ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
সামাজিক নেতাদের যুক্ত করুন ধর্মীয় সহিংসতা ঠেকাতে কমিটি
Published : Tuesday, 2 August, 2022 at 12:00 AM
সামাজিক নেতাদের যুক্ত করুন ধর্মীয় সহিংসতা ঠেকাতে কমিটিধর্মীয় সহিংসতা ঠেকাতে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নে ‘সামাজিক সম্প্রীতি কমিটি’ গঠন করেছে সরকার। জেলা পর্যায়ের কমিটিতে সভাপতি রাখা হয়েছে জেলা প্রশাসককে। ২৩ সদস্যের কমিটিতে সংশ্লিষ্ট জেলার সব সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে উপদেষ্টা রাখা হয়েছে। আর পুলিশ সুপারকে রাখা হয়েছে সদস্য হিসেবে।
উপজেলা পর্যায়ের কমিটি ২৪ সদস্যের। এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ইউএনওকে। ওই উপজেলার সংসদ সদস্যকে রাখা হয়েছে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে করা হয়েছে উপদেষ্টা। আর ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি ১৪ সদস্যের। এই কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা এবং সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সরকার একটি যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে মনে করি।
আমরা জানি, অসাম্প্রদায়িকতার এক অবিনাশী গল্পই তো বাঙালির জাতীয়তার চিরায়ত ইতিহাস। কিন্তু ১৯৭৫ সালের পর থেকেই আমরা দেখে আসছি, একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী আমাদের সম্প্রীতির সাজানো বাগান, আমাদের মিলিত চেষ্টা নষ্ট করতে চায়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে বিনি সুতার বন্ধনে আমরা আবদ্ধ, সেই বন্ধন ভেঙে দিতে চায় একটি অপশক্তি? বদলে দিতে চায় ইতিহাসের গতিপথ।
বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চেতনা একটি ঐতিহাসিক বাস্তবতা। আমাদের ইতিহাস বলছে, এই ভূখণ্ডে হাজার বছর ধরে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, চাকমা, সাঁওতালসহ সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী একসঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করে এসেছে। সব স্রোত একধারায় এসে মিলিত হয়ে বাঙালি সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করেছে। বাঙালি সংস্কৃতির মূল কথাই তো অসাম্প্রদায়িকতা ও সম্প্রীতি। স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব, উন্নতি, মর্যাদা ও শক্তির অন্যতম অবলম্বন বাঙালি সংস্কৃতিপ্রসূত অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রনীতি। বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম মৌলিক আদর্শও তো বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা। অথচ একটি চিহ্নিত অপশক্তি সব সময় এ দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা করেছে।
বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। বাঙালি সংস্কৃতি ও চেতনা এ দেশের মূল চালিকাশক্তি। মহান মুক্তিযুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পেছনের চালিকাশক্তি ছিল এই অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য। বাংলাদেশে এক শ্রেণির ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী ধর্মকে তাদের রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করে আসছে।
আমরা জানি, দেশের মানুষ অনেক বেশি সচেতন। সব ধরনের ধর্মীয় ঘৃণা ও সন্ত্রাসী আক্রমণকে মোকাবেলা করার জন্য তারা ঐক্যবদ্ধ। ধর্মীয় সহিংসতা ঠেকাতে সারা দেশে কমিটি গঠন করে সরকার সেই কাজটিই শুরু করেছে। আমারা আশা করি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ আরো বেশি যত্নশীল হবে। দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সম্প্রীতির ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আবহমান বাঙালির জীবনবোধকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেবে।