
কথায়
আছে, শেষ ভালো যার সব ভালো তার! অস্ট্রেলিয়ার বিপে আগেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ
জয় নিশ্চিত করা বাংলাদেশের শেষটাও হলো রঙিন। অজিদের মাত্র ৬২ রানে গুটিয়ে
দিয়ে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটা ৬০ রানে জিতে নিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের
বাংলাদেশ। যাতে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি
সিরিজটা শেষ হলো ৪-১ ব্যবধানে।
১২২ রানের জবাব দিতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে
শুরুতেই ধাক্কা দেন নাসুম আহমেদ। আজ সাকিব আল হাসান ছিলেন অপ্রতিরোধ্য।
আগের ম্যাচে এক ওভারে পাঁচ ছক্কা হজম করা সাকিব আজ মাত্র ৯ রানে নিয়েছেন
চার উইকেট। শরিফুল ইসলামের জায়গায় একাদশে সুযোগ পাওয়া সাইফউদ্দিনও বল হাতে
আগুন ঝড়ালেন। যাতে ১৩.৪ ওভারে মাত্র ৬২ রানেই অলআউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
টি-টোয়েন্টি
ইতিহাসে অতিতে এতো কম রানে অলআউট হয়নি অস্ট্রেলিয়া। আন্তর্জাতিক
টি-টোয়েন্টিতে তাদের আগের সর্বনি¤œ ছিল ৭৯। ২০০৫ সালে সাউদাম্পটনে
ইংল্যান্ডের বিপে ওই লজ্জ্বায় পড়েছিল অজিরা। আজ বাংলাদেশ তার অনেক আগেই
গুটিয়ে দিল অজিদের।
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ
রানে জয়ের রেকর্ড। ২০১২ সালে বেলফাস্টে আয়ারল্যান্ডকে ৭১ রানে হারিয়েছিল
বাংলাদেশ। যেটা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জয়।
সোমবার (৯ আগস্ট) মিরপুর
শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বোলিংয়ে নেমে অজিদের প্রথম ধাক্কাটা
দিয়েছেন নাসুম আহমেদ। আগের ম্যাচের নায়ক ড্যান ক্রিশ্চিয়ানকে (৩) দ্বিতীয়
ওভারেই ফেরান নাসুম। পুরো সিরিজেই বারবার বাংলাদেশি বোলিংয়ের সামনে দাঁড়িয়ে
যাওয়া মিচেল মার্শকে ফেরান দলীয় ১৫ রানের মাথায়। শুরুতেই এই দুজন ফিরলে
১২২ রানের পুঁজিকেই মনে হচ্ছিল অনেক বড়!
তারপর সাকিব আল হাসান আর
সাইফউদ্দিন অজিদের নিয়ে স্রেফ ছেলেখেলায় মেতে উঠলেন! দুজন এতোটাই ধারাবাহিক
ছিলেন যে পুরো সিরিজে অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য দূর্ভেদ্য হয়ে উঠা মোস্তাফিজুর
রহমান ১ ওভারের বোশি বোলিংয়ের সুযোগই পেলেন না!
বল হাতে গত ম্যাচটা
সাকিবের কেটেছে ভূতুড়ে! স্পিনবান্ধব উইকেটেও ৪ ওভারে রান দিয়েছিলেন ৫০ রান।
সাকিব হয়তো তাতে তেঁতেই ছিলেন! আজ অস্ট্রেলিয়ানদের রীতিমতো অসহায় বানিয়ে
ফেলেন বাংলাদেশি তারকা। ৩.৪ ওভার বোলিং করে এক মেডেনে মাত্র ৯ রান খরচায়
চার উইকেট তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
শুরুতে ড্যান
ক্রিশ্চিয়ান ও মার্শ ফেরার পর তৃতীয় উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা
করেছিলেন অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড (২২) ও বেন ম্যাকডারমোট (১৭)। কিন্তু এই জুটি
ভাঙার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। এই দুজন ছাড়া
অস্ট্রেলিয়ার পে দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি আর কোনো ব্যাটারই।
শরিফুল
ইসলামের জায়গায় সুযোগ পাওয়া সাইফউদ্দিন ৩ ওভারে ১২ রান দিয়ে নিয়েছেন তিন
উইকেট। নাসুম ২ ওভারে ৮ রানে দুটি ও মাহম্দুউল্লাহ ১ ওভারে ৯ রানে এক উইকেট
নিয়েছেন।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮
উইকেট হারিয়ে ১২২ রান তোলে বাংলাদেশ। সিরিজের প্রতি ম্যাচেই শুরুতে উইকেট
হারিয়ে ধুঁকেছে বাংলাদেশ। ওপেনার সৌম্য সরকার আগের চার ম্যাচেই ছিলেন
ব্যর্থ। আজ ওপেনিংয়ে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ।
সৌম্যকে মিডল অর্ডারে
পাঠিয়ে নাইম শেখের সঙ্গে ওপেনিংয়ে পাঠানো হয় স্পিনিং অলরাউন্ডার শেখ মেহেদি
হাসানকে। এই বদল কাজে লেগেছে। প্রথম চার ওভারে ৪৩ রান তোলে বাংলাদেশ।
কিন্তু শুরুর উড়ন্ত গতিটা পরবর্তিতে ধরে রাখতে ব্যর্থ বাংলাদেশ।
মন্থর
উইকেটে আজ অজি পেসারদের স্লোয়ারেই বেশি ভুগল বাংলাদেশ। মেহেদি ১২ বলে ১৩
রান করে ফেরার পর তিনে নেমে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে ব্যর্থ সাকিব
আল হাসান। ২০ বলে ১১ রান করে আউট হয়েছেন সাকিব। সৌম্য চারে নেমে শুরুতে বল
খেয়ে ফেলেন অনেক।
দলীয় ৮৪ রানের মাথায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ দুর্ভাগ্যবশত
আউট হয়ে গেলে তারপর থেকে নিয়মিত উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১২২ রানে
থেমেছে স্বাগতিকরা।
নাইম শেখ ২৩ বলে সর্বোচ্চ ২৩ রান করেছেন।
মাহমুদউল্লাহ ১৪ বলে ১৯ ও সৌম্য সরকার ১৮ বলে ১৬ রান করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার
হয়ে নাথান এলিস ১৬ রানে ও ড্যান ক্রিশ্চিয়ান ১৭ রানে ২টি করে উইকেট
নিয়েছেন।