ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
মন্দা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিন
Published : Tuesday, 11 October, 2022 at 12:00 AM
মন্দা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিনআড়াই বছরের বেশি সময় ধরে চলা করোনা মহামারি, গত ফেব্রুয়ারি থেকে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের একের পর এক নিষেধাজ্ঞা এবং এর ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ক্রমেই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ আরো অনেক সংস্থা ও শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা ক্রমাগতভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন। সেই সব আশঙ্কাকে আমলে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, আগামী বছরটি হবে দুর্যোগময় ও মহাসংকটের; এমনকি বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষও দেখা দিতে পারে। সেই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
এখন থেকেই দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে হবে। গত বৃহস্পতিবার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সময় তিনি এই আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে। বেড়েছে এলএনজি ও গ্যাসের দাম। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। গম, আটা, সয়াবিন তেলসহ খাদ্যপণ্যের দামও এখন অনেক বেড়ে গেছে। বেড়েছে পরিবহন খরচ। ডলারের বিপরীতে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার মূল্যমান অনেক কমে গেছে। ফলে এসব পণ্যের আমদানি খরচও অনেক বেড়েছে। আর তার প্রভাব পড়েছে বাজারে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ব্যবহারসহ সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশের এখনো পাঁচ মাসের খাদ্য কেনার মতো রিজার্ভ রয়েছে। ঋণ পরিশোধেও বাংলাদেশ কখনো খেলাপি হয়নি। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমাদেরও প্রত্যাশা, বাংলাদেশ সব দুর্যোগ মোকাবেলা করে তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবে।
বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে বৃহৎ শক্তিগুলো ছোট দেশগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করতে চায়। ক্ষুদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে ব্যর্থ হলে প্রায়ই তারা অবরোধ, বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাহারসহ শাস্তিমূলক নানা ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‌্যাবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তেমনই একটি পদক্ষেপ। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কিছুটা উষ্মা প্রকাশ করেন এবং প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে র‌্যাবের সাফল্যে যুক্তরাষ্ট্র কি নাখোশ? অথচ তারাই এই র‌্যাব সৃষ্টির পরামর্শ দিয়েছিল। র‌্যাবের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র, হেলিকপ্টার, আইটি সিস্টেম—সবই যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া। তার পরও র‌্যাবের কোনো সদস্য অন্যায় করলে তার বিচার হয়, শাস্তি হয়। যুক্তরাষ্ট্রেও তেমন শাস্তি হতে দেখা যায় না।
বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল এবং সেই বিরোধীদের যারা তখন মদদ দিয়েছিল, তাদের জোটবদ্ধতা এখনো যায়নি। তারা অতীতেও বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র করেছে এবং এখনো করছে। সেই সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করেই বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে এবং এগিয়ে যাবে। তার পরও আমাদের সজাগ থাকতে হবে। যারা বিদেশিদের কাছে গুম-অপহরণের মিথ্যা তালিকা দেয়, বিভিন্ন বাহিনী সম্পর্কে কুৎসা রটনা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, তা মোকাবেলায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।