
শান্তিরঞ্জন ভৌমিক ||
মে (২০২২) মাসের শেষের দিকে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের সচিব বিমল মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বলল, ‘স্যার, জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ শুরু হবে। এজন্য ওয়ার্ডের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। আপনি যেহেতু আপনার পাড়ার মালিক সমিতির সভাপতি, সেজন্য আপনিও একজন সদস্য থাকার জন্য অনুরোধ করছি।’ বললাম ‘আমার কাজ কি?’ সে জানাল যে, তেমন কিছু নয়, শুধু একটি কমিটি গঠন করতে হবে। আমি আপত্তি জানালাম না। একসময় বিষয়টি ভুলেও গেলাম। জুন মাসের কোনো এক সময়ে দুটি ছেলে বাসায় এসে, বলল যে জনশুমারি ও গৃহগণনার কমিটির সদস্য হিসেবে স্বাক্ষর করতে হবে। যথারীতি কমিটির সদস্যদের যেখানে নাম লেখা আছে, অন্যরা স্বাক্ষর করেছে, আমিও তা-ই অনুসরণ করলাম। তারা আরেকটি কাগজ বের করে স্বাক্ষর দিতে বলল। দেখলাম- তাতে ৮০০.০০ টাকা ও রেভিনিউ স্ট্যাম্পের উপর স্বাক্ষর দিতে বলল। ১০% ভ্যাট, ১০.০০ স্ট্যাম্প খরচ স্বাক্ষরের পর একটি খাম দিল, তাতে ৭১০.০০ টাকা। কেন? ছেলে দুটি উত্তর দিতে পারল না। যোগাযোগ করা হলো, জানানো হলো-সম্মানী বাবত এ টাকা। টাকা পেলাম, মনে প্রশ্ন জেগে রইলো। কাজকর্ম নেই, কমিটির সদস্য হয়ে টাকা প্রাপ্তি। ভালো লাগল না।
২৮ জুলাই ২০২২ পত্রিকায় দেখলাম- জনশুমারি ও গৃহগণনার কাজ শেষ এবং প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। টেলিভিশনে মহাসমারোহে পরিকল্পনা মন্ত্রী মহোদয়ের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ইত্যাদি সব। জানতে পারলাম বাংলাদেশের লোকসংখ্যা ১৬ কোটি ৫১ লক্ষ ৫৮ হাজার ৬১৬জন। কমও নয়, বেশিও নয়। গণনা যদি কম হয়, তবে কিছু সংখ্যক দেশের বাহিরে চলে গেছে, বেশি হলে বাহির থেকে এসেছে ধরে নিতে হবে। স¤্রাট আকবরের সময় যেমনটি কাক গণনা করা হয়েছিল। মোট কথা- জনশুমারির এই হিসাবটা আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়নি, হচ্ছে না। তাতে আমার মাথাব্যথা নেই। ৭১০.০০ টাকা পেয়েছি, এটাই সান্ত¦না এবারের জনশুমারির দুটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রথমত, পুরুষের জনসংখ্যার চেয়ে নারীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। অন্যটি হলো ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সংখ্যা কমে যাওয়া। তা নিয়ে পরে বলছি। ২০১০ সালে আমার স্ত্রী যখন মারা যান, তখন বন্ধু ফখরুজ্জামান বলল ‘দোস্ত এখন কী করবে।’ বললাম, ‘কি বিষয় বলছ?’ বলল ‘ছেলে-মেয়ে কাছে থাকে না, তাই একা থাকবে কীভাবে? বরং বিয়ে কর।’ বললাম, ‘সম্ভব নয়। বিয়ের পর প্রথম রাতেই দু’জন প্রতিজ্ঞা করেছিলাম মরি-বাঁচি দ্বিতীয় বিয়ে করব না। অন্যদিকে আমার জন্য সৃষ্টিকর্তা একজন বরাদ্দ করেছেন, তিনি মরে গেছেন। দ্বিতীয়বার বিয়ে করাটা অন্যের জন্য কমতি দেখা দিবে, এসব দু’বন্ধুর মধ্যে রসালো আলাপ মাত্র। এই সূত্র ধরে জরুরি ভিন্ন প্রসঙ্গ।
১৯০৫ খ্রি: লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ করেছিলেন, তখন বঙ্গদেশ বলতে বিহার ও উড়িষ্যা অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু প্রবল প্রতিবাদে ১৯১১খ্রি: তা রদ হয়। কিন্তু বঙ্গদেশ থেকে বিহার ও উড়িষ্যাকে পৃথক রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আলাদা করে দেয়া হয়।
১৯৪৭খ্রি: যখন ভারতবর্ষ ভাগ হয়, তখন বঙ্গদেশের জনসংখ্যায় ৫৩% মুসলমান ও ৪৭% হিন্দুসহ অন্যান্য সম্প্রদায় ছিল। সেই অখÐ বঙ্গদেশের মুখ্যমন্ত্রী (প্রধানমন্ত্রী) ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি। তিনি চেয়েছিলেন অখন্ড বঙ্গদেশ পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত হোক। কিন্তু ১৯৪৬খ্রি: কলকাতার নিষ্ঠুরতম দাঙ্গা ও নোয়াখালীতে একচেটিয়া হিন্দু হত্যার পর বঙ্গদেশের হিন্দুরা আর একত্রে থাকতে রাজী হলেন না। তাই বঙ্গদেশ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়-পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ। ভারতভাগে পশ্চিবঙ্গ ভারতের অন্যতম প্রদেশ এবং পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত বিচ্ছিন্ন দূরতম (১২০০মাইল দূরে) এক প্রদেশ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এবং দেশভাগে যদিও পাকিস্তান ও ভারত নাম দু’টি কাগজপত্রে লিপিবদ্ধ থাকলেও মনোগত অবস্থানটি ছিল কেবল মুসলমানদের জন্য পাকিস্তান এবং হিন্দুদের জন্য ভারত তথা হিন্দুস্থান। দেশভাগের সাথে সাথে পূর্ববঙ্গ তথা পূর্ব পাকিস্তান থেকে দলে দলে সম্ভ্রান্ত হিন্দুরা সবকিছু ফেলে দিয়ে ভারতে তথা হিন্দুস্থানে চলে যায়। কিন্তু ভারত থেকে কোনো মুসলমান সেভাবে দেশ ত্যাগী হয়নি। পাকিস্তান সরকারের মৌখিক আশ্বাস মূলত প্রকরণগত বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ায় ১৯৭১খ্রি: পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে হিন্দুরা হিন্দুস্থানে চলে যেতে থাকে। বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হলো, তখন প্রায় ২৭% ছিল মুসলমান ভিন্ন হিন্দুসহ অন্যান্য জাতি গোষ্ঠির জনসাধারণ।
১৯৭৫খ্রি: ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর জিয়া সরকারের রাজত্বে বাংলাদেশ নাম পরিবর্তনহীন আদর্শিক পাকিস্তান হয়ে যায় দ্রæততম সময়ে। পবিত্র অসাম্প্রদায়িক সংবিধানের শিরোনামে ‘বিসমিল্লাহ’ শব্দটি সংযোজন করে সাম্প্রদায়িক সংবিধান প্রণয়ন লক্ষ্যে অনেক পরিবর্তন আনা হয়। এরশাদ আমলে সংবিধানে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংযোজনের ফলে পুরোপুরি বাংলাদেশ হয়ে যায় একটি সাম্প্রদায়িক ইসলামিক রাষ্ট্র। বাহ্যিক নাম পরিবর্তন করা হলো না- জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত, জাতীয় দিবসগুলো পালন ইত্যাদি ধারাবাহিক চললেও ভিতরটা ছিল পাকিস্তানের নীতি-আদর্শের মতো। সুতরাং এ পরিক্রমায় সরকারের নীরব ভূমিকা বা কোথাও কোথাও পৃষ্ঠপোষকতার ফলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতন অব্যাহত চলতে থাকে, ফলে জনশুমারির পরবর্তী চিত্র হলো-২০১১ খ্রি: জনশুমারিতে (তখন বলা হতো আদমশুমারি) দেশের মোট জনসংখ্যার ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ ছিল হিন্দুধর্মাবলম্বী।
১৯৭১খ্রি: মুক্তিযুদ্ধকালীন এককোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নেয়। তন্মধ্যে ৯০% ছিল হিন্দুধর্মাবলম্বী। দেশ স্বাধীনের পর ২০% হিন্দু ভারতে থেকে যায়। তারপর ফিরে এসে কেউ কেউ ভিটামাটি ও ব্যবসার হাল দেখে অল্পদিনেই ১০% হিন্দু ভারতে চলে যায়। তাই দেখা যায় ১৯৭৪ সালে জনশুমারিতে হিন্দুধর্মাবলম্বী মানুষ ছিল মোট জনগোষ্ঠির ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ১৯৮১খ্রি: দ্বিতীয় জনশুমারিতে মোট জনসংখ্যার ১২ দশমিক ১ শতাংশ। ১৯৯১ খ্রি: কমে দাঁড়ায় ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০০১খ্রি: কমে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ২ শতাংশ। আগেই উল্লেখ করেছি ২০১১খ্রি: কমে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ২০২২খ্রি: জনশুমারিতে কমে দাঁড়াল ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
প্রশ্ন- বাংলাদেশের হিন্দুর সংখ্যা কমে গেল কেন? ‘প্রথম আলো’র প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে- ‘প্রথমত, হিন্দুরা দেশ ছাড়ছে। দ্বিতীয়ত, হিন্দু জনগোষ্ঠির মধ্যে প্রজনন হার বা টোটাল ফাটিলিটি রেট তুলনামূলক কম, অর্থাৎ হিন্দু দম্পতিরা তুলনামূলকভাবে কম সন্তান জন্ম দেন।’
প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হলো- ‘হিন্দুরা দেশ ছাড়ছে’, কেন? এ ব্যাখ্যা কিন্তু প্রতিবেদনে নেই, সত্যিটা হলো দেশ থেকে হিন্দুদের তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে নানা কৌশলে। এখানে রাজনীতির চেয়ে ধর্মীয় চেতনাবোধই বিশেষভাবে সক্রিয়। বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর কোনো আমলেই ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ক্ষমতাসীন সরকারের কাছে কোনো আনুকূল্য পায়নি, সুবিচার পায়নি এবং সরকার নয়, পরোক্ষে সরকারের আশ্রয় প্রশ্রয় পেয়ে হিন্দুদেরকে দেশ ছাড়া করতে ধর্মীয় সংখ্যাগুরুরা এক পা দাঁড়িয়ে আছে। এ ইতিহাস দীর্ঘ ও মর্মান্তিক। দ্বিতীয়ত বলা হয়েছে- হিন্দুদের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে অথবা তারা সন্তান কম জন্ম দেয়। বিশ্বের সভ্য দেশসমূহের দিকে তাকালে যে দৃশ্য দেখা যায়, এক্ষেত্রে হিন্দুরা চিন্তা চেতনায় তাদের সামিল হয়েছে যৌক্তিক কারণে। এ নিয়ে বিশেষ তর্ক চলে না। তবে যে যুক্তি দেখানো হয়েছে তা আপত্তিকর, অপমানজনক ও কুরুচিপূর্ণ। ১৯৭১ খ্রি: বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল সাত কোটি। এখন সাড়ে ষোল কোটি। ভারতকে যদি হিন্দুরাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাহলে ১৯৪৭খ্রি: ৮০/৯০ কোটির জনসংখ্যা এখন ১৪০কোটি। প্রজনন ক্ষমতা না থাকলে জনসংখ্যা বড়ল কীভাবে? আমি যে তথ্যের উপর এ লেখাটি লেখেছি, তা ‘প্রথম আলো’র সংবাদ ও প্রতিবেদনকে সামনে রেখে।
পাকিস্তান আমলে হিন্দুরা দেশ ছেড়েছিল যৌক্তিক কারণে। তাহলো পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শুধুমাত্র মুসলমানদের আবাসভূমি হিসেবে। যদিও বলা হতো যে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও মর্যাদা নিয়ে থাকতে পারবে। কিন্তু বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আচরণে তা প্রতিফলিত হয়নি, সরকারও ঘোষিত নীতিতে আন্তরিক থাকেনি। ১৯৭১খ্রি: বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল চারটি মূলনীতিকে শিরে ধারণ করে-গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর একটি নীতিও কার্যকর থাকেনি, থাকছে না। নীতি আদর্শের কথা বলা হয়, আচরণে বিন্দুমাত্র প্রতিফলন নেই। সরকারের কোনো কোনো সংস্থা- মন্ত্রণালয় ইত্যাদিতে কতিপয় হিন্দুধর্মাবলম্বীদের দেখা যায়, তা অনেকটা বাজারে মাছের ভাগের মতো। উপরে ২/৪টি বড় বড় মাছ, নীচে ছোট ও পচা। এতে সান্ত¦না পাওয়ার মতো তো নয়।
১৯৪৭খ্রি: থেকে যে সকল হিন্দু জনসাধারণ দেশত্যাগী হয়েছে তার পেছনে কোনো না কোনো কারণ রয়েছে তা অস্বীকার করা যাবে না। অথচ তাদের জন্মভ‚মি বা মাতৃভ‚মি ছিল, বাড়ি-পুকুর-দিঘি-বাগান-জমি-বাজার- দেবালয় ছিল। নিজেদের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। তারা মহাসমারোহে উৎসব ও পূজা পার্বণ পালন করত। সেসব উৎসবে যাত্রা-কবিগান ও সংস্কৃতিচর্চা হতো। এই সবকিছু ফেলে দিয়ে কেবলমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ার কারণে দেশত্যাগী হয়ে নি:স্ব হয়ে গিয়েছিল। এই দায় থেকে ভারতভাগের ৭৫ বছর পরও শির দাঁড়া সোজা করে ভারতে দেশত্যাগীরা উদ্বাস্তু ছাপ কপালে ধারণ করে এক দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে এখনও। বিংশশতাব্দীর পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে পশ্চিমবঙ্গে যে মহা মঙ্গা দেখা দিয়েছিল, তা অনেকটাই দেশত্যাগীরা ভোগ করেছে, এখন এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটলেও মানবিক সহৃদয়তা উদারতায় স্বাভাবিক হয়ে উঠেনি। তাই দেশভাগ হয়ত পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের ভাগ্য উন্নয়নের ব্যাপক অনুক‚ল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বলতে হয়, এ ভাগ্য পরিবর্তনে অনৈতিকতা ও অমানবিকতা প্রবলভাবে মননে ধারিত হয়েছে, যা আজও অব্যাহত। যেহেতু জন্মভূমিকে প্রাণের চেয়েও শ্রদ্ধা-ভালোবাসয় আঁকড়ে ধরে আছি, সব সত্যি তো সেজন্য বলাও জীবনের প্রতি হুমকি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তাই বলছি এ বছরে (২০২২) জনশুমারি শুধু একটি রুটিনমাফিক কাজ। নির্ভরযোগ্য উপাত্ত তাতে নেই। আর হিন্দু জনসংখ্যা নিয়ে যে প্রতিবেদন এবং দেশত্যাগের কারণসমূহ বিস্তারিত থাকলে সত্যকে স্বীকার করা যেতো-এ সাহস দেখাতে পারেনি। সুতরাং সংখ্যালঘু অর্থাৎ হিন্দু ধর্মাবলম্বী শূন্য বাংলাদেশের ভবিষ্যতের চিত্র কী দাঁড়াবে, তা ভাবতেই শিহরিত হই। এজন্যই কি মোদি সরকার ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্র বানাতে চাচ্ছে? এতটুকু জানি বাগানে যেমন নানা ফুল না থাকলে তা সৌন্দর্যবৃদ্ধি হয় না, তেমনি একটি দেশে নানা সম্প্রদায়ের মানুষ না থাকলে সে দেশ ‘দেশ’ নামে বিকশিত হয় না। ক্ষেত আর বাগান এককথা নয়। এটা এ উপমহাদেশের জন্য অশনি সংকেত। ক্ষেতে একসময় মরক লাগে, বাগানে সুরভিত গন্ধ বিরাজ করে ।
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক সুরভিত বাগান সাদৃশ স্বাধীন দেশ বাঙালিদের উপহার দিয়েছিলেন। শত চেষ্টা করেও যেন আমরা সে অবস্থানে যেতে পারছিনা। এজন্যই ‘শূন্য’ সংখ্যা প্রতিবাদী সংকেত দিচ্ছে।
লেখক: সাহিত্যিক, গবেষক ও সাবেক অধ্যাপক
মোবাইল: ০১৭১১-৩৪১৭৩৫