
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে মেহিদী হাসান লিখন (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রকে মারপিটের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের খুঁজছে পুলিশ।
শনিবার (৪ জুন) সকালে বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতীবান্ধা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২ জুন) উপজেলার নওদাবাস ইউনিয়নের কেতকীবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে একটি মাদরাসার মাঠে মারপিটের ঘটনাটি ঘটে।
মেহেদী ওই উপজেলার নওদাবাস ইউনিয়নের কেতকীবাড়ী এলাকার রাকিব হাসানের ছেলে। সে কেতকীবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
জানা গেছে, কেতকীবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর কিছুদিন আগে হামলা চালায় ওই এলাকার বহিরাগত কতিপয় বখাটে যুবক। এ ঘটনাটি আপোষ করতে ২ জুন দুপুরে ওই বিদ্যালয় মাঠে বৈঠকে বসেন হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াক হোসেন বাচ্চু। বৈঠকে মেহেদীসহ তার তিন বন্ধু অভিযুক্তদের নামে বৈঠকে সাক্ষ্য দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই এলাকার হোসাইনুর রহমান হিরুর ছেলে সিফাত (১৮) ও দুলু মিয়ার ছেলে জয় (২০)।
বৈঠক শেষে সিফাত ও জয় কৌশলে লিখনকে পাশের মাদরাসা মাঠে ডেকে নিয়ে লাঠি দিয়ে ফিল্মি স্টাইলে মারপিট করেন। সে সময় বাঁচাও বাঁচাও বলে চিকিৎসার ও অনুনয়-বিনয় করেও মারপিট থেকে রক্ষা হয়নি লিখনের। মারপিটের সেই দৃশ্য মাহবুর রহমান নামে একজন ফেসবুকে লাইভ দেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা লাইভ ভিডিও দেখে মেহেদীকে বখাটেদের কবল থেকে রক্ষা করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আর লাইভ ভিডিওটি মুহূর্তে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়। এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযুক্তদের গ্রেফতারে দাবি ওঠে।
সেই ভিডিও সংগ্রহ করে অভিযুক্তদের খুঁজছে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
এ ব্যাপারে হাতীবান্ধা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম বাংলানিউজকে বলেন, ভিডিও সংগ্রহ করে তদন্ত করছে পুলিশ। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।