ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
২০৩০ সাল পর্যন্ত গাছ না কাটার আহ্বান
Published : Monday, 25 July, 2022 at 12:00 AM
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন ২০৩০ সাল পর্যন্ত বনের কোনও গাছ না কাটার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।  তিনি বলেন,  ‘অবৈধভাবে বনের গাছ কাটা বন্ধ না হলে আন্তর্জাতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না।’
রবিবার (২৪ জুলাই) ‘জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২২’ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে বন অধিদফতর আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি এসময় বন অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বন রক্ষকদের এই নির্দেশ নিশ্চিত করতে কাজ করার নির্দেশনা দেন।  মন্ত্রী বলেন, ‘আগে মানুষ কম ছিল, বন বেশি ছিল। তবে এখন হিসাব বদলেছে। বনে বসবাস করা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরাও বনের ভেতর বড় জনপদ গড়ে তুলছেন।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের বনের পরিমাণ ১৪ দশমিক ২ ভাগ। আমাদের প্রয়োজন ২৫ ভাগ বনায়ন। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বনায়নের যে লক্ষ্য, তা বাস্তবায়নে ২০৩০ সাল পর্যন্ত পাহাড় ও বনের গাছ কাটা যাবে না।’ তিনি এসময় টিলা কাটা ও নদী ভরাট বন্ধ করে অধিক হারে বৃক্ষরোপণের জন্য সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
বন অধিদফতরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, সচিব ডক্টর ফারহিনা আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন। উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডক্টর আবদুল হামিদ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপপ্রধান বন সংরক্ষক মো. মঈনুদ্দিন খান এবং নির্বাচিত স্টল মালিকদের পক্ষে  বক্তব্য রাখেন জাতীয় বৃক্ষমেলায় প্রথম স্থান অধিকারী বরিশাল নার্সারির মালিক মো. ইব্রাহিম।
শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘দেশে সবুজ আচ্ছাদন তৈরিপূর্বক টেকসই বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিবছর আয়োজিত বৃক্ষমেলা ও বৃক্ষরোপণ অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’
তিনি বলেন, ‘এ বছর জাতীয় বৃক্ষমেলায় ১৬ লাখ ৩০ হাজারের বেশি চারা বিক্রি হয়েছে। দেশের সব বিভাগ ও জেলায় এবং বেশকিছু উপজেলায় বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়েছে। দেশব্যাপী আয়োজিত এ বৃক্ষমেলায় কোটি কোটি বৃক্ষ বিক্রি করা হয়েছে।  প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বন ও প্রতিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে বৃক্ষরোপণ অভিযানে রূপ দেওয়া হয়েছে। সবার অংশগ্রহণে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে এসডিজি'র লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।’
বনমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবে বনের জবরদখল উচ্ছেদ, বৃক্ষহীন ও অবক্ষয়িত বনভূমি, প্রান্তিকভূমি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক বনায়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।’ তিনি জানান, ২০০৯-২০১০ সাল থেকে ২০২০-২১ আর্থিক সাল পর্যন্ত ম্যানগ্রোভসহ ১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৭৮ হেক্টর ব্লক, ২৬ হাজার ৪৫৩ সিডলিং কি.মি. স্ট্রিপ বাগান সৃজন এবং বিক্রয় বিতরণের ১০ কোটি ৫৯ লাখ চারা বিতরণ ও রোপণ করা হয়েছে। একই সময়ে সামাজিক বনায়নে সম্পৃক্ত ১ লাখ ৪১ হাজার ২৩৮ জন উপকারভোগীর মাঝে লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়েছে। বিগত ৩ বছরে বন অধিদফতর কর্তৃক ৪ হাজার ৭২৯ হেক্টর বনভূমি জবরদখল মুক্ত করে বনায়ন করা হয়েছে। মন্ত্রী বন অধিদফতরের সংশ্লিষ্টদের বন রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ‘বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার ২০১৯ ও ২০২০’ এবং সামাজিক বনায়নের ৬ জন উপকারভোগীদের মাঝে লভ্যাংশের ৩৭ লাখ টাকার চেক, নির্বাচিত স্টল মালিকদের এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২২ উপলক্ষে আয়োজিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার  ও সনদপত্র বিতরণ করেন।
প্রসঙ্গত, এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলায় মোট স্টল ছিল ১১০টি। এ বছর জাতীয় বৃক্ষমেলায় মোট ১২ কোটি ৪২ লাখ ৩০ হাজার ২৪২ টাকার চারা বিক্রয় হয়।