ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে নিম্নমানের কাঠ ব্যবহার কুবির শেখ হাসিনা হলে
Published : Tuesday, 2 August, 2022 at 12:00 AM
সাঈদ হাসান, কুবি  ||
কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়ের (কুবি) নবনির্মিত শেখ হাসিনা হলের কাজ দেড় বছরে করার কথা থাকলেও ঠিকাদারের কাছ থেকে সম্পূর্ণ কাজ ৫ বছরেও বুঝে নিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দরজার পাল্লা ও চৌকাঠে নিম্নমানের কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে বলে পরিবর্তন করার প্রসঙ্গে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন থেকে লিখিতভাবে চিঠি দেওয়া হয়। এরপরও সেটাকে তোয়াক্কা না করে নামমাত্র পরিবর্তন করে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের তদারকির দায়িত্বে থাকা জাহাঙ্গীর আলমের দাবি সকল কাজ শেষ করে হলটি হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে সমস্যা সমাধান না করেই গত রোববার হলটির উদ্বোধন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে যায়, তিন তলা বিশিষ্ট হলটির একাধিক রুমের দরজার কাঠ বাকাঁ হয়ে গেছে, দরজার হাতল নষ্ট, কয়েকটি হাতল ভেঙ্গে পড়েছে। এছাড়া দরজা লক করার ছিদ্র নাই, অধিকাংশ হুক নষ্ট ও বাঁকা, ফিটিং করা যায়না। চৌকাঠগুলো ইতিমধ্যে বাকাঁ হয়ে যাচ্ছে। কয়েকটি দরজার পাল্লায় ফাঁকা।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, হলের নির্মাণকাজ শেষ না হতেই এমন সমস্যা থাকলে এখানে শিক্ষার্থীরা কিভাবে থাকবে। বেসিক জিনিসগুলোই এখানে নষ্ট। নতুন একটি হলের দরজা, জানালায় সমস্যা থাকা বিষয়টি দুঃখজনক। এছাড়া ছাত্রীরা উঠে যাওয়ার পরে এসব কাজ কিভাবে করবে?
পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, নিম্নমানের চৌকাঠ ও পাল্লা ব্যবহার করা হচ্ছে বিষয়টি প্রকৌশল দপ্তরকে জানানো হলে তারা নির্মাণকাজ পাওয়া আবদুর রাজ্জাক জেভিসিএ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করে। তবে তা আমলে নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে প্রকৌশল দপ্তরের মাধ্যমে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে পরিবর্তন প্রসঙ্গে চিঠি দেয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর। পরবর্তীতে নামমাত্র পরিবর্তন করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে প্রকৌশলী দপ্তর বলছে, তারা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে সর্তক করেছে নিম্নমানের কাঠ ব্যবহার না করতে। মৌখিকভাবে বললে ঠিকাদার আমলে না নিলে তারা লিখিত চিঠি দেয় এবং বিল আটকে রাখার কথা জানান। পরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি কিছু দরজার পাল্লা পরিবর্তন করে। কিন্তু তাও সন্তোষজনক নয় দাবি করে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী আবদুল লতিফ বলেন, তারা যে কাঠ দিয়ে কিছু দরজা পরিবর্তন করেছে তা সন্তোষজনক নয়। আমি বিষয়টি এসি ও পিডি স্যারের মাধ্যমে জানিয়েছি। এছাড়া টেকওভার কমিটি থেকে যখন জানতে চাওয়া হয় তখন ফর্মে আমি বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি।
ত্রুটিপূর্ণ চৌকাঠ ও পাল্লা ব্যবহারের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কাজ বুঝে নেওয়া ও ছাত্রীদের হলে উঠার নির্দেশনা দেওয়ায় উঠেছে নানা প্রশ্ন। তবে হল প্রশাসন বলছে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে হলটি উদ্বোধন করতে হয়েছে।
এবিষয়ে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের উপ-পরিচালক ড. শাহাবুদ্দিন বলেন, ইঞ্জিনিয়ার লতিফের কাছে শুনেছি কয়েকটি পরিবর্তন করা হয়েছে। বাকিগুলো তারা বলতে পারবে। কারণ এটির বিল প্রকৌশল দপ্তর তৈরি করবে।
চৌকাঠ ও পাল্লা পরিবর্তন না করে হল হস্তান্তরের বিষয়ে জানতে চাইলে হস্তান্তর কমিটির আহ্বায়ক কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, নিম্নমানের চৌকাঠ ও পাল্লা নিয়ে আমি কিছু জানি না।
তবে শর্তসাপেক্ষে হল হস্তান্তর হয়েছে জানিয়ে কমিটির সদস্য সচিব বিল্লাল হোসাইন বলেন, আমরা শর্তযুক্ত হস্তান্তর নিয়েছি। নিম্নমানের চৌকাঠ ও পাল্লা ব্যবহারের বিষয়ে যেসব অভিযোগ রয়েছে সেগুলো সমাধান না হলে কোন বিল করবেনা ইঞ্জিনিয়ার দপ্তর। কাজ শেষ না করে ভবন হস্তান্তর নেয়া যায় কিনা জানতে চাইলে বলেন, এটি শর্তযুক্ত নেয়া যায়।
শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট মো. সাহেদুর রহমান বলেন, হলটি টেকওভার কমিটি বুঝে নেওয়ার পর আমি দায়িত্ব পেয়েছি। কিভাবে তারা বুঝে নিয়েছে আমি জানিনা। নিম্নমানের চৌকাঠ ও পাল্লা ব্যবহারের বিষয়টি যেহেতু জেনেছি আমি অবশ্যই টেকওভার কমিটির সাথে কথা বলে কি করা যায় সেটি দেখবো। হল উদ্বোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে হল উদ্বোধন ও খুলে দেওয়া হয়েছে। ত্রুটিযুক্ত কাজগুলো শেষ করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।
সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.এফ.এম. আবদুল মঈন জানান, যে সমস্যাগুলো রয়েছে সেগুলো কারেকশন করতে আমরা চিঠি দিয়েছি। এখন কি অবস্থায় আছে সেটি প্রকৌশল ও পরিকল্পনা দপ্তর বলতে পারবে। অসম্পূর্ণ কাজগুলো করতে নারী শিক্ষার্থীরা অস্বস্তিতে পড়তে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে নিরাপত্তার কোন ঘাটতি থাকবে না তবে যেহেতু মেয়েরা অস্বস্তিতে পড়তে পারে তাই আমি বলছি যখন মেয়েরা থাকবেনা তখন কাজ করতে।




শ্রীমতী যোগমায়া সূত্রধরের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী
সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস বাগমারা বাজার, লালমাই শাখার স্বত্বাধিকারী অনিল সুত্রধরের মাতা স্বর্গীয় শ্রীমতী যোগমায়া সূত্রধরের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী নাওড়া সুত্রধর বাড়িতে গত ২৫ জুলাই সোমবার নিজালয়ে পালিত হয়।  
তিনি লালমাই উপজেলার নাওড়া গ্রামের সুত্রধর বাড়ির স্বর্গীয় উপেন্দ্র সুত্রধরের সহধর্মিণী ।