ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
আমলা বনাম কামলা
Published : Wednesday, 14 July, 2021 at 12:00 AM
আমলা বনাম কামলারেজাউল করিম শামিম ||
বেশ ক’দি ধরে দেশের রাজনীতিক ও আমলাদের বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে খুব। বরেণ্য এবং বয়োজ্যেষ্ঠ পাল্যামেন্টেরিয়ান তোফালেয় আহাম্মদ ক’দিন আগে সংসদ অধিবেশনে আমলাদের বিষয়াদি উত্থাপন করেন। কথা বলেন,এমপি তথা রাজনীতিকদের দায়িত্ব-কর্তৃত্বের উপর আমলাদের গুরুত্ব নিয়ে। একটি গণতান্ত্রীক সরকারের েেত্র আমলাদের আচরণ ও কতৃত্বের সীমরেখা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেন। আর এনিয়ে সংসদে সেদিন আরো ক‘জন এমপিও কঠোর ভাষায় বিভিন্ন মন্তব্য করে মাতিয়ে রাখেন অধিবেশন।
উনসত্তরের গণ-আন্দোলনের নেতা, ডাকসুর ভিপি, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, তোফায়েল আহাম্মদ প্রতিমন্ত্রীর মযাদায় বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক উপদেষ্ঠা ছিলেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার মতায় এলে পর্যায়ক্রমে বাণিজ্য এবং শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্বপালন করেছেন সাফল্যের সাথে। বিশেষ করে স্বাধীনতার পর পর প্রথম বিসিএস ক্যাডার নিয়োগের প্রক্রিয়াটি ওনার তত্ত্বাবধানেই হয়েছিলো। এ জন্যে সেসময়কার পদস্থ কর্মকর্তারা ‘তোফায়েল ক্যাডার‘ হিসেবেই পরিচিতি লাভ করের। সুতরাং রাষ্ট্রীয় আমলাতন্ত্রের বিষয়-আসয় উনি খুব ভালো করেই জানেন-বুঝেন।
তোফায়েল আহাম্মদ এখন শুধুই এমপি আর আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠা পরিষদের সদস্য। তবে প্রোটকল অনুযায়ী এমপিদের অবস্থান সচিবদের উপর। ফলে,ওনার মতো সব এমপিদেরই সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কাছ থেকে সে অনুযায়ী যৌক্তিক সম্মান-মর্যাদা প্রাপ্তির অধিকারী। এর ব্যত্যয় ঘটেছে বলেই সেদিনের ঐ আলোচনা। অনেকেই একে সাদুবাদ জানিয়েছেন। তবে,যারা সুবিধাভোগী,আতœমর্যাদাহীন,সরকারি আমলাদের মাধ্যমে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে থাকেন তারা এত নাখোস হতেই পারেন। হলেও মুখফুটে কিছু বলার সাহস দেখান নাই।
একথাতো বলার অপো রাখেনা যে,সরকারি আমলা ছাড়া সরকার অচল। সরকারের সব নীতি,পরিকল্পনা,সিদ্বান্ত,কাযর্ক্রম সবকিছুই বাস্তবায়ন হয় তাদের মাধ্যমেই। এজন্যে তাদের রাষ্ট্রের সামর্থ অনুযায়ী উচ্চ বেতন-ভাতা থেকে শুরু করে আবাসনসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আর মতা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি রাষ্ট্রও একটি প্রতিষ্ঠান হওয়ার রাজনীতিকদের আইনসিদ্ধ কর্তৃত্বেই সরকারি সকল প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হওয়ার কথা।এ ভাবেই আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিচালিত হয়ে আসছে। মাঝে ক‘বছর সামরিক শাসনের আমল বাদ দিলে আমাদের দেশও এভাবেই পরিচালিত হয়।
স্বাধীনতা পর বঙ্গবন্ধুর শাসনামলেও আমলাদের কাজকর্মের বিষয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছিলো। সেসময় বাংলার বাণী পত্রিকার সম্পাদক, যুব লীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুর হক মনি,তাঁর পত্রিকায় একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন ‘মোনায়েমের আমলা দিয়ে,মুজিবের সরকার চলতে পারেনা’ শিরোনামে। তখন আমি কুমিল্লা থেকে সাংবাদিকতা করি। এ প্রসঙ্গে তখনকার একটি ঘটনা আজ খুব মনে পড়ছে। তখন কুমিল্লার এমপিগণ বিশেষ করে,অধ্যাপক খোরশেদ আলম,অধ্য কালাম মজুমদার, অলি আহাম্মদ, অধ্যাপক ইউনুস একত্রেই ঢাকা যেতেন। যোগদিতেন সংসদ অধিবেশনে। তখন বিমান চলাচল ছিলো। তাঁরা বিমানেই যেতেন। কারোই গাড়ি ছিলোনা। তো একদিন ওনারা কালাম ভাইয়ের বাসায় এসে মিলিত হতে দেরি করে ফেলেন। বিমানতো আর বসে থাকবেনা। কিন্তু,কালাম ভাইয়ের বাসা থেকে বিমান বন্দরে যেতে অনেক সময়ের দরকার। ফলে বাধ্য হয়ে কালাম ভাইয়ের কথায় জেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করতে হয়। প্রশাসনের পুলের গাড়ি দিয়ে ওনাদের বিমান বন্দর পেঁছে দিতে একজন সরকারি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে হয়। তখন এডিসি জেনারেল ছিলেন আহবাব আহাম্মেদ। বেশ হ্যেন্ডসাম, স্মাট ও চৌকস অফিসার। ওনার আন্ডারেই পুলের গাড়ি থাকে। ওনার সাথে যোগাযোগ করলে ওনি সরাসরি না করে দিলেন। গাড়ি দেয়া সম্ভব নয় বলে যে ভাবে তিনি উত্তরটি দিয়েছিলেন, তা আমারা মেনে নিতে পারিনি। ফলে ওনাকে বলা হলো‘ভদ্র ভাবে কখা বলুন’। উত্তর এলো‘আপনার কাছে ভদ্রতা শিখতে হবেনা’। স্বাভাবিক ভাবেই মেজাজ নিয়ন্ত্রণ হারায়। ওনাকে বলা হলো,‘ভদ্রতা শিখতে হবে বইকি। প্রয়োজনে ভদ্রতার স্কুল খুলবো, আপনাকে ছাত্র বানিয়ে ভদ্রতা শেখানো হবে’। পরে আবশ্য সময়মতো এনডিসিকে দিয়ে গাড়ি পাঠানো হয়েছিলো।
পরবর্তীতে আহাবাব আহাম্মদের সাথে আমার বেশ সখ্যতা হয়। উনি পরে বন বিভাগের সচিবও হয়েছিলেন। অত্যন্ত মেধাবি এবং সৎ অফিসার ছিলেন তিনি। তিনি একদিন বার্ডে অফিসার্স ট্রেনিং কাসে আমলা প্রসঙ্গে বলেছিলেন,‘আমলা‘ বললে আমাদের অনেকেই মনুন্ন হন। মনে করা হয় আমলা বুঝি একটি গালি। আসলে আমাদেরকেতো আমলা না বলে ‘কামলা‘ বলা হলে আমি তাতে খুশি। আমাদেরকেতো কাজের জন্যেই রাখা হয়েছে। আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি। এটা আমাদের গর্ব।
সময় সময় এসব আমলা বা সরকারি কর্মকর্তাদের নিজেদের মাঝেও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। আর তার পরিণাম ভোগ করতে হয় সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণকেই। এেেত্রও কুমিল্লার একটি অভিজ্ঞার কথা বলা যায়। কুমিল্লায় কাজ করার সময় দেখলাম কুমিল্লার তৎকালিন জেলা প্রশাসক হেদায়েতুর ইসলাম চৌধুরী আর একই সময়ের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেনের সাঝে একটা মানসিক দুরত্ব সৃষ্টি হয়। জেলার এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার মাঝে এই দ্বন্দ্ব প্রশাসনিক বিভিন্ন েেত্রই সমস্যার সৃষ্টি করছিলো।
এদু‘জনার সাথেই আমার খুব আন্তরিক সম্পর্ক ছিলো। বিশেষ করে জেলা প্রশাসকের সাথে। যিনি দীর্ঘদিন কুমিল্লায় কাজ করেছেন বিভিন্ন পদে। আমি বুঝতে পারছিলাম এসপির সাথে দুরত্ব থাকায় ওনার অসুবিধেটুকু। আমি সেসময় দৈনিক খবরে, কুমিল্লার সীমান্তের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রিপোর্ট করছিলাম। ধারাবাহিক প্রতিবেদন হিসেবে তা গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হচ্ছিল। ডিসি সাহেব কি ভাবে যেন খবর পেলেন, সীমান্ত দিয়ে সোনা চোরাচালানের সাথে, জেলার ডিসি সরাসরি জড়িত বলে পরবর্তীতে আমার একটি লেখা প্রকাশিত হচ্ছে। তিনি আমাকে খবর পাঠালেন। বিশেষ ভাবে অনুনয় বিনিনয় করলেন। এধরনের তথ্য না দেয়ার জন্যে অনুরোধ জানালেন। বললেন,সত্যমিথ্যে যাই হোক তা একবার ছাপা হয়ে গেলে, যে তিটুকু হয়ে যাবে, তা কোন ভাবেই খন্ডন করা যাবেনা। এও জানালেন পুলিশের গোপনীয় শাখা থেকেই এই তথ্য তাকে জানোনো হয়েছে। বুঝতে বাকি রইলোনা যে, এই দুই কর্মকর্তার দুর্বলতাকে অন্যরা কাজে লাগাচ্ছে।
একদিন সুযোগ বুঝে এসপি সাহেবের কে গিয়ে বিভিন্ন আলাপের ফঁকে ওনাদের দুজ‘নার মাঝে সমস্যাটি কি জানতে চাইলাম। সেসময় জেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলছিলো। এসপি সাহেব প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে বললেন, সবসময়তো প্রশাসনের গাড়ি ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন দেখতে যান। কাল আমার সাথে চলুন। রাজি হয়ে গেলাম। পরদিন,মুরাদনগরের শ্রীকাইল এলাকায় গেলাম। সেখানে বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। ব্যালটব্যক্স ছিনতাই হয়ে গেছে বলে একটা মিথ্যে প্রচারণা ছিলো। তা নিয়েই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিলো। তা যাইহোক ঐ ঝামেলা চুকে যাওয়া পর আমরা শ্রীকাইল কলেজের মাঠের দিকে গেলাম। তখন প্রায় সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। প্রশস্থ মাঠ। জনমানব প্রায় শুন্যই বলা যায়া। মাঠে হাটছি আর গল্প হচ্ছে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। এসপি সাহেব তখন কথাটি বললেন। তিনি জানালেন,আসলে ডিসি সাহেবর সাথে ব্যক্তিগততো কোন সমস্য নেই। সমস্য হলো মানসিক, বলতে পারেন আমলাদের ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব। দেখুন জেলার সমস্ত ঝুটঝামেলা বিশেষ করে আইন শৃঙ্খলার মতো কঠিন দায়িত্ব পুলিশকেই সামাল দিতে হয়। এইযে দেখলেন নির্বাচনী ঝামেলা-এটা আরো বড় আকার ধারন করতে পারতো। জেলার একটি নিভৃত অঞ্চল(সেসময় যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবিই নাজুক ছিলো)।এখানে একটি খুনাখুনির মতো ঘটনাও ঘটে যেতে পারতো। তো এমনি বড় ধরনের যেকোন ঘটনায়, ঢাকা থেকে উচ্চ পর্যায়ে যখন খবর নেয় হয়,তখন ফোনটি আসে ডিসি সাহেবের কাছে। তখন ঝামেলা মিটে গেলে ডিসি সাহেব বলেন,‘সিচ্যুয়েসেন আন্ডার কন্টোল,স্যার’। আর ঝামেলা জটিল হলে বলেন’ আমাদের এসপিটা ওয়াটল্যস,স্যার’। অথ্যাৎ ভালো সবকিছুর কৃতিত্ব ডিসি সাহেবের। আর খারাপের দায়ভার সব এসপির।
এইতা গেলো কুমিল্লার ঘটনা। অন্য জায়গার আর একটি বাস্তব ঘটনা বলি। ঘটনাটি ২০০৭ সালের। সেনাসমর্থিত সরকারের শেষ সময়ের নির্বাচনের ঘটনা। তখন নরসিংদির জেলা প্রশাসক ছিলেন, আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু অমৃত বাড়ৈ। আর এসপি ছিলেন মোহাম্মদ আলি নামে একজন। দু‘জনারই বাড়ি গোপালগঞ্জ এলাকায়। তবে মনমনসিকতায় বিরাট পার্থক্য ছিলো। সেসময় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসপি সাহেবের ধারনা ছিলো, আওয়ামী লীগ মতায় আসবেনা। ফলে সেখানকার অন্যদলের জাদরেল সব নেতাদের সাথে ওনার বেশ সতা হলো। নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে তিনি তাদের পাশ করানোর জন্যে উঠে পরে লাগেন। সেই েেত্র বাঁধ সাধেন ডিসি সাহেব। পরবর্তীতে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মতায় আসে। দ্বন্দ্ব আরো বেড়ে যায়। জেলা প্রশাসকের বাস ভবনের গেইট থেকে পুলিশ পাহারা প্রত্যাহার করা হয়। বলা হয়,‘ডিসির বাড়ি পাহাড়া দেয়ার জন্য পুলিশের জন্ম হয়নি’। এ নিয়ে আরো অনেক ঝামেলা। তবে সেখানকার নির্বাচিত এমপিগণ, এসপির ভূমিকাতো জানতেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে সেই এসপিকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। পরবর্তীতে ড. আক্কাস নামে একজন এসপির সেখানে পোস্টিং হয়। তারপর থেকে ডিসি-এসপি সহযোগিতার মনভাব নিয়ে কাজ করায়, গোটা জেলার চেহারাই বদলে যায়। এমনিতেই নরসিংদি নানা কারণেই অপরাধপ্রবণ এলাকা বলে চিহিৃত ছিলো। কিছুদিনের মধ্যেই তার পরিবর্তন ঘটে। আবার ডিসি অমৃত বাড়ৈ এবং এসপি ড.আক্কাস বদলি হয়ে যাবার পর পরই সেখান আবস্থা পুনরায় আগের অবস্থানে ফিরে যেতে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানকার জনপ্রিয় মেয়র লোকমান হোসেন হত্যার মতো ঘটনাসহ বিভিন্ন ধরনের অঘটন ঘটতে থাকে।
এসব ঘটনা উল্লেখ করা হলো এজন্যে যে সরকারি কর্মকর্তাদের মাঝে সমঝোতা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগনের কথা চিন্তা করে কাজ করার কথাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যে এলাকায় তাঁদের মাঝে সুসমন্বয় থাকে, সেখানকার জনগণ সরকারের গৃহিত বিভিন্ন পদেেপর সুফল লাভ করেণ সহজেই। ব্যত্যয় ঘটলেই নানা সমস্যর সৃষ্টি হয়। একই বিষয় জাতীয় পর্যায়েও প্রযোজ্য। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি আমলা বা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারের আদেশ, নির্দেশ,সিদ্ধান্ত ইত্যাদি বাস্তবায়ন করবেন। আর সেসব বিষয়গুলো নির্ধারিত হবে জনপ্রতিনিধি তথা সরকারের মাধ্যমে। এর মাধ্যমে সুসমন্বয় থাকাটা জরুরি।
কিন্তু, তা প্রায়ই ব্যত্যয় ঘটে। অথবা বলা যায় সুপরিকল্পিত ভাবে ঘটানো হয়। সেই পাকিস্তান বা তারও আগে বৃটিশ আমল থেকেই উত্তরাধিকার সুত্রে পাওয়া আমলাতান্ত্রিক মনমানসিক,অর্থাৎ জনসাধারণের উপর কর্তৃত্বপরায়ণ মোট কথা কর্তৃত্ব ফলানোর একটি মানসিকতা বা প্রবণতা আমলাদের মধ্যে থাকে। অথচ এমনি অবস্থার বিরুদ্ধেই ছিলো বঙ্গবন্ধুর আজীবন সংগ্রাম। তিনি জনগণের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যেমে একটি স্বাধীনত দেশ দেখতে  চেয়েছিলেন। তাঁর এই আদর্শকে তুলে ধরেই তিনি জনগণকে সাথে পাশে পেয়েছেন এবং তাঁর সেই চাওয়া অর্জিতও হয়েছে। দেশ স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে, জনগণের প্রতিনিধির মাধ্যমে দেশ যাতে পরিচালিত হয়, সংবিধানে তা পরিস্কার ভাবে অন্তর্ভূক্তও করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা কি হতে পারছে?
বাহ্যিকভাবে গণতান্ত্রীক ব্যবস্থায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে দেশ পরিচালনা হচ্ছে বটে। কিন্তু বাস্তবিক ভাবে তার প্রতিফলন দেখা যায় কতটুকু? দিনে দিনে, তলে তলে গোটা প্রদ্ধতিটি, আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে নিজেদের আয়ত্বের মাঝে এমনভাবে সব কিছু নিয়ে আসা হয়েছে যেখানে জনপ্রতিনিধি থাকলেও তাদের তেমন কিছু করার থাকেনা। আবার তারা যেন কিছু বলতে না পারেন সেজন্যে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহৃত হচ্চে ব্যবসা আর দুর্নীতি।
এেেত্র জলজ্যন্ত উদাহরণ হচ্ছে উপজেলা পরিষদ। এখানেতো কর্তৃত্ব থাকার কথা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে। কিন্তু তা কি আছে ? খতিয়ে দেখলে দেখা যাবে উপজেলা পর্যায়ের ১৮৪টি কমিটির মধ্যে ১৮০টি সভাপতি হচ্ছেন ইউএনও। আর এব্যবস্থাটি ধাপে ধাপে করা হয়েছে। ২০২০ সালের মার্চে একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অথ্যাৎ উইএনওদেরকে মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা করা হয়। আর তারা ‘উপজেলা পরিষদে‘র পরিবর্তে উপজেলা প্রশাসন নামটি ব্যবহার করতে থাকেন। ভাবসাব এমন যে তারাই উপজেলার প্রশাসক। নির্বাচিত চেয়ারম্যন বা ইউপি সদস্যরাতো তেমন কেউনা।
এর পরিণাম কিন্তু দেশবাসী দেখতে পারছে। প্রধানমন্ত্রীর একটি নান্দনিক এবং দেশ-বিদেশে প্রশংসিত গৃহহীনদের জন্যে যে‘আশ্রায়ন প্রকল্প‘,যেগুলো মূলত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন হচ্ছিল। সেগুলো হস্তান্তর করার পরপরেই সারা দেশ থেকে যে খবরাখবর আসতে থাকে, তাতে গুরত্ব বিবেচনায় খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে বিষয়টি তদন্ত করতে হচ্ছে। ৩৬টি উপজেলায় এ পর্যন্ত চরম দ্নূীতি থেকে শুরু করে খোদ নক্সা প্রণয়ণ, বরাদ্ধ, সুবিধাভোগী নির্বাচন ইত্যাদি পরতে পরতে অনিয়ম ধরা পড়ছে।
এতকিছুর পরেও এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত হচ্ছে মূলত সত্যিকার অভিজ্ঞ রাজনীবিতদের সংখ্যাই এখন কমে গেছে। তোফায়েল আহাম্মদদের মতো লেখাপড়া জানা, দেশব্যপী পরিচিতি পাওয়া,অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব রাজনীতিতে কমে গেছে। এমনি ব্যক্তিত্ববান, সৎ রাজনীতিকদে সংখ্যা বাড়ানো গেলে আমলাদের সাথে একটি সুসমন্বয় গড়ে তোলা সম্ভব। যার মাধ্যমে শুধু আমলাদের একক কর্তৃত্ব নয়  নিয়ম ও আইন মাফক যে যার অবস্থান থেকেই একটি সমন্বয় পরিবশে গড়ে তোলা এবং কাজ করা খুবই সম্ভব। আর এেেত্র দুর্নীতির বিষয়টি সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একথা বলারতো অপো রাখেনা যে,ঝানু আমলা অন্যান্য কাজের মতো প্রকল্প পণয়ন থেকে শুরু করে এথেকে কি করে বিপুল পরিমান অর্থ নয়ছয় করতে হয়, সে ব্যাপারেও সিদ্ধহস্থ। এখন তাদের উপর কর্তৃত্বের দায়িত্বে যে রাজনীতিবীদ থাকেন। তিনি যদি এই প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয়ে পরেন, তবে আর তিনি আমলার উপর মাথা উঁচু করে চলবেন কি করে? বিষয়গুলো নিয়ে এখনই ভাবতে হবে গুরুত্ব দিয়ে। আর তা হলেই কেবল ,আমলা বনাম কামলার বিষয়টি জোড়ালো ভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে ।