ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
শান্তিকামী মানুষ চায় বলয়মুক্ত বিশ্ব
Published : Friday, 17 June, 2022 at 12:00 AM
শান্তিকামী মানুষ চায় বলয়মুক্ত বিশ্বগাজীউল হাসান খান ||
নতুন পর্যায়ে স্নায়ুযুদ্ধের তৎপরতায় যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী তার অধীনে একটি ‘একক ক্ষমতার বলয়’ বা ‘ইউনিপোলার পাওয়ার ব্লক’ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এরই মধ্যে গঠিত হয়েছে কোয়াড ও অকাস। অকাসের কথা বাদ দিলেও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের কোয়াড গঠনের উদ্যোগ এখনো এর আগে সৃষ্ট চার জাতির মধ্যেই সীমিত রয়েছে। বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের অন্যরা বিভিন্ন কৌশলগত কারণে এতে এখনো অংশীদার হওয়ার আগ্রহ নিয়ে আগে বাড়েনি।
এতে থেমে নেই বিশ্বের অন্যতম প্রধান পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র। তারা এরই মধ্যে এ অঞ্চলে একটি ইন্দো-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক উদ্যোগ গঠনে অত্যন্ত তৎপর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ মোট ১৩টি দেশ এতে যোগদানের আগ্রহ দেখিয়েছে। বলা হয়েছে, এ উদ্যোগ উল্লিখিত দেশগুলোর মধ্যে অবাধ ও মুক্ত বাণিজ্যকে ত্বরান্বিত করে এ অঞ্চলের উন্নয়নের ধারাকে টেকসই  ও অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবে।
আমাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের (রপ্তানি) পরিমাণ চীনের তুলনায় অনেকটা উল্লেখযোগ্য হলেও বাংলাদেশ এখনো তাতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেয়নি। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রেও একটি কৌশলগত অবস্থান নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে। এতে সহজেই একটি বিষয় অনুমিত হয় যে বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে কতটা চাপের মুখে রয়েছে। একদিকে ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তাবলয় এবং অন্যদিকে অর্থনৈতিক উদ্যোগের সীমাহীন তৎপরতায় ক্রমেই বদলে যাচ্ছে এ অঞ্চলের আর্থ-রাজনৈতিক দৃশ্যপট। এ অবস্থায় বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শীর্ষ স্থানে অবস্থানকারী চীনও তার ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভসহ (বিআরআই) বিশাল পরিকল্পনা নিয়ে নতুনভাবে প্রতিযোগিতায় নামছে। পাশাপাশি চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং বিশ্বব্যাপী সামরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্যোগ (ষেড়নধষ ঝবপঁত্রঃু ওহরঃরধঃরাব) নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা এর আগে তেমনভাবে কখনো দেখা যায়নি। চীনের নেতৃত্বে রাশিয়া, ইরান, ভেনিজুয়েলা, উত্তর কোরিয়া, পাকিস্তানসহ আরো অনেকে এখন সে উদ্যোগের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। মূলত চীনের সার্বিক অগ্রগতি রোধকল্পে বিশ্বের অন্যতম সাম্রাজ্যবাদী অথচ ক্ষয়িষ্ণু পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি যে রণনীতি বা কৌশল নির্ধারণ করেছে তা শেষ পর্যন্ত ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশের সামরিক সুরক্ষা কতটুকু নিশ্চিত করতে পারবে তা বলা না গেলেও তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে  যে ভিন্ন ধারায় প্রভাবিত করবে তাতে সন্দেহ নেই। সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিতে বৃহত্তর এশিয়ার ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র যে নিরাপত্তাবলয় সৃষ্টি করার তৎপরতা শুরু করেছে তা প্রকৃতপক্ষে এশিয়ায় বিরাজমান বর্তমান স্থিতিস্থাপকতাকে বিপর্যস্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী তাঁবেদারি কিংবা নজরদারিকেই আরো ক্রিয়াশীল করবে বলে বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যে পরিমাণ সামরিক ব্যয় নির্বাহ করতে হবে তার বেশির ভাগই জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও অন্যদের বহন করতে হবে।
লক্ষণীয় যে অকাস চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্সের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অস্ট্রেলিয়ার সাবমেরিন সরবরাহের চুক্তি বাতিল করিয়ে তা হস্তান্তর করেছে তার নির্ভরযোগ্য অংশীদার যুক্তরাজ্যের কাছে। তাতে সরাসরি অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে লাভবান হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। জাপান, ভারত কিংবা দক্ষিণ কোরিয়া নয়। তদুপরি বৃহত্তর অর্থে সামরিক দিক থেকে এ অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তৃত হবে উল্লিখিত এ দুই পশ্চিমা পরাশক্তির। অন্যদিকে ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত ‘এক চীন নীতির’ কথা ভুলে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এখন তাইওয়ানকে (ফরমোজা দ্বীপ) সমর্থন দেওয়া শুরু করেছে স্বাধীনতার ঘোষণার ব্যাপারে। চীনের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ তাইওয়ানের কাছে জঙ্গি বিমানসহ বিশাল অঙ্কের সমরাস্ত্র বিক্রির বিনিময়ে তাদের জন্য টহলদারি বাড়াচ্ছে চীন সাগরে। দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সাগরের আশপাশের রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে আয়োজন করছে চীনবিরোধী বিশাল সামরিক মহড়ার। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চীনের সমুদ্রপথকে করে তুলছে সমস্যাসংকুল।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর জোরালোভাবে চাপ প্রয়োগ করে চলেছে তার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী ও পরীক্ষিত মিত্র দেশ চীনকে ছেড়ে মার্কিন নিরাপত্তাবলয় কোয়াডে যোগ দিতে। চীনের কাছ থেকে সমরাস্ত্র কেনা এবং সহযোগিতা নেওয়া বন্ধ করতে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এত দিন কোথায় ছিল যুক্তরাষ্ট্র? বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের কয় পয়সা বিনিয়োগ রয়েছে? বাংলাদেশের কোন কোন উন্নয়ন প্রকল্পে অংশীদারি রয়েছে তাদের? সে ধরনের অর্থনৈতিক বিনিয়োগ কিংবা মার্কিন সহযোগিতার হিসাব প্রায় শূন্যের কোঠায়ই রয়ে গেছে এখনো। তবে তাদের সঙ্গে বাণিজ্য বেড়েছে উল্লেখ করার মতো। সে তুলনায় চীনের সঙ্গে রপ্তানি বাণিজ্য অত্যন্ত নগণ্য। পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বড় বাজার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত যেসব বড় সেতু কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে তার বেশির ভাগের সঙ্গেই জড়িত রয়েছে চীন। পদ্মা সেতু আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হলেও সেখানে রেল সড়ক নির্মাণের জন্য সহজ শর্তে ঋণ দিয়েছে চীন। জাপানের ঋণে বাংলাদেশের বেশির ভাগ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও আমাদের সার্বিক বিনির্মাণ ও উন্নয়নে চীনের অবদান অনস্বীকার্য।
একাত্তরে স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করতে কিছুটা বিলম্ব হলেও তার পরবর্তী সময়ে চীন সর্বদাই আমাদের পাশে ছিল। উন্নয়ন, উৎপাদন ও বিনিয়োগ কিংবা সামরিক ও অসামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে চীনের অগ্রণী ভূমিকা সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে আমাদের প্রতিনিয়ত শক্তি ও সাহস জুগিয়েছে। সে ক্ষেত্রে কোথায় ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যরা? ওপরে উল্লিখিত এমন একটি অবস্থায় পূর্ব কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নতুন করে জল ঘোলা না করার আহ্বান জানিয়েছে চীন। চীন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বিচ্ছিন্নভাবে অর্থাৎ তেপান্তরের ওপার থেকে ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে যে ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তাবলয় তৈরি করার প্রয়াস পাচ্ছে তা ফলপ্রসূ হওয়ার নয়। কারণ তথাকথিত কোয়াডের সদস্যরা একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন। এ ছাড়া তাদের স্বার্থও অভিন্ন নয়। এ ক্ষেত্রে অহেতুক চীনের জুজুর ভয় দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, পাকিস্তান ও তাইওয়ানের কাছে সামরিক অস্ত্র বিক্রি করা এবং এ অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে বিস্তৃত করাই হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সাম্রাজ্যবাদী লক্ষ্য। সে কারণেই চীন বাংলাদেশকে কোনো চাপের মুখে সেই তথাকথিত ব্লকে যোগ না দিতে পরামর্শ দিয়েছে। কারণ এতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল এবং ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির দেশগুলোর অগ্রগতি ব্যাহত হবে বলে তাদের ধারণা। তাদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে এমন কোনো উত্তেজনা কিংবা সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি যে যুক্তরাষ্ট্রকে তার জন্য একটি নিরাপত্তাবলয় তৈরি করতে হবে আটলান্টিকের ওপার থেকে এসে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতির ক্ষেত্রে ভারত একটি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দেশ। সে কারণে কোয়াডের সদস্য হয়েও তারা যুক্তরাষ্ট্রের চাপে পড়ে সেই তথাকথিত বলয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েনি। তারা ভারতের নিরাপত্তার স্বার্থে একদিকে যেমন রাশিয়ার কাছ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘এস-৪০০’ কিনেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি ও বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি আমদানি করছে। এর পাশাপাশি চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যও জোরদার করছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির ওপর কেউ ষোলোআনা ভরসা করতে পারে না। দুই সাংঘর্ষিক বিশ্ব তৈরির বর্তমান মার্কিন নয়া স্নায়ুযুদ্ধের অপতৎপরতাকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় রয়েছে পাকিস্তানেরও। কিন্তু তাদের অর্থনৈতিক সংকটকে উপলক্ষ করে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে চীনের সার্বিক সহযোগিতা থেকে সামরিক ও অসামরিক দুই ক্ষেত্রেই বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টায় রত রয়েছে। শ্রীলঙ্কার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তারা নিজেরাই দায়ী। অবাস্তব ও অনুৎপাদনশীল বিলাসবহুল খাতে অর্থ বিনিয়োগ করে শ্রীলঙ্কা অত্যন্ত অচতুরের মতো কাজ করেছে। তার জন্য অনেকে চীনের ঋণের ফাঁদ খুঁজে বেড়াচ্ছেন, যা কোনো মতেই প্রাসঙ্গিক নয়।
বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো অপরিণামদর্শী কাজ করেনি। সেই অবস্থানে অটল ও অবিচল থাকলে আশা করা যায় বাংলাদেশ বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাপনের উচ্চ ব্যয় এবং বিশ্বমন্দার কুফল কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। সুতরাং এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে তার উন্নয়ন সহযোগী ও পরীক্ষিত বন্ধুদের হারানো চলবে না। বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি রয়েছে। আর তা হলো : ‘সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারো প্রতি বৈরিতা নয়। ’ সুতরাং বিশ্বকে দ্বিধা ও বহুধাবিভক্ত করার ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশ ইন্ধন জোগাতে পারে না। তাতে সমূহ ক্ষতির সম্মুখীন হবে বাংলাদেশ, অন্যরা নয়। এই মুহূর্তে স্বার্থান্বেষী মহলের সব প্রলোভন কিংবা প্ররোচনাকে বিনয়ের সঙ্গে দীর্ঘসূত্রতার দিকে ঠেলে দিতে হবে। সময় ও পরিস্থিতির কথা মাথায় রাখতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে। তাতে বর্তমান ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক দল কংগ্রেসের উচ্চ পরিষদ সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। নিম্নকক্ষ অর্থাৎ প্রতিনিধি পরিষদেও পরিবর্তন ঘটতে পারে। তাতে কংগ্রেসে আইন প্রণয়ন করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারেন ডেমোক্র্যাটদলীয় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ‘ঠুঁটো জগন্নাথ প্রেসিডেন্টে’ রূপান্তরিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তাঁর। সুতরাং চীনের অর্থনৈতিক ও সামরিক অগ্রগতি রোধ করার কতটুকু ক্ষমতা থাকবে তাঁর হাতে? সেটিই এখন দেখার বিষয়। তাঁর শাসনকালের অর্ধেক সময়ে তিনি সুযোগ পেয়েও ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরসহ কোনো সমস্যারই সমাধান খুঁজে বের করতে পারেননি। তিনি ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি কিংবা যুদ্ধাবসানের কোনো উদ্যোগই নেননি। বরং তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদকে তিনি চীনের বিরুদ্ধে উসকে দিয়েছেন অবাধে সমরাস্ত্র সরবরাহ করে। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। এ ক্ষেত্রে সাম্রাজ্যবাদী কিংবা পুঁজিবাদীদের কাছে যুদ্ধই হচ্ছে তাদের কায়েমি স্বার্থ হাসিলের মোক্ষম মাধ্যম। কিন্তু সে আরাধ্য যুদ্ধে যুক্তরাজ্য ছাড়া গোটা ইউরোপের কতটুকু সমর্থন পাবেন জো বাইডেন? সে ক্ষেত্রে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বিশ্ব যখন এক অচলায়তনের মধ্যে নিপতিত তখন আন্তর্জাতিকভাবে শান্তিবাদী মানুষ আবার এক ‘জোটনিরপেক্ষ বিশ্ব’ গড়ার তাগিদও অনুভব করছে। এ ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে প্রয়োজন একটি বলিষ্ঠ নেতৃত্বের এবং সে নেতৃত্ব অতীতের মতো উন্নয়নশীল বিশ্ব থেকেই আসতে হবে। বর্তমান বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতির পরিপ্রেক্ষিতে এটি একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। তার জন্য সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদবিরোধী এবং ধর্মনিরপেক্ষ ও বর্ণবাদবিরোধী জনগোষ্ঠীকেই প্রথম প্রস্তুত হতে হবে। অধিকারসচেতন শান্তিকামী মানুষ চায় একটি অবিভক্ত ও ‘বলয়মুক্ত বিশ্ব’। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তথাকথিত নিরাপত্তাবলয় তৈরির নামে সাম্রাজ্যবাদী, পুঁজিবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তির অপশাসন ও শোষণকে আর সুযোগ দেওয়া সমীচীন হবে না। মানুষ জোটনিরপেক্ষ এক আগ্রাসনমুক্ত বিশ্ব চায়, যেখানে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব; যেখানে সংঘাত, সংঘর্ষ ও যুদ্ধ নয়, উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক মুক্তির সুবাতাস বইবে অবাধে।
লেখক : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক