
পারস্পরিক
সম্মানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের সহনশীল সমাজের পরিচয় যেন পাল্টে
যাচ্ছে। সমাজ থেকে মানবিক মূল্যবোধ উধাও। অবক্ষয় চরমে। নৈতিকতা
নির্বাসিতপ্রায়।
আগের মতো নেই সামাজিক অনুশাসনও। প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন
বাড়ল সামাজিক অবক্ষয়? কেন এই সমাজ এখন পর্যন্ত নারীবান্ধব হতে পারল না? অথচ
দেশে শিক্ষার হার বেড়েছে। সব ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণও আশাব্যঞ্জক।
সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদে নারীদের জয়জয়কার। পুরুষদের
সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে নারী। শিক্ষায় ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ভালো
করছে। সারা দুনিয়ায় বাংলাদেশের নারী জাগরণ সাড়া ফেলেছে। আন্তর্জাতিক
পুরস্কারও এসেছে। এর পরও কোথায় যেন একটু ফাঁক রয়ে গেছে। নারীবান্ধব সমাজ
নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তৎপরতাও কি আশাব্যঞ্জক? কেন চলার
পথে, গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়?
গত শুক্রবার
একটি বেসরকারি সংস্থা ‘ঢাকা শহরে গণপরিবহনে হয়রানি; কিশোরী ও তরুণীদের
মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব’ শীর্ষক এক জরিপের ফল প্রকাশ করেছে। জরিপের
উপাত্ত অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গত ছয় মাসে ৬৩.৪ শতাংশ কিশোরী ও
তরুণী গণপরিবহনে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬.৫ শতাংশ
বলেছে, তারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। ১৫.৩ শতাংশ বুলিং, ১৫.২ শতাংশ
সামাজিক বৈষম্য, ১৪.৯ শতাংশ লিঙ্গবৈষম্য এবং ৮.২ শতাংশ বডি শেমিংয়ের মতো
হয়রানির শিকার বলে জরিপে উঠে এসেছে। যৌন নিপীড়নের শিকার নারীদের ৭৫ শতাংশ
জানিয়েছে, তাদের অন্য যাত্রীদের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। ২০.৪
শতাংশ জানিয়েছে, তাদের হেল্পাররা এ ধরনের হয়রানি করেছে। ৩ শতাংশ হকারের
মাধ্যমে এবং ১.৬ শতাংশ চালকের মাধ্যমে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে বলে জরিপে
উঠে এসেছে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, গণপরিবহনে হালকা ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়
কিশোরী ও তরুণীরা সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হয়েছে, যা ৩২.৮ শতাংশ।
অতিরিক্ত ভিড় যৌন হয়রানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ২৭.২ শতাংশের ক্ষেত্রে। বসে
থাকা অবস্থায় যৌন নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েছে ২২.৯ শতাংশ। গণপরিবহনে ওঠা বা
নামার সময় ১১.৩ শতাংশ নিপীড়নের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে।
বেসরকারি
সংস্থাটির সাম্প্রতিক এই জরিপ যে তথ্য দিচ্ছে, তা খুবই হতাশাব্যঞ্জক।
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯৭.৬ শতাংশ কিশোরী ও তরুণী মনে করে, কর্মক্ষেত্রে নারীর
সংখ্যা বাড়ায় রাজধানী ঢাকা শহরের প্রতিটি সড়কে নারীদের জন্য সংরক্ষিত বাস
বাড়ানো উচিত। ৯৪ শতাংশ মনে করে, নারীদের সংরক্ষিত আসন বাড়ানো প্রয়োজন।
নারীদের জন্য নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থা দরকার। পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তাও
চাই। কিন্তু এই দায়িত্বটি কে পালন করবে?