
অন্ধ হওয়া মানেই পরিবার বা সমাজের বোঝা নন। অন্ধরাও স্বাভাবিক মানুষের
মতো বাঁচতে পারেন। এমনকি পড়ালেখা শিখে নিজ পায়েও দাঁড়াতে পারেন। তবে
অন্ধদের শিক্ষাদানের জন্য প্রয়োজন বিশেষ শিক্ষাব্যবস্থা। যা সম্ভব ব্রেইল
পদ্ধতির মাধ্যমে।
ব্রেইল নামটির সঙ্গে সবাই কম-বেশি পরিচিত। বর্তমানে ব্রেইল পদ্ধতি
ব্যবহার করে অন্ধদের শিক্ষা দেওয়া হয়। আর এ উপায়ে অনেক দৃষ্টিহীন মানুষ
শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কেউ কেউ আবার উচ্চশিক্ষা গ্রহণ
করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও কর্মরত আছেন।
তবে জানেন কি? যিনি এ বিশেষ শিক্ষাপদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন, তিনিও ছিলেন
অন্ধ। মাত্র তিন বছর বয়সে তার চোখের আলো নিভে যায়। এরপর তিনি আজীবন শুধু
শিক্ষার পেছনেই আত্মনিয়োগ করেন।
আবিষ্কার করেন ছয় বিন্দুর শিক্ষাপদ্ধতি। আসলে ব্রেইল পদ্ধতি হলো, কাগজের
উপর ছয়টি বিন্দুকে ফুটিয়ে তুলে লেখার এক বিশেষ কৌশল। দৃষ্টিহীনরা এ
বিন্দুগুলোর ওপর আঙুল বুলিয়ে ছয়টি বিন্দুর নকশার কোনটি কোন বর্ণ, তা বোঝার
চেষ্টা করে শিক্ষাগ্রহণ করে।
লুই ব্রেইল ১৮০৯ সালের আজকের এ দিনে অর্থাৎ ৪ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন।
সে অনুযায়ী আজ ‘বিশ্ব ব্রেইল দিবস’। তিনি একজন ফরাসি আবিষ্কারক ও শিক্ষক।
ফ্রান্সের কুপভ্রে এলাকায় তিনি এক চামড়া ব্যবসায়ীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। চার
ভাই-বোনের মধ্যে লুই ছিলেন সবচেয়ে ছোট।
তার বয়স যখন তিন বছর; তখন দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। আকস্মিকভাবে তার এক
চোখে সুঁইয়ের আঘাত লাগে। আর ওই সময় ভালো চিকিৎসাব্যবস্থা ও
অ্যান্টিবায়োটিক না থাকায় লুইয়ের আঘাতপ্রাপ্ত চোখ আরও সংক্রমিত হতে থাকে।
এরপর তার দুই চোখেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। লুই ব্রেইল চিরদিনের মতো অন্ধত্ব
বরণ করেন।
১০ বছর বয়সে ব্রেইল অন্ধদের উপযোগী রাজকীয় এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি
হন। তিনি বরাবরই একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন। বিজ্ঞান ও গানের প্রতি ছিলেন
আগ্রহী। পরবর্তীতে চার্চের অর্গ্যান যন্ত্রবাদক হিসেবে কাজ করা শুরু করেন।
পাশাপাশি তরুণদের অন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও শিক্ষক হয়ে ওঠেন।