
দেশে
প্রতিনিয়ত বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের দাম। এর ফলে
নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা এখন সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে। নিম্ন ও স্থির
আয়ের মানুষের পক্ষে এখন সংসার চালানো, সন্তান-সন্ততি নিয়ে বসবাস করা
রীতিমতো অসাধ্য হয়ে গেছে। যাদের মাসিক আয় ২০ হাজার টাকার নিচে, তারাই এখন
সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত।
রাজধানী বা বড় শহরে এই আয় দিয়ে বাসা ভাড়া করে
থাকা, স্ত্রী-সন্তান বা পরিবারের সদস্যদের মুখের আহার জোগানো, জামা-কাপড়
সংগ্রহ করা, ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা
বেশি দিন স্থায়ী হলে সমাজে নানা ধরনের অসংগতি ও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে
বলেও মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানী ও বিশ্লেষকরা।
দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে
চলেছে করোনা মহামারি। এই সময়ে অনেকের আয় নিম্নগামী হয়েছে। অনেকে চাকরি ছেড়ে
গ্রামে ফিরে গিয়েছিলেন। আবার তাঁরা ঢাকায় ফিরলেও তাঁদের আয় বাড়েনি। বরং
অনেক ক্ষেত্রে আয় কমেছে। তার ওপর যোগ হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের
মারাত্মক প্রভাব। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য হু হু করে বাড়ছে। ফলে বেশির
ভাগ মানুষের আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সংগতি থাকছে না। আগে যেসব পরিবার সপ্তাহে
অন্তত দুই দিন মাংস খেতে পারত, তারা এখন মাংস জোটাতে পারে না। মাছও তাদের
কাছে দুর্মূল্য। পরিবারের আমিষের প্রয়োজন মেটাতে আগে দু-একটি ডিম কিনলেও
এখন তা-ও কিনতে পারে না অনেকে। সম্প্রতি এক ডজন ডিমের দামও ১৬০ টাকায়
উঠেছিল। এই অবস্থায় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো শাক-শুঁটকি দিয়ে কোনো রকমে তাদের
খাদ্যের চাহিদা মেটাচ্ছে। পরিবারগুলোর সুষম খাদ্য বা পুষ্টির চাহিদা মিটছে
না। বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, এর ফলে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক
বৃদ্ধি যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বয়স্করাও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
হারিয়ে দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আর দারিদ্র্যসীমার নিচের মানুষের সংখ্যা
দ্রুত বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দ্রব্যমূল্যের এমন লাগামছাড়া
ঊর্ধ্বগতির পেছনে যুক্তিসংগত কারণ খুব কমই আছে। যেটি আছে তা হলো এক শ্রেণির
ব্যবসায়ীর অতি মুনাফার লোভ। ফলে দেখা যায়, কখনো চালের দাম, কখনো ডাল বা
চিনির দাম, কখনো পেঁয়াজ-রসুনের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। সম্প্রতি জ্বালানি
তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কোনো পণ্যের দাম যেটুকু বাড়ার কথা বাজারে দেখা
যায়, সেই পণ্যের দাম বেড়েছে তার কয়েক গুণ বেশি। পরিবহন খরচ বাড়ায় ডজনে
ডিমের দাম বাড়ার কথা ছিল এক টাকারও কম। অথচ বাজারে বেড়ে গিয়েছিল ৩০ থেকে ৪০
টাকা পর্যন্ত। পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগও চোখে
পড়ে না। এমন অবস্থায় নিম্ন আয়ের এসব মানুষের ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে শঙ্কিত
বিশিষ্টজনরা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিম্ন আয়ের এসব মানুষকে রক্ষায়
বাজারে সরকারের হস্তক্ষেপ আরো বাড়াতে হবে। টিসিবিকে আরো সক্রিয় করতে হবে।
খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মতো উদ্যোগ বাড়াতে হবে।
রেশন বা ন্যায্য মূল্যের দোকান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে হবে।