্রেই ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। স্বাস্থ্য
অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, শনিবার প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে ২৭ লাখ ৮৩
হাজার ১৭২ জনকে, আর দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৫৩ হাজার ৭৯৮ জন। কেন্দ্রগুলোতে
রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেককে টিকা না
পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। যদিও ছয় দিনে প্রথম ডোজ হিসেবে মোট ৩২ লাখ ডোজ টিকা
প্রদানের যে ল্য রয়েছে তার বেশির ভাগ প্রথম দিনেই দেওয়া হয়ে গেছে। অথচ
বিশেষ অভিযানের দ্বিতীয় দিন রবিবারেও কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ভিড় ছিল প্রথম
দিনের মতোই। ধারণা করা হচ্ছে, টিকা নিতে আগ্রহী জনসংখ্যার একটি বড় অংশই এই
অভিযানে টিকা পাবে না।
বিশেষ টিকাদান অভিযান সম্পর্কে মানুষের প্রত্যাশা
যতটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবতা তার থেকে অনেক পিছিয়ে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক প্রথমে বলেছিলেন, ৭ আগস্ট শুরু হওয়া সাত
দিনের বিশেষ টিকা অভিযানে মোট এক কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এতে মানুষ
টিকাপ্রাপ্তির ব্যাপারে অনেক বেশি আশান্বিত হয়েছিল। পরে অভিযান সাত দিনের
পরিবর্তে ছয় দিন করা হয়। মোট টিকাদানের ল্য নির্ধারণ করা হয় ৩২ লাখ।
কেন্দ্রপ্রতি যে পরিমাণ টিকার বরাদ্দ ছিল মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েছিল তার কয়েক
গুণ। সকাল ৯টায় টিকাদান শুরু হলেও অনেকে ভোর ৬টায় এসে লাইন দিয়েছেন। ঘণ্টার
পর ঘণ্টা অপো করে ফিরে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মানুষের হতাশা চরমে উঠেছে।
অনেক কেন্দ্রে মানুষ উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেছে। তাদের সামাল দিতে পুলিশকে
হস্তপে করতে হয়েছে। অথচ শুরুতেই নির্দিষ্টসংখ্যক মানুষকে স্লিপ দিয়ে দিলে
বিপুলসংখ্যক মানুষের এত ভোগান্তি হতো না। আর হাতে যখন দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত
টিকা নেই, তখন এত বড় আয়োজন করারও প্রয়োজন ছিল না। সেই সঙ্গে অনেক অনিয়মেরও
অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি সরকারি টিকা নিয়ে নিজ
বাড়ির কাছে অনির্ধারিত কেন্দ্র বানিয়ে অনিবন্ধিত লোকজনকে টিকা দিয়েছেন।
কোথাও কোথাও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের স্লিপে টিকা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সব
মিলিয়ে বলা যায়, বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে
পারেনি।
দেশে ৯৮ শতাংশ মানুষের মধ্যে মারাত্মক ডেল্টা ভেরিয়েন্ট পাওয়া
গেছে। ফলে সংক্রমণ আরো ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ থেকে রার প্রধান
উপায় হচ্ছে বেশির ভাগ মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা। এ জন্য টিকা সংগ্রহের
ওপর আরো বেশি জোর দিতে হবে। মানুষের ভোগান্তি করে নয়, বাস্তবসম্মতভাবে
টিকাদান কর্মসূচি এগিয়ে নিতে হবে।